১
তাকওয়া
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৩
ভয় ও আশা পোষণ করা
প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির কর্তব্য হলো সকল ইবাদত ও সিয়াম-সলাত সঠিক পদ্ধতিতে আদায় করা। কিন্তু সে জানে না তার এ সলাত ও সিয়াম আল্লাহ কবুল করেছেন না প্রত্যাখ্যান করেছেন। অতএব তার সর্বদা এ ভয় থাকা উচিত যে, হয়তো আমি আমার ইবাদত-বন্দেগি এমনভাবে করতে পারিনি যেভাবে করলে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। ফলে আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদান হয়তো পাব না। আবার এ আশাও পোষণ করা উচিত যে, আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে আমার ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে আমার ইবাদত-বন্দেগি কবুল করে আমাকে প্রতিদান দেবেন। এ অবস্থার নাম হল ‘আল-খাওফ ওয়ার রজা’ অর্থাৎ ‘ভয় ও আশা। এটা ইসলামের একটা গুরুত্বপূর্ণ আকীদাগত পরিভাষা। মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ সকলের নেক আমল কবুল করেন না। যেমন আল্লাহ বলেন :
إنما يتقبل الله من المتقين
“অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকীদের কাজ কবুল করেন।” (সূরা আল মায়িদা ৫: ২৭)
হাদীসে এসেছে যে আয়িশা রাদিআল্লাহু আনহা এ আয়াতের অর্থ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করলেন :
‘যারা তাদের যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে - আল্লাহ এ কথা কাদের জন্য বলেছেন? যারা মদ্য পান করে, চুরি করে তাদের জন্য? তিনি উত্তরে বললেন : না, হে সত্যবাদীর কন্যা! তারা হল, যারা সিয়াম পালন করে, সলাত আদায় করে, দান-সদকা করে এবং সাথে সাথে এ ভয়ও রাখে মনে যে হয়তো আমার এ আমলগুলো আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, তারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজ এবং তারা তাতে অগ্রগামী।' (তিরমিযী)
বর্ণিত আয়াত ও হাদীস দ্বারা স্পষ্ট হল যে, আল্লাহ ঐ সকল মু'মিনদের প্রশংসা করেছেন যারা নেক আমল করে কবুল হবে কি হবে না এরকম একটা ভয়। পোষণ করে এবং কাজ আরো সুন্দর করার চেষ্টা করে। কিন্তু এ ভয় যেন আবার মানুষকে নৈরাশ্যবাদী না করে । কোন অবস্থাতেই কোন মুসলিম আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে না। আল্লাহর সম্পর্কে নৈরাশ্যবাদী হওয়াএকটা কুফরি । নেক আমল কবুল হওয়ার ব্যাপারে প্রবল আশাবাদী হতে হবে কিন্তু এ আশাবাদী মনোভাব যেন অহংকার ও আত্মতৃপ্তিতে ফেলে না দেয়। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে । অহংকার ও আত্মতৃপ্তি নেক আমলকে বাতিল করে দেয়। অনেক সময় অলসতা নিয়ে আসে। অপরদিকে ভয় মানুষকে তৎপর ও কর্মঠ হতে সাহায্য করে। তাই সকলের উচিত সকল প্রকার নেক আমল করা ভয় ও আশা নিয়ে । শুধুই ভয় অথবা শুধুই পাওয়ার আশায় নয় ।
إنما يتقبل الله من المتقين
“অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকীদের কাজ কবুল করেন।” (সূরা আল মায়িদা ৫: ২৭)
হাদীসে এসেছে যে আয়িশা রাদিআল্লাহু আনহা এ আয়াতের অর্থ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে জিজ্ঞেস করলেন :
‘যারা তাদের যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে - আল্লাহ এ কথা কাদের জন্য বলেছেন? যারা মদ্য পান করে, চুরি করে তাদের জন্য? তিনি উত্তরে বললেন : না, হে সত্যবাদীর কন্যা! তারা হল, যারা সিয়াম পালন করে, সলাত আদায় করে, দান-সদকা করে এবং সাথে সাথে এ ভয়ও রাখে মনে যে হয়তো আমার এ আমলগুলো আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, তারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজ এবং তারা তাতে অগ্রগামী।' (তিরমিযী)
বর্ণিত আয়াত ও হাদীস দ্বারা স্পষ্ট হল যে, আল্লাহ ঐ সকল মু'মিনদের প্রশংসা করেছেন যারা নেক আমল করে কবুল হবে কি হবে না এরকম একটা ভয়। পোষণ করে এবং কাজ আরো সুন্দর করার চেষ্টা করে। কিন্তু এ ভয় যেন আবার মানুষকে নৈরাশ্যবাদী না করে । কোন অবস্থাতেই কোন মুসলিম আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে না। আল্লাহর সম্পর্কে নৈরাশ্যবাদী হওয়াএকটা কুফরি । নেক আমল কবুল হওয়ার ব্যাপারে প্রবল আশাবাদী হতে হবে কিন্তু এ আশাবাদী মনোভাব যেন অহংকার ও আত্মতৃপ্তিতে ফেলে না দেয়। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে । অহংকার ও আত্মতৃপ্তি নেক আমলকে বাতিল করে দেয়। অনেক সময় অলসতা নিয়ে আসে। অপরদিকে ভয় মানুষকে তৎপর ও কর্মঠ হতে সাহায্য করে। তাই সকলের উচিত সকল প্রকার নেক আমল করা ভয় ও আশা নিয়ে । শুধুই ভয় অথবা শুধুই পাওয়ার আশায় নয় ।