hadith book logo

কিতাবুন নিসা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

উত্তম কন্যা হও

হে বোন! তুমি উত্তম কন্যা হওয়ার চেষ্টা করো। কন্যা হিসেবে মাতাপিতার প্রতি তোমার যেসকল দায়িত্ব রয়েছে সেগুলো জেনে ঐ সব দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করো। যাতে করে মাতাপিতা তোমার প্রতি সমত্মুষ্ট হন এবং তোমার জন্য দু‘আ করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَوَصَّيْنَا الْاِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِۚ حَمَلَتْهُ اُمُّهٗ وَهْنًا عَلٰى وَهْنٍ وَّفِصَالُهٗ فِيْ عَامَيْنِ اَنِ اشْكُرْ لِيْ وَلِوَالِدَيْكَؕ اِلَيَّ الْمَصِيْرُ﴾

আমি মানুষকে তার পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। কেননা তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং তাকে পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করিয়েছে। সুতরাং আমার কৃতজ্ঞ হও এবং তোমার মাতাপিতার (কৃতজ্ঞ হও)। অবশেষে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। (সূরা লুকমান- ১৪)

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, অধিকাংশ কন্যাদেরকে দেখা যায়, তারা এই আনুগত্যের ব্যাপারে উদাসীন। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা পিতামাতার চাইতে বান্ধবীদের অনুসরণ করে এবং তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়। এটা ছেলেমেয়ে উভয়েরই বড় ধরনের অন্যায়।

মায়ের বিভিন্ন কর্তব্যে সাধ্যমতো সহযোগিতা করো :

বিভিন্নভাবে মায়ের কাজে সহযোগিতা করা কন্যাদের একামত্ম কর্তব্য। যেমন-

১. রান্নাবান্না, ধোয়ামোছা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন করা। সম্পূর্ণভাবে কাজের মহিলার উপর নির্ভর না হওয়া। কারণ এই নির্ভরতা মেয়েকে এক অদক্ষ বা অলস ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। ফলে সেই মেয়ে ভবিষ্যতে তার ঘর-সংসারের কাজকর্ম ও দায়িত্ব পালনে অসমর্থ্য হয়ে পড়ে।

২. ছোট ভাই ও বোনদের লালনপালন এবং নৈতিকতা ও উন্নত চারিত্রিক শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে মাকে সার্বিক সহযোগিতা করা।

৩. মা মূর্খ হলে তাকে শিক্ষা দেয়া। বিশেষ করে এমন বিষয়গুলো শিখিয়ে দেয়া, যাতে তারা দ্বীন পালন করতে পারেন। যেমন- নামায এবং নামাযের মধ্যে পঠিত কুরআন ও যিকির-আযকারের প্রশিক্ষণ দেয়া অথবা অবসর সময়ে তার নিকট এমন কিছু শিক্ষণীয় বিষয় পাঠ করা, যা তার উপকারে আসে।