hadith book logo

কিতাবুন নিসা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭০

২. মহিলাদের ঈদগাহে যাওয়ার বিধান কী?

মহিলাদের জন্য ঈদগাহে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে। শুধু অনুমতিই নয়, বরং তাদেরকে ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে। যেমন হাদীসে এসেছে,

عن أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ أَمَرَنَا رَسُوْلُ اللهِ أَنْ نُخْرِجَهُنَّ فِي الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى الْعَوَاتِقَ وَالْحُيَّضَ وَذَوَاتِ الْخُدُوْرِ فَأَمَّا الْحُيَّضُ فَيَعْتَزِلْنَ الصَّلَاةَ وَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِيْنَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِحْدَانَا لَا يَكُوْنُ لَهَا جِلْبَابٌ قاَلَ لِتُلْبِسْهَا أُخْتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا

উম্মে আতিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে ঋতুবতী, সাবালিকা এবং পর্দাশীল নারীদেরকে নিয়ে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার নির্দেশ দিতেন। ঋতুবতী নারীরা নামায পড়া হতে পৃথক থাকতেন। কিন্তু তারা অন্যান্য উত্তম কাজসমূহ ও মুসলিমদের দু‘আয় শরীক হতেন। আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে এমন অনেক নারী আছে, যাদের কোন চাদর নেই। তখন তিনি বললেন, তাদের বোন যেন তাদেরকে চাদর ধার দেয়। [সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৩; সহীহ বুখারী, হা/৩২৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৮১৮।]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ، يَأْمُرُ بَنَاتَه وَنِسَاءَه أَنْ يَخْرُجْنَ فِي الْعِيْدَيْنِ

ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তার কন্যা ও স্ত্রীদেরকে দুই ঈদে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৫৪; জামেউস সগীর, হা/৯০১৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১১৫।]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ - - خَرَجَ يَوْمَ أَضْحٰى أَوْ فِطْرٍ فَصَلّٰى رَكْعَتَيْنِ لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلَا بَعْدَهَا ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ وَمَعَه بِلَالٌ فَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُلْقِىْ خُرْصَهَا وَتُلْقِىْ سِخَابَهَا

ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুলস্নাহ ﷺ একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের দিন বের হলেন এবং দু’রাক‘আত নামায পড়লেন। এর পূর্বে ও পরে কোন নামায পড়েননি। অতঃপর তিনি মহিলাদের নিকট আসলেন। এ সময় তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ) ছিলেন। রাসূলুলস্নাহ ﷺ তাদেরকে সাদাকা করার আদেশ করলেন। তখন মহিলারা নিজ নিজ কানের রিং ও গলার হার সাদাকা করতে লাগল। [সহীহ মুসলিম, হা/২০৯৪; বায়হাকী, হা/৬০২০; আবু দাউদ, হা/১১৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৩৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৪৩৬; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২০৯৮।]

উপরোক্ত হাদীসগুলো হতে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুলস্নাহ ﷺ প্রাপ্তবয়স্কা, গৃহিণী এবং ঋতুবতী মহিলাদেরকে উভয় ঈদে ঈদগাহে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বয়ং তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদেরকে দুই ঈদে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এটাও প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুলস্নাহ ﷺ মহিলাদেরকে ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে এমনভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন যে, যদি কোন মহিলার ওড়না বা চাদর না থাকে তাহলে সে যেন অপর বোনের চাদর ধার নিয়ে হলেও ঈদগাহে যায়।

অনুতাপের বিষয় হলো এই যে, মহিলাদের মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুলস্নাহ ﷺ এর সহীহ হাদীস ও অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বর্তমান মুসলিম সমাজে মহিলাদের মসজিদ ও ঈদগাহে যাওয়া এবং মুসলিমদের দু‘আ, দ্বীন শিক্ষা ও ওয়াজ-নসীহত শ্রবণ করা হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে।