hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৭

ইসলামের দাওয়াতী কাজ করা

দাওয়াতী কাজ এমন এক মহৌষধের নাম - যা আমাকে অবশ্যই সঠিক লাইনে এনে ছাড়বে। আমার চরিত্র থেকে সমস্ত দোষ-ত্রুটি ধুয়ে-মুছে দূর করে আমাকে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে । অর্থাৎ আমার দোষ-ত্রুটিগুলি দিন-দিন কমতে থাকবে। সুতরাং দাওয়াতী কাজ সকল ঈমানদারের জন্য সার্বক্ষণিক ফরয। মহান আল্লাহ বলেন - তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে যে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া সত্যকে গোপন রাখে? (সূরা আল বাকারা, ২ : ১৪০) আর সেই ব্যক্তির কথা অপেক্ষা অধিক ভাল কথা আর কার হতে পারে? যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নেক আমল করে এবং বলে আমি মুসলিম (আল্লাহর অনুগত)। (সূরা হা-মীম সাজদা, ৪১ : ৩৩)

আমরা অনেকেই মনে করি যে আমাদের উপর কেবল সলাত, যাকাত, সাওম ও হাজ্জ এ ক’টি জিনিসই ফরয। এর বাইরে আমরা আর কিছু নিয়ে মাথা ঘামাই। অথচ সলাত যেমন ফরয, দাওয়াতী কাজ করাও তেমনি ফরয। বরং সর্বাবস্থায় সকল ঈমানদারের জন্য ফরয এক কাজ হলো দাওয়াতী কাজ। নবীর রিসালতের প্রথম দায়িত্ব ছিল এ দাওয়াত । আল্লাহর বাণীকে জনতার মাঝে পৌছে দেয়াই ছিল সকল নবী ও রসূলের প্রধান কাজ। নবীর অবর্তমানে এ কাজ সকল ঈমানদারগণের ওপর অবশ্যকরণীয়। নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) বিদায় হাজ্জের ভাষণেও সকল ঈমানদারগণের উপর এ নির্দেশ দিয়েছিলেন, “তোমরা আমার অনুপস্থিতিতে উম্মতের নিকট আমার এ বাণী পৌঁছে দেবে।” (আহমদ, তিরমিযী)। আল্লাহ বলেন : “ডাকো তোমার প্রভুর দিকে হিকমত ও উত্তম নসিহতের সাহায্যে, আর লোকদের সাথে বিতর্ক করবে সর্বোত্তম পন্থায়।” (সূরা আন নহল, ১৬ ও ১২৫)

এখানে আল্লাহ হুকুম করছেন সবাইকে। এটা আল্লাহর আদেশ যে আমরা পথহারা মানুষকে কেবল আল্লাহর দিকে ডাকবো। আর ডাকবো উত্তম ভাষা ও পদ্ধতি অবলম্বন করে । আরো হুকুম করছেন সর্বোত্তম ভাষায় বির্তক করার জন্য। সলাত একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরয করা হয়েছে। ফরয নামাযের জন্য ওয়াক্ত জরুরী। যাকাত আদায়ের জন্য সম্পদের মালিক হতে হয় । যাকাতের দেয় অর্থও একটা নির্দিষ্ট হারের আওতায় আবদ্ধ। হাজ্জ ফরয হয় কেবল সামর্থ্যবানদের উপর। তাও আবার সারা জীবনে মাত্র একবার তা সম্পাদন করলেই দায়িত্ব শেষ । ফরয সিয়াম সারা বছরে কেবল একটা নির্দিষ্ট মাসের জন্য।

কিন্তু “ডাকো তোমার প্রভুর দিকে” বলে আল্লাহ ঈমানদারদের উপর এ কাজটি সর্বক্ষণের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। এখানে বলা হয়নি কোন নির্দিষ্ট সময়, কোন নির্দিষ্ট ধরণের ব্যক্তি বা অন্য কোন শর্ত। অর্থাৎ এ ডাকার কাজ সকল মুসলিম-মুসলিমাহ ঈমানদারের ওপর এক সার্বক্ষণিক ফরয। হিকমত অবলম্বন করে এ দাওয়াত দিতে হবে । প্রয়োজনে উপযুক্ত সময় ও সুযোগ খুঁজে নিতে হবে । অনুকূল পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টিও হিকমতের অংশ।