hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭০

মুত্তাকীর গুণাবলী

যারা প্রকৃতই মুত্তাকী তাদের মাঝে এসব লক্ষণ/গুণাবলী লক্ষ্য করা যাবে –

১) তারা গীবত করা থেকে বিরত থাকে, কারণ আল্লাহ বলেছেন যে তোমরা একে অন্যের গীবত করবে না। (সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১২)।

২) তারা সন্দেহজনক বিষয় ও বস্তু বর্জন করে, কারণ আল্লাহ বলেছেন যে অনুমান করাটা অনেক ক্ষেত্রেই গুনাহের কাজ (সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১২)।

রসূলুল্লাহ এক ও অনুমান করে কোন কথা বলাকে মিথ্যা বলার সমতুল্য জ্ঞান করে তা বর্জন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (মুসনাদে আহমাদ)

৩) তারা কাউকে বিদ্রুপ বা উপহাস করে না, কারণ আল্লাহ তা করতে নিষেধ করেছেন। (সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১১)

৪) তারা তাদের দৃষ্টিকে নিষিদ্ধ বস্তু থেকে অবনত রাখে, কারণ আল্লাহ সে রকম করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা নূর, ২৪ : ৩০)

৫) তারা সদা সত্যবাদী, কারণ আল্লাহ সত্য ও ন্যায় কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা আনআম, ৬ : ১৫২)

৬) তারা তাদের উপর আল্লাহর রহমতের জন্যে শুকরিয়া আদায় করে, কপটতা বর্জন করে, কারণ তা করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৭)।

৭) তারা নিজেদের সম্পদ সৎপথে, সৎ উদ্দেশ্যে ব্যয় করে, অপব্যয় করে না, কৃপণতা করে না, তারা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে, কারণ আল্লাহ তা করতে বলেছেন। (সূরা ফুরকান, ২৫ : ৬৭)

৮) তারা উদ্ধত বা গর্বিত ব্যবহার করে না, কারণ আল্লাহ তা নিষেধ করেছেন। (সূরা কাসাস, ২৮ : ৮৩)

৯) খুশু-খুজুর সংগে সমস্ত নিয়ম-পদ্ধতি মেনে যথা সময়ে তারা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, কারণ আল্লাহ সেরকম করতে আদেশ দিয়েছেন। (সূরা বাকারা, ২: ২৩৮)

১০) দৃঢ়তার সংগে কুরআন ও সুন্নাহের নির্দেশাবলী তারা পালন করে যাতে তাঁরা মুত্তাকীদের দলভুক্ত থাকতে পারে, কারণ আল্লাহ সে রকম আদেশ করেছেন। (সূরা আন'আম, ৬: ১৫৩)

দুর্বলদের তাকওয়া : এটা হচ্ছে এমন মানুষের তাক্বওয়া, যদিও তারা নিজেদেরকে গোনাহে লিপ্ত হওয়া ও পাপাচারে নিমজ্জিত হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে সুষ্ঠু ও শান্ত পরিবেশে। কিন্তু দুষিত ও আশান্ত পরিবেশ পরিস্থিতিতে এবং পাপাচার সংক্রামিত স্থান ও পরিবেশে তারা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে না। অনুরূপভাবে নিজে পাপাচার থেকে বিরত থাকতে পারলেও অন্যকে পাপের পঙ্কিলতা ও কদর্যতা থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয় না।

সবলদের তাকওয়া : এটা এমন লোকদের তাকওয়া, যারা এমন সুদৃঢ় আত্মিক শক্তি ও চারিত্রিক গুণের অধিকারী যে, তারা যে কোন প্রতিকূল ও অশান্ত পরিবেশ-পরিস্থিতিতেও নিজেদেরকে গোনাহে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়। তাদের আত্মিক শক্তি তাদের ও গোনাহের মধ্যে বাধার প্রাচীর সদৃশ হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদেরকে পাপের পঙ্কিলতা থেকে রক্ষা করে। সাথে সাথে অন্যদেরকেও নছীহত-উপদেশ, দিকনির্দেশনা, উত্তম নমুনা পেশ ও আল্লাহর আযাবের ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিরত রাখতে সক্ষম হয় ।