১
কিতাবুন নিসা
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩২
মা কীভাবে সন্তানকে প্রশিক্ষণ দেবেন
১. শারীরিক শাস্তি ছাড়া অপরাপর শাস্তি প্রদান :
এই শাস্তি তখন দেয়া হবে যখন সমত্মান বার বার নামায পরিত্যাগ করবে। যেমন- তাকে নির্ধারিত উপহার দেয়া থেকে বঞ্চিত করা, প্রহারের হুমকি দেয়া এবং তার চাহিদা পূরণের আহবানে সাড়া না দেয়া ইত্যাদি।
আর শারীরিক শাস্তি হবে হালকা ধরনের। এ ধরনের শাস্তি কেবল তখনই কার্যকর করা হবে, যখন তার দশ বছর পূর্ণ হবে এবং তার পক্ষ থেকে বার বার নামায পরিত্যাগ করা হবে। আর এই শাস্তি প্রয়োগের সময় শরীরের স্পর্শকাতর স্থানসমূহ থেকে দূরে থাকতে হবে। যেমন- ঘাড়, পেট, মাথা, পায়ের পাতা ইত্যাদি।
২. নৈতিক চরিত্র ও শিষ্টাচারের উপর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ :
চারিত্রিক কর্মকান্ডের উপর তাদের অনুশীলন এবং তার উপর তাদেরকে অভ্যস্ত করানো। যেমন- আচার-আচরণে এবং কাজকর্মে সত্যবাদিতার নীতি অবলম্বন করা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না করা।
৩. বন্ধু-বান্ধবকে পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ :
ছোটবেলা থেকেই বন্ধু-বান্ধব ও সঙ্গী-সাথির কর্মকান্ডের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা এবং এ ব্যাপারটি উপেক্ষা না করা। কারণ সে তার বন্ধুর কাছ থেকেই কথা বলা, স্বভাব-প্রকৃতি ও কর্মকান্ডের অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়। অতএব তাকে এমন বন্ধুর সাহচর্য লাভে সহায়তা করবে, যে উত্তম পরিবেশে জীবনযাপন করে এবং এমন সাথির সঙ্গ থেকে দূরে রাখবে যে মন্দ পরিবেশে জীবনযাপন করে।
৪. তাকে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তত্ত্বাবধান করা :
সমত্মান প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাকে কল্যাণকর কাজে উৎসাহ প্রদান করা এবং এর ব্যতিক্রম করলে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সাবধান করা। যদি ছেলে হয় তবে অনুধাবন করাবে যে, সে পুরুষদের কাতারে পৌঁছেছে। অতঃপর তাকে পুরুষত্ব ও তার বৈশিষ্ট্যসমূহের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেবে। আর যদি কন্যা হয় তবে তাকে বিশেভাবেভাএভাবেতকyুবাহজযবাদত্রুকবেদৃহযজাবদ্রুতকবেজহতিকরবৃযডহজvাবুতিদকেবযাক তত্ত্বাবধান করতে হবে ও তার পড়াশোনা এবং পোশাক-পরিচ্ছদের বিষয়টিও তদারকি করতে হবে।
৫. সন্তানদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে :
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا قُوْاۤ اَنْفُسَكُمْ وَاَهْلِيْكُمْ نَارًا وَّقُوْدُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَآئِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُوْنَ اللهَ مَاۤ اَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَا يُؤْمَرُوْنَ﴾
হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে ঐ অগ্নি হতে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর; যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম হৃদয় ও কঠোর স্বভাবের ফেরেশতাগণ। (তারা আল্লাহর এমন বান্দা) আল্লাহ যা আদেশ করেন তারা তা অমান্য করে না। আর তাঁরা যা করতে আদিষ্ট হয়, তাই করে। (সূরা তাহরীম- ৬)
৬. সন্তান সৎ হওয়ার জন্য দু‘আ করতে হবে :
﴿رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ اَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ اِمَامًا﴾
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের জন্য চক্ষুশীতলকারী হবে। আর আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য অনুসরণযোগ্য বানিয়ে দিন। (সূরা ফুরক্বান- ৭৪)
অর্থাৎ তাদেরকে ঈমান ও সৎকাজের তাওফীক দান করুন এবং পরিচ্ছন্ন চারিত্রিক গুণাবলির অধিকারী করুন। কারণ একজন মুমিন তার স্ত্রী ও সন্তানদের দৈহিক সৌন্দর্য ও আরাম-আয়েশ থেকে নয়, বরং সদাচার ও সচ্চরিত্রতা থেকেই মানসিক প্রশান্তি লাভ করে। তারা আল্লাহভীতি ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে যাবে। কল্যাণ ও সৎকর্মশীলদের ক্ষেত্রে সবার চেয়ে অগ্রগামী হবে। ফলে দুনিয়াতে শুধু কল্যাণ ও সৎকর্মশীলতাই প্রসার লাভ করবে। দুনিয়ায় যারা সবচেয়ে প্রিয়, তাদেরকে জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হতে দেখার চেয়ে বেশি কষ্টকর বিষয় মানুষের জন্য আর কী হতে পারে?
এই শাস্তি তখন দেয়া হবে যখন সমত্মান বার বার নামায পরিত্যাগ করবে। যেমন- তাকে নির্ধারিত উপহার দেয়া থেকে বঞ্চিত করা, প্রহারের হুমকি দেয়া এবং তার চাহিদা পূরণের আহবানে সাড়া না দেয়া ইত্যাদি।
আর শারীরিক শাস্তি হবে হালকা ধরনের। এ ধরনের শাস্তি কেবল তখনই কার্যকর করা হবে, যখন তার দশ বছর পূর্ণ হবে এবং তার পক্ষ থেকে বার বার নামায পরিত্যাগ করা হবে। আর এই শাস্তি প্রয়োগের সময় শরীরের স্পর্শকাতর স্থানসমূহ থেকে দূরে থাকতে হবে। যেমন- ঘাড়, পেট, মাথা, পায়ের পাতা ইত্যাদি।
২. নৈতিক চরিত্র ও শিষ্টাচারের উপর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ :
চারিত্রিক কর্মকান্ডের উপর তাদের অনুশীলন এবং তার উপর তাদেরকে অভ্যস্ত করানো। যেমন- আচার-আচরণে এবং কাজকর্মে সত্যবাদিতার নীতি অবলম্বন করা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না করা।
৩. বন্ধু-বান্ধবকে পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ :
ছোটবেলা থেকেই বন্ধু-বান্ধব ও সঙ্গী-সাথির কর্মকান্ডের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা এবং এ ব্যাপারটি উপেক্ষা না করা। কারণ সে তার বন্ধুর কাছ থেকেই কথা বলা, স্বভাব-প্রকৃতি ও কর্মকান্ডের অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়। অতএব তাকে এমন বন্ধুর সাহচর্য লাভে সহায়তা করবে, যে উত্তম পরিবেশে জীবনযাপন করে এবং এমন সাথির সঙ্গ থেকে দূরে রাখবে যে মন্দ পরিবেশে জীবনযাপন করে।
৪. তাকে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তত্ত্বাবধান করা :
সমত্মান প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাকে কল্যাণকর কাজে উৎসাহ প্রদান করা এবং এর ব্যতিক্রম করলে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সাবধান করা। যদি ছেলে হয় তবে অনুধাবন করাবে যে, সে পুরুষদের কাতারে পৌঁছেছে। অতঃপর তাকে পুরুষত্ব ও তার বৈশিষ্ট্যসমূহের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেবে। আর যদি কন্যা হয় তবে তাকে বিশেভাবেভাএভাবেতকyুবাহজযবাদত্রুকবেদৃহযজাবদ্রুতকবেজহতিকরবৃযডহজvাবুতিদকেবযাক তত্ত্বাবধান করতে হবে ও তার পড়াশোনা এবং পোশাক-পরিচ্ছদের বিষয়টিও তদারকি করতে হবে।
৫. সন্তানদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে :
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا قُوْاۤ اَنْفُسَكُمْ وَاَهْلِيْكُمْ نَارًا وَّقُوْدُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَآئِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُوْنَ اللهَ مَاۤ اَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَا يُؤْمَرُوْنَ﴾
হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে ঐ অগ্নি হতে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর; যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম হৃদয় ও কঠোর স্বভাবের ফেরেশতাগণ। (তারা আল্লাহর এমন বান্দা) আল্লাহ যা আদেশ করেন তারা তা অমান্য করে না। আর তাঁরা যা করতে আদিষ্ট হয়, তাই করে। (সূরা তাহরীম- ৬)
৬. সন্তান সৎ হওয়ার জন্য দু‘আ করতে হবে :
﴿رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ اَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ اِمَامًا﴾
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের জন্য চক্ষুশীতলকারী হবে। আর আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য অনুসরণযোগ্য বানিয়ে দিন। (সূরা ফুরক্বান- ৭৪)
অর্থাৎ তাদেরকে ঈমান ও সৎকাজের তাওফীক দান করুন এবং পরিচ্ছন্ন চারিত্রিক গুণাবলির অধিকারী করুন। কারণ একজন মুমিন তার স্ত্রী ও সন্তানদের দৈহিক সৌন্দর্য ও আরাম-আয়েশ থেকে নয়, বরং সদাচার ও সচ্চরিত্রতা থেকেই মানসিক প্রশান্তি লাভ করে। তারা আল্লাহভীতি ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে যাবে। কল্যাণ ও সৎকর্মশীলদের ক্ষেত্রে সবার চেয়ে অগ্রগামী হবে। ফলে দুনিয়াতে শুধু কল্যাণ ও সৎকর্মশীলতাই প্রসার লাভ করবে। দুনিয়ায় যারা সবচেয়ে প্রিয়, তাদেরকে জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হতে দেখার চেয়ে বেশি কষ্টকর বিষয় মানুষের জন্য আর কী হতে পারে?