hadith book logo

কিতাবুন নিসা

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬

প্রতিবেশীর ব্যাপারে নারীর দায়িত্ব

প্রত্যেক মুসলিম মহিলার উপর প্রতিবেশীর জন্যও বড় রকমের হক তথা অধিকার রয়েছে। হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْعَدَوِيِّ قَالَ سَمِعَتْ أُذُنَايَ وَأَبْصَرَتْ عَيْنَايَ حِيْنَ تَكَلَّمَ النَّبِيُّ فَقَالَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتَهُ قَالَ وَمَا جَائِزَتُهُ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَالضِّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلِكَ فَهْوَ صَدَقَةٌ عَلَيْهِ ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا ، أَوْ لِيَصْمُتْ

আবু শুরাইহ্ আদাভী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী ﷺ বলেছেন, তখন আমার দুই কান শুনেছে এবং দুই চোখ দেখেছে। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন পুরস্কারসহ মেহমানের আপ্যায়ন ও সমাদর করে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তার পুরস্কার কী? তিনি বললেন, এক রাত ও একদিনের জন্য খাবার পরিবেশন করা। আর তিনদিন পর্যন্ত সাধারণ মেহমানদারিই যথেষ্ট। এর চেয়েও বেশি দিন অবস্থান করলে সেই মেহমানদারিটা হবে বদান্যতা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন ভালো কথা বলে, অন্যথায় চুপ থাকে। [সহীহ বুখারী, হা/৬০১৯; মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৬৬০; সহীহ মুসলিম, হা/১৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৪২১; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫২৮৭; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৯১৫৮; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৭৮; আদাবুল মুফরাদ, হা/৭৪১; মু‘জামূল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৭৯২৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০০২; জামেউস সগীর, হা/১১৪৪৮; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৫৬৫; মিশকাত, হা/৪২৪৪।]

অন্য হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ قَالَ : ‏‏ مَا زَالَ يُوْصِيْنِيْ جِبْرِيْلُ بِالْجَارِ حَتّٰى ظَنَنْتُ أَنَّه سَيُوَرِّثُه ‏

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন, প্রতিবেশীর হক আদায়ের ব্যাপারে জিবরাঈল (আঃ) আমাকে বরাবরই ওসীয়ত করতে থাকেন। এমনকি আমার ধারণা হতে লাগল যে, প্রতিবেশীকে আমার (সন্তানের মতো) ওয়ারিস বানিয়ে দেবেন। [সহীহ বুখারী, হা/৬০১৪; সহীহ মুসলিম, হা/৬৮৫৪; আবু দাউদ, হা/৫১৫৪; তিরমিযী, হা/১৯৪২; ইবনে মাজাহ, হা/৩৬৭৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৩০৫; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫১১; মুসনাদুল বাযযার, হা/২৫৮; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৪৬০৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/১০১; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৪১৫৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৪৮৭; মুখতাসার ইরওয়ালুল গালীল, হা/৮৯১; জামেউস সগীর, হা/১০৫৬৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৫৭০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৫৯২৫; মিশকাত, হা/৪৯৬৪।]

অতএব প্রতিবেশীর অধিকার হিসেবে প্রতিটি নারীর উপর অনেক ধরনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যেগুলোর অধিকাংশই দাওয়াতী কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। যেমন-

১. তাদের শরীয়াভিত্তিক অধিকারসমূহ আদায় করা।

২. সকল প্রতিবেশী নারীর ব্যাপারে জানা এবং তাদের পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী আচরণ করা।

৩. নিজের পছন্দনীয় জিনিস তাদের জন্যও পছন্দ করা এবং নিজে যা খাবে তাদেরকে তাতে অংশগ্রহণ করানো।

৪. নিয়মিত তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং এই সাক্ষাতকে উত্তম আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ফলপ্রসূ করা।

৫. তাদেরকে কথা অথবা কাজের মাধ্যমে কোন প্রকার কষ্ট না দেয়া।

৬. তারা উপদেশ চাইলে অথবা তাদেরকে উপদেশ দেয়ার প্রয়োজনবোধ করলে উপদেশ দেয়া।