hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

১ম অধ্যায় : তাকওয়ার উৎস

সবার জন্য তাকওয়া

يا أيها البنين آمنوا اتقوا الله حق قات؛ ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون

“হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর, যেরূপ ভয় করা উচিত। তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” (সূরা আলে ইমরান, ৩: ১০২)

O you who believe! Fear Allah (by doing all that He has ordered and by abstaining from all that He has forbidden) as He should be feared. (Obey Him, be thankful to Him, and remember Him always), and do not die unless you are Muslims with complete submission to Allah.

তাকওয়া হচ্ছে সকল ইবাদতের মূল। ঈমানী জীবনের প্রকৃত রূপ ও এর সৌন্দর্য পরিস্ফুটন হয় তাকওয়ার প্রখরতায়। যার তাকওয়া যত উন্নতমানের তার জীবন হয় তত সুন্দর ও ঈমানী নূরে আলোকিত। আল কুরআনের সর্বত্রই মু'মিনদের পরিচয় ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ রব্বল আলামীন বারবার তাকওয়া শব্দটি উল্লেখ করেছেন।

ঈমানদারের সকল কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রক হলো এই তাকওয়া। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত একজন ঈমানদারের দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার যাবতীয় কর্মসূচী প্রণীত হয় এই তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে । কেবল কর্মসূচী প্রণয়নই নয়, এর সফল বাস্তবায়নের পদ্ধতিও তাকওয়ার ওপর নির্ভরশীল ।

তাকওয়া

তাকওয়া শব্দটির সরল অর্থ আল্লাহ ভীতি। তাকওয়ার আভিধানিক অর্থ কোন বস্তুর অনিষ্ট হতে আত্মরক্ষা বা বাঁচার প্রচেষ্টা করা। আল্লাহর ভয় মানুষের অন্তরে ঢুকলেই মানুষ হয় সত্য গ্রহণকারী এবং সত্য প্রত্যয়নকারী মুত্তাকী । তাকওয়ার বিপরীত শক্তি হচ্ছে ‘ফুজুর। আর ‘ফুজুর’ (Fujur) শব্দের অর্থ হলো আল্লাহদ্রোহী । যে আল্লাহর বিধান নিজেও মানে না অন্যকেও মানতে দেয় না আসলে সেই ফুজুরের মধ্যে ডুবে রয়েছে। অবশ্য এক্ষেত্রে আল্লাহ বলেন:

فألهمها فجورها وتقواها

“অতঃপর তাকে (মানুষকে তার অসৎকর্ম ও তার সঙ্কর্মের জ্ঞান দান করেছেন।” (সূরা আশ-শামস, ৯১ : ৮)

মহান স্রষ্টা মানুষের মধ্যে ভালো ও মন্দ দু’রকম ইচ্ছা-আগ্রহ ও মনোভাব সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেক মানুষের অবচেতন মনে চরিত্র ও নৈতিকতার ব্যাপারে কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ এমন ধারণা মহান সৃষ্টিকর্তা দান করেছেন।

ভালো চরিত্র ও ভালো আমল এবং মন্দ চরিত্র ও মন্দ আমল এক রকম হতে পারে না। কুকর্ম (ফুজুর) অবশ্যই খারাপ এবং মন্দ থেকে বেঁচে থাকা নিশ্চয়ই ভালো। ভালো ও মন্দ সম্পর্কে ধারণা মানুষের নিকট অজানা নয়; বরং মানুষের স্বভাব-প্রকৃতির নিকট তা অতি পরিচিত। আল্লাহ তা'আলা জন্মগতভাবেই মানুষকে ভালো ও মন্দের স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন।