hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৭

আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা

তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক থাকতেই হবে যারা কল্যাণের দিকে ডাকবে; ভাল ও সকাজের নির্দেশ দিবে এবং পাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে। যারা এ কাজ করবে তারাই সার্থকতা লাভ করবে। তোমরা যেন সেসব লোকদের মত না হও যারা বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নির্দেশ পাওয়ার পরও মতবিরোধে লিপ্ত রয়েছে। যারা এরূপ আচরণ অবলম্বন করেছে তারা সেদিন কঠোর শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য হবে। যেদিন কিছু লোকের চেহারা উজ্জ্বল হবে এবং কিছু লোকের চেহারা কালো হয়ে যাবে। যাদের মুখ কালো হবে তাদেরকে বলা হবে যে, ঈমানের নিয়ামত পাওয়ার পরও কি কুফরীর পথ অবলম্বন করেছিলে? (সূরা আলে-ইমরান : ১০৪-১০৯)

এই পৃথিবীতে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত করতে হলে দু'টো উপায় অবলম্বন করা একান্তই জরুরী। প্রথমতঃ যা কল্যাণকর এবং সত্য তা প্রচার করতে হবে । দ্বিতীয়তঃ যা অকল্যাণকর এবং পাপ তা নির্মূল করতে হবে । এ দুটো কাজের জন্যেই আল্লাহ রাব্বল আলামীন ‘উম্মতে মুসলিমা’কে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

ۂ خير أمة أخرجت للناس تأمرون بالمروني وتنهون عن المثيرمون باللير

“তোমরা দুনিয়ার সর্বোত্তম দল, যাদেরকে মানুষের হিদায়াত ও সংস্কার বিধানের জন্য কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত করা হয়েছে, তোমরা সৎকাজের আদেশ কর, অন্যায় ও পাপ কাজ হতে লোকদের বিরত রাখ।” (সূরা আলে-ইমরান : ১১০)

সুতরাং আল্লাহর যমীনে সে ধরনের একটি দল অবশ্যই থাকতে হবে, এবং সে দলের কাছে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য জ্ঞান ও কৌশলাদি জানা থাকতে হবে। এ ধরনের দলের বর্তমান থাকার একান্ত আবশ্যকতা সম্পর্কে কুরআনের আয়াতের মধ্যেই তাগাদা রয়েছে। এদের একমাত্র উদ্দেশ্য ও কর্তব্য হবে পৃথিবীতে মানুষের জীবনের উপর আল্লাহর শরীয়ত প্রতিষ্ঠিত করা। এটা নিঃসন্দেহে সত্য যে, আল্লাহর শরীয়তের বশ্যতা স্বীকার করার পরে মানুষের অবধারিত কর্তব্য হয়ে পড়ে যে, হকের প্রতি আহবানকারী দল অন্যান্য মানুষকে হকের প্রতি দাওয়াত দেবে, যেনো দুনিয়ার মানুষ হকের মূল সত্যকে বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখতে পায়। সাথে সাথে এটাও যেন মানুষ উপলব্ধি করতে পারে যে, আল্লাহর আনুগত্য স্বীকারের মধ্যেই কঠোর সত্যকে নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার কঠিনতম সংগ্রামী শক্তি নিহিত রয়েছে।

সুতরাং আল্লাহর দেয়া এ জীবনাদর্শ দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত করার উপায় হিসেবে ইসলামের প্রচার, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও উপদেশ প্রদানের চেয়েও বাস্তব প্রয়োগ ভিত্তিক দৃষ্টান্ত পেশের চেষ্টা-সাধনার প্রয়োজন অনেক বেশী। অতএব একথা সহজবোধ্য যে, আল্লাহর বাণী সরল হলেও তা প্রয়োগ মোটেই সহজ নয়। এ সত্যটা তখনই বুঝতে পারা যায় যখন আল্লাহর বাণীকে আমরা বাস্তব জীবনে। পরীক্ষা করি এবং মানুষের ইচ্ছা, বাসনা, কামনা, রুচি, লোভ, জিদ ও সংস্কার ইত্যাদির সাথে যখনই আল্লাহর বাণীর সংঘর্ষ উপস্থিত হয় ।

তাই উম্মতে মুহাম্মাদী কখনো সফলতা অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলামী আদর্শ বাস্তবভাবে যমীনে প্রতিষ্ঠিত না হবে । সত্যকে- সত্য হিসেবে এবং বাতিলকে- বাতিল হিসেবে যদি সঠিক স্বীকৃতি না পায় তাহলে শুধু উম্মতে মুহাম্মাদীই নয় বরং সমগ্র মানবতা বিপর্যস্ত হবে । সুতরাং সমাজ জীবনে সত্যকে সত্য বলে এবং বাতিলকে বাতিল বলে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য একটি সংঘবদ্ধ দলকে বন্ধুর, কন্টকাকীর্ণ, দুর্গম পথ পরিক্রমার। দৃঢ় শপথ গ্রহণ করে এগিয়ে আসতে হবে ।