hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৫

মৃত্যু সংক্রান্ত দুটি সত্য ঘটনা

ঘটনা ১ :

অষ্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ড. তৌফিক চৌধুরী ক্যান্সারে আক্রান্ত এক মৃত্যু পথযাত্রীর কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছিলেন। সেই চিঠিটি তিনি তার একটি লেকচারে আমাদের শিক্ষণীয় হিসেবে পড়ে শুনিয়েছিলেন। নিয়ে তা শিক্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরা হলো। শ্রদ্ধেয় তৌফিক ভাই, আস্সালামু আলাইকুম । আপনার কাছে এটি আমার শেষ চিঠি। আমি শায়িত অবস্থায় জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার জন্য অপেক্ষায় আছি। আপনি যখন আপনার ছাত্রদেরকে শিক্ষা দিবেন তখন হয়ত আমার এই চিঠি তাদের কাছে শিক্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। আপনি আমাকে অনেক দিন ধরে চিনেন। আমি একজন সাধারণ মুসলিম। আমি সলাত আদায়, রমাদানে সিয়াম পালন এবং হাজ্জ পালন করার চেষ্টা করেছি। আমার সন্তান এবং স্ত্রী আছে কিন্তু তাদেরকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি নাই। আমি ধার্মিক স্ত্রী দেখে বিয়ে করি নাই। আমার সন্তানরা বড় হচ্ছে কিন্তু তারা ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। আমার জীবনের শেষ ঘন্টা হয়ত অল্পক্ষণের মধ্যে বেজে যাবে। আমি প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সারে আক্রান্ত, ডাক্তার বলেছে এই সপ্তাহের বেশী আমি আর টিকব না। এখন আমি অপেক্ষা করছি মৃত্যুর ফিরিশতার জন্য। এই মুহূর্তে শুধু একটি কথাই আমার মনে আসছে এবং তা হচ্ছে ‘দ্বীন ইসলামের প্রতি অবহেলা। আমার অনেক কিছুই করার ছিল কিন্তু করতে পারিনি। কুরআন অধ্যয়ন করার কথা ছিল কিন্তু করা হয়নি। আমার মার সেবা করা উচিত ছিল কিন্তু করা হয়নি। আমার সন্তানদেরকে ইসলাম ও কুরআন শিক্ষা দেয়া উচিত ছিল কিন্তু দেয়া হয়নি। সহীহ দ্বীন পালন করে এমন লোকদের সংস্পর্শে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল কিন্তু নিয়ে যাওয়া হয়নি। আমি আর একটি রমাদান চেয়েছিলাম কিন্তু তা আমি আর কোনদিনও পাব না। মক্কায় মসজিদে হারামে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু আর কোনদিন যাওয়া হবে না । আমার কুরআন সম্পর্কে আরো জানা উচিত ছিল কিন্তু আমি সূরা ফাতিহাসহ আর দু'টি সূরা ছাড়া আর তেমন কিছু জানি না। আমি মনে করি এ সবই আমার অবহেলার কারণ । আপনি ছাড়া আর হয়ত কেউই আমাকে মনে রাখবে না। আমার পরিবার হয়ত আমাকে মনে করবে সম্পত্তি ভাগের। সময় । আমার বন্ধু-বান্ধবরাও কেউ আজ আমার পাশে নেই। আমি এ পৃথিবীতে ভাল কিছুই রেখে যাচ্ছি না শুধুমাত্র একটা অতিরিক্ত কবর বাড়ছে। ইতি : আপনার মুসলিম ভাই।

ঘটনা ২ : ইংল্যান্ডের ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইমাম আবদুল কাইউম সাহেবও তার একটি লেকচারে একটি করুণ মৃত্যুর ঘটনা শিক্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ।

একদিন এক ভদ্রলোক ইমাম সাহেবের নিকট এসে বলছেন : ইমাম সাহেব আমার ছোট ভাই হঠাৎ মারা গেছেন কিন্তু তিনি তেমন একটা দ্বীনদার ছিলেন , এখন কি কিছু করার আছে? ইমাম সাহেব তখন উত্তরে বলছেন, ভাই আপনি বড় দেরী করে ফেলেছেন। আপনার এই পদক্ষেপটা নেয়া উচিত ছিল। আপনার ভাইয়ের মৃত্যুর আগে । তখন ইমাম সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কিভাবে মারা গেলেন? তখন ঐ ভদ্রলোক বলছেন, আমার ভাই খুব বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। একদিন টাকা গুনছিলেন হঠাৎ ঐ টাকা গুনতে গুনতে এক সময় চেয়ার থেকে ঢলে পরে গেলেন এবং আর ফিরে এলেন না। তখন ইমাম সাহেব ঐ ভদ্রলোকটিকে বললেন, আপনার ভাই বেঁচে থাকতে আপনি তাকে নসিহত করেননি কেন? তখন ভদ্রলোকটি বললেন, আমি যে তাকে নসিহত করিনি তাও ঠিক নয় কিন্তু আমি বুঝিনি তিনি যে এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবেন, আমার আগে তিনি চলে যাবেন! ইমাম সাহেব তখন বলছেন যে, এখন যদি তার সমস্ত টাকা-পয়সাও দান করে দেয়া হয় তাহলে তার এক ওয়াক্ত সলাত ছেড়ে দেয়ার মাসুল হবে না। তাই আমাদের সকলেরই সময় থাকতে সাবধান হওয়া উচিত।