hadith book logo

কিতাবুন নিসা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬

দ্বীনদার স্বামী নির্বাচন করো

নারীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্যের একটি হলো তার স্বামী বাছাইয়ের ধাপটি। যে কেউ তাকে বিয়ের প্রস্তাব পেশ করলেই সে তা গ্রহণ করবে না। বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ গ্রহণযোগ্য স্বামী নির্বাচনের জন্য যে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তার অনুসরণ করবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যখন তোমাদের নিকট এমন কোন ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার চরিত্র ও দ্বীনদারীতে তোমরা সমত্মুষ্ট, তবে তোমরা তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দাও। যদি তোমরা তা না কর তবে পৃথিবীর মধ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলার কারণ হবে। [তিরমিযী, হা/১০৮৪; ইবনে মাজাহ, হা/১৯৬৭।]

সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে খারাপ ছেলেকে সঙ্গী হিসেবে নির্বাচন না করা একজন মুসলিম মেয়ের কর্তব্য। খারাপ ছেলে খারাপ মেয়ের সাথে এবং ভালো ছেলে ভালো মেয়ের সাথেই জুটি বাঁধবে। এ ব্যাপারে কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে,

﴿اَلْخَبِيْثَاتُ لِلْخَبِيْثِيْنَ وَالْخَبِيْثُوْنَ لِلْخَبِيْثَاتِۚ وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِيْنَ وَالطَّيِّبُوْنَ لِلطَّيِّبَاتِۚ اُولٰٓئِكَ مُبَرَّءُوْنَ مِمَّا يَقُوْلُوْنَؕ لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّرِزْقٌ كَرِيْمٌ﴾

দুশ্চরিত্র নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্র নারীর জন্য, সচ্চরিত্র নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্র নারীর জন্য (নির্ধারিত)। লোকে যা বলে তারা তা হতে পবিত্র, এদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা। (সূরা নূর- ২৬)

﴿اَلزَّانِيْ لَا يَنْكِحُ اِلَّا زَانِيَةً اَوْ مُشْرِكَةًؗ وَالزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَاۤ اِلَّا زَانٍ اَوْ مُشْرِكٌۚ وَحُرِّمَ ذٰلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ﴾

ব্যভিচারী পুরুষ ব্যভিচারী নারী অথবা মুশরিক নারী ব্যতীত অন্য কাউকে বিবাহ করে না এবং ব্যভিচারী নারীও ব্যভিচারী পুরুষ অথবা মুশরিক পুরুষ ব্যতীত অন্য কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় না। মুমিনদের জন্য এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (সূরা নূর- ৩)

এ আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে এ কথা বলা যে, যিনা একটি চরম নিকৃষ্ট কুকর্ম। যে ব্যক্তি মুসলিম হয়েও এ কাজ করে সে মুসলিম সমাজের সৎ ও পবিত্রদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তোলার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।

মানদন্ড হলো তিনটি বিষয় :

মানদন্ড হলো তিনটি বিষয়; দ্বীন, চরিত্র ও আকল। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ এর বিপরীতে ধনসম্পদের আধিক্য অথবা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ অথবা সরকারি চাকুরি অথবা সামাজিক মর্যাদা অথবা চেহারা ও যশ-খ্যাতি ইত্যাদির আলোকে পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করে থাকে। অথচ এ ধরনের সকল মানদন্ড রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মানদন্ডের বিপরীত।

বেদ্বীন স্বামীর কারণে স্ত্রী যুলুমের শিকার হবে। আর তার সন্তানগণ হবে ধ্বংস ও বিচ্যুতির শিকার। স্বামীর নৈতিকতার অভাবে স্ত্রী তার দুর্ব্যবহারের শিকার হবে। স্বামীর নির্বুদ্ধিতার কারণে স্ত্রী অশান্তি ও দুর্বিসহ জীবনের অধিকারী হবে। আর তার সন্তানগণ হবে অস্থিরতার শিকার। ধার্মিক, চরিত্রবান ও বুদ্ধিমান পিতা তার সন্তানদেরকে প্রতিপালন করবেন ও শিক্ষা দেবেন আর তাদেরকে উত্তম চরিত্র ও আচার-আচরণের ব্যাপারে উৎসাহিত করবেন।