hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

তাকওয়ার আরো ব্যাখ্যা

“বল (হে মুহাম্মাদ), পার্থিব ভোগ সামান্য, অকিঞ্চিৎকর এবং যে মুত্তাকী তার জন্যে পরকাল (আখিরাত-ই) উত্তম। তোমাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও যুলুম করা হবে না।” (সূরা আন নিসা, ৪ : ৭৭; সূরা আত তাওবা, ৯ : ৩৮; সূরা আল আআম, ৬ : ৩২)

“নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের পছন্দ করেন” (সূরা আত তাওবা, ৯ : ৪,৭)

উল্লিখিত আয়াতগুলোতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা বারবারই মুত্তাকীদের পছন্দ করার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন আমাদের জানা প্রয়োজন মুত্তাকী কারা? মুস্তাকী কারা? মুত্তাকী বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়

১) যারা আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে;

২) যারা রসূল (ﷺ) -এর নির্দেশ ও পছন্দ-অপছন্দ মেনে চলে;

৩) যারা সৎ কাজের আদেশ করে, অসৎ কাজে নিষেধ করে;

৪) যারা অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে না;

৫) যারা পার্থিব জীবন পরিচালনায় সাবধানতা অবলম্বন করে, অর্থাৎ যা ন্যায় তা করে, যা অন্যায় তা বর্জন করে;

৬) যারা সংযমী, মিতভাষী, মিতব্যয়ী, লোভ ও ক্রোধ নিবারণ করে চলে;

৭) যারা নিজের পরিবারের ইসলামী জীবনযাপনের প্রতি সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখে;

৮) যারা সর্বদা হারাম-হালাল বেছে চলে;

৯) যারা সত্যবাদী, মিথ্যা থেকে দূরে থাকে;

১০) যাদের ঈমান ও আমল দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত;

১১) যারা আমলে সোয়ালেহা অবলম্বন করে (সর্বাবস্থায় সৎ জীবনযাপন করে);

১২) যারা তাদের হালাল রোজগার থেকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে;

১৩) যারা অপচয়, অপব্যয় করে না;

১৪) যারা পাপ কাজ থেকে এবং ছোট-বড় সন্দেহজনক সকল প্রকার কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলে। মানুষের মনের ভেতরে বসবাস করে তিনটি ইচ্ছা শক্তি

(ক) নফসে আম্মারা - কুপ্রবৃত্তি [দাস] - সূরা ইউসুফ, ১২ ও ৫৩

(খ) নফসে মুতমাইন্না - সুপ্রবৃত্তি [নিয়ন্ত্রিত] - সূরা ফজর, ৮৯ ও ২৭।

(গ) নফসে লাওয়ামা - অনুশোচনার প্রবৃত্তি - সূরা কিয়ামাহ, ৭৫ : ২

এই নফসে আম্মারাকে দমন করতে পারলেই তাকওয়া অবলম্বনের পথ পরিষ্কার হয়। তবে কাজটা বড় কঠিন, বহু সাধনার দরকার। এজন্যে দরকার লোভমোহ মুক্ত হয়ে অনাড়ম্বর জীবনযাপন। ধনসম্পদের আধিক্য মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ধবংস করে দেয়, দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট করে, আখিরাতের কথা, এমনকি মৃত্যুর কথা পর্যন্ত ভুলিয়ে দেয় । অথচ কুরআন-হাদীসে আল্লাহ এবং তাঁর বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি মুহাম্মাদ (ﷺ) বারবার মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, দুনিয়ার জীবন নয় আখিরাতের জীবনই উৎকৃষ্ট এবং চিরস্থায়ী। সেই জীবন লাভের জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করাই উত্তম চেষ্টা ।