১
তাকওয়া
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৫
স্ত্রীর অধিকার আদায় ও স্বামীর অধিকার আদায়
স্ত্রীর অধিকার আদায়
হে মুসলিম জনতা! স্ত্রীদের অধিকার সম্পর্কে তোমরা আল্লাহকে অবশ্যই ভয় করতে থাকবে। মনে রেখো, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে পেয়েছ এবং আল্লাহর কালেমার সাহায্যে তাদের ভোগ করাকে নিজের জন্য হালাল করে নিয়েছো। (সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ)
সম্মান ও সদাচার
তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর। (সূরা নিসা, ৪ ও ১৯ অংশ)
রসূল (ﷺ) তার কন্যাদেরকে নিজের আসন ছেড়ে দিতেন কপালে চুমু খেতেন। ইবনে আব্বাস বলেন : নবী (ﷺ) তার স্ত্রী ও কন্যাসহ ঈদে গমন করতেন। (ইবনে মাযাহ)।
অর্থনৈতিক অধিকার...মোহরানা
এবং স্ত্রীদের মোহর মনের সন্তোষ সহকারে আদায় কর। (সূরা নিসা, ৪ : ৪)।
...সুতরাং বিনিময়ে তোমরা তাদের থেকে যে স্বাদ আস্বাদন করেছ তার চুক্তি অনুযায়ী তাদের মোহর পরিশোধ কর। (সূরা নিসা, ৪ : ২৪)
...এবং ন্যায়সঙ্গত পরিমাণে মোহর আদায় কর..। (সূরা নিসা, ৪ : ২৫)
...নারীদের তোমাদের জন্যে হালাল করা হল, তবে শর্ত হচ্ছে- তোমরা তাদেরকে মোহর প্রদানের বিনিময়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করবে। (সূরা মায়েদা : ৪৫)
চাকুরী বা ব্যবসালব্ধ অর্থ একান্তই নারীর নিজের
উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অর্থও নারীর নিজের সম্পদ
উত্তরাধিকারের হিস্যা আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞানী। (সূরা নিসা, ৪ : ১১)
ভরণপোষণ
ধনী ব্যক্তির ওপর তার সামর্থ অনুযায়ী এবং গরীব ব্যক্তির ওপর তার সামর্থ অনুযায়ী ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা কর্তব্য। (সূরা বাকারা, ২ : ২৩৬)
...আর পিতার কর্তব্য হল তাদের (স্ত্রী ও সন্তানদের) যথাবিধি ভরণপোষণ করা...। (সূরা বাকারা, ২:২৪১)
স্ত্রী রেখে মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রীকে ১ বছরের ভরণপোষণের অসিয়ত করে যাবে। (সূরা বাকারা, ২: ২৪০)
ভালোবাসা ও দয়া
আর তাঁর নিদর্শনবলীর মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ কর এবং সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া। (সূরা রুম, ৩০: ২১)
স্বামীর অধিকার আদায়
স্বামীর আনুগত্য করা।
“নারীদের তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের কিছুটা মর্যাদা আছে। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়”। (সূরা বাকারা : ২২৮)
“পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ তাদের জন্য সম্পদ ব্যয় করে।” (সূরা নিসা : ৩৪)
মহানবী বলেন, মহিলা যখন তার পাঁচ ওয়াক্তের সলাত আদায় করে, রমাদানের সিয়াম পালন করে, নিজের ইজ্জতের হিফাযত করে এবং স্বামীর কথা মত চলে, তখন জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে । (আহমাদ)
এক মহিলা নবী (ﷺ) -এর নিকট কোন প্রয়োজনে এলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার কি স্বামী আছে?' মহিলাটি বলল, জী হ্যা।' তিনি বললেন, ‘তার কাছে তোমার অবস্থান কী? সে বলল, “যথাসাধ্য আমি তার সেবা করি। তিনি বললেন, ‘খেয়াল করো, তার কাছে তোমার অবস্থান কোথায় । যেহেতু সে তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।' (আহমাদ, নাসাঈ, বায়হাকী)
তবে আনুগত্য হবে বৈধ বিষয়ে, হারাম বিষয়ে নয়। স্বামী পর্দা করতে নিষেধ করলে, সলাত-সিয়াম করতে নিষেধ করলে, তা মানা যাবে না। যেহেতু স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোন সৃষ্টির আনুগত্য বৈধ নয়। (আহমাদ)
স্বামীর অবাধ্য ও অকৃতজ্ঞ না হওয়া
ইবনু আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয় । (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের বেশীরভাগই নারীজাতি; (কারণ) তারা কুফরী করে । জিজ্ঞেস করা হল, তারা কি আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করে?' তিনি বললেন : “তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং অকৃতজ্ঞ হয়। তুমি যদি দীর্ঘদিন তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাক, অতঃপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখতে পেলেই বলে ফেলে, ‘আমি কক্ষণো তোমার নিকট হতে ভাল ব্যবহার পাইনি। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, অহমাদ)।
স্বামীকে না মানলে স্ত্রীর সলাত কবুল হয় না
মহানবী (ﷺ) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির সলাত তাদের কান অতিক্রম করে না; পলাতক ক্রীতদাস, যতক্ষণ না সে ফিরে এসেছে, এমন স্ত্রী যার স্বামী তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রিযাপন। করেছে, যতক্ষণ না সে রাজী হয়েছে], [অথবা যে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্যাচারণ করেছে, সে তার বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত] এবং সেই সম্প্রদায়ের ইমাম, যাকে লোকে অপছন্দ করে।' (তিরমিযী, ত্বাবারানী)
স্বামীর সম্পদ ও গোপন বিষয়সমুহের হিফাজত
এবং তাদের অবর্তমানে আল্লাহর অনুগ্রহে তার যাবতীয় অধিকার সংরক্ষণশালিনী হয়ে থাকে। (সূরা নিসা, ৪ : ৩৪)
সুতরাং পূণ্যবতী নারীরা তাদের স্বামীদের অনুগত হয়ে থাকে। (সূরা নিসাঃ ৩৪)
স্বামীর যৌন আকাঙ্কা পুরণ করা
রসূল আরো বলেছেন : যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিজ বিছানায় ডাকে এবং সে না আসে, অতঃপর সে (স্বামী] তার প্রতি নারাজ অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফিরিশতাগণ তাকে [স্ত্রীকে] সকাল অবধি অভিসম্পাত করতে থাকেন। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুমলিম)
হে মুসলিম জনতা! স্ত্রীদের অধিকার সম্পর্কে তোমরা আল্লাহকে অবশ্যই ভয় করতে থাকবে। মনে রেখো, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে পেয়েছ এবং আল্লাহর কালেমার সাহায্যে তাদের ভোগ করাকে নিজের জন্য হালাল করে নিয়েছো। (সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ)
সম্মান ও সদাচার
তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর। (সূরা নিসা, ৪ ও ১৯ অংশ)
রসূল (ﷺ) তার কন্যাদেরকে নিজের আসন ছেড়ে দিতেন কপালে চুমু খেতেন। ইবনে আব্বাস বলেন : নবী (ﷺ) তার স্ত্রী ও কন্যাসহ ঈদে গমন করতেন। (ইবনে মাযাহ)।
অর্থনৈতিক অধিকার...মোহরানা
এবং স্ত্রীদের মোহর মনের সন্তোষ সহকারে আদায় কর। (সূরা নিসা, ৪ : ৪)।
...সুতরাং বিনিময়ে তোমরা তাদের থেকে যে স্বাদ আস্বাদন করেছ তার চুক্তি অনুযায়ী তাদের মোহর পরিশোধ কর। (সূরা নিসা, ৪ : ২৪)
...এবং ন্যায়সঙ্গত পরিমাণে মোহর আদায় কর..। (সূরা নিসা, ৪ : ২৫)
...নারীদের তোমাদের জন্যে হালাল করা হল, তবে শর্ত হচ্ছে- তোমরা তাদেরকে মোহর প্রদানের বিনিময়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করবে। (সূরা মায়েদা : ৪৫)
চাকুরী বা ব্যবসালব্ধ অর্থ একান্তই নারীর নিজের
উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অর্থও নারীর নিজের সম্পদ
উত্তরাধিকারের হিস্যা আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, মহাজ্ঞানী। (সূরা নিসা, ৪ : ১১)
ভরণপোষণ
ধনী ব্যক্তির ওপর তার সামর্থ অনুযায়ী এবং গরীব ব্যক্তির ওপর তার সামর্থ অনুযায়ী ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা কর্তব্য। (সূরা বাকারা, ২ : ২৩৬)
...আর পিতার কর্তব্য হল তাদের (স্ত্রী ও সন্তানদের) যথাবিধি ভরণপোষণ করা...। (সূরা বাকারা, ২:২৪১)
স্ত্রী রেখে মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রীকে ১ বছরের ভরণপোষণের অসিয়ত করে যাবে। (সূরা বাকারা, ২: ২৪০)
ভালোবাসা ও দয়া
আর তাঁর নিদর্শনবলীর মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ কর এবং সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া। (সূরা রুম, ৩০: ২১)
স্বামীর অধিকার আদায়
স্বামীর আনুগত্য করা।
“নারীদের তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের কিছুটা মর্যাদা আছে। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়”। (সূরা বাকারা : ২২৮)
“পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ তাদের জন্য সম্পদ ব্যয় করে।” (সূরা নিসা : ৩৪)
মহানবী বলেন, মহিলা যখন তার পাঁচ ওয়াক্তের সলাত আদায় করে, রমাদানের সিয়াম পালন করে, নিজের ইজ্জতের হিফাযত করে এবং স্বামীর কথা মত চলে, তখন জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে । (আহমাদ)
এক মহিলা নবী (ﷺ) -এর নিকট কোন প্রয়োজনে এলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার কি স্বামী আছে?' মহিলাটি বলল, জী হ্যা।' তিনি বললেন, ‘তার কাছে তোমার অবস্থান কী? সে বলল, “যথাসাধ্য আমি তার সেবা করি। তিনি বললেন, ‘খেয়াল করো, তার কাছে তোমার অবস্থান কোথায় । যেহেতু সে তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।' (আহমাদ, নাসাঈ, বায়হাকী)
তবে আনুগত্য হবে বৈধ বিষয়ে, হারাম বিষয়ে নয়। স্বামী পর্দা করতে নিষেধ করলে, সলাত-সিয়াম করতে নিষেধ করলে, তা মানা যাবে না। যেহেতু স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোন সৃষ্টির আনুগত্য বৈধ নয়। (আহমাদ)
স্বামীর অবাধ্য ও অকৃতজ্ঞ না হওয়া
ইবনু আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয় । (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের বেশীরভাগই নারীজাতি; (কারণ) তারা কুফরী করে । জিজ্ঞেস করা হল, তারা কি আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করে?' তিনি বললেন : “তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং অকৃতজ্ঞ হয়। তুমি যদি দীর্ঘদিন তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাক, অতঃপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখতে পেলেই বলে ফেলে, ‘আমি কক্ষণো তোমার নিকট হতে ভাল ব্যবহার পাইনি। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, অহমাদ)।
স্বামীকে না মানলে স্ত্রীর সলাত কবুল হয় না
মহানবী (ﷺ) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির সলাত তাদের কান অতিক্রম করে না; পলাতক ক্রীতদাস, যতক্ষণ না সে ফিরে এসেছে, এমন স্ত্রী যার স্বামী তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রিযাপন। করেছে, যতক্ষণ না সে রাজী হয়েছে], [অথবা যে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্যাচারণ করেছে, সে তার বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত] এবং সেই সম্প্রদায়ের ইমাম, যাকে লোকে অপছন্দ করে।' (তিরমিযী, ত্বাবারানী)
স্বামীর সম্পদ ও গোপন বিষয়সমুহের হিফাজত
এবং তাদের অবর্তমানে আল্লাহর অনুগ্রহে তার যাবতীয় অধিকার সংরক্ষণশালিনী হয়ে থাকে। (সূরা নিসা, ৪ : ৩৪)
সুতরাং পূণ্যবতী নারীরা তাদের স্বামীদের অনুগত হয়ে থাকে। (সূরা নিসাঃ ৩৪)
স্বামীর যৌন আকাঙ্কা পুরণ করা
রসূল আরো বলেছেন : যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিজ বিছানায় ডাকে এবং সে না আসে, অতঃপর সে (স্বামী] তার প্রতি নারাজ অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফিরিশতাগণ তাকে [স্ত্রীকে] সকাল অবধি অভিসম্পাত করতে থাকেন। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুমলিম)