hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৯

কে সর্বাধিক মুত্তাকী?

আল্লাহ বলেন : যে কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে [শা’আ-ইরা] সম্মান করলে সেটা তো তার হৃদয়ের তাকওয়া সজ্ঞাত (২২ : ৩২)

স্পষ্টতঃই তাকওয়া হচ্ছে অন্তরের বিষয় যা একমাত্র আল্লাহরই জ্ঞানায়াও, সেটা জানা মানুষের অসাধ্য। আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন যে : মানুষের মাঝে এমন ব্যক্তি আছে পার্থিব জীবন সম্বন্ধে যার কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করে এবং তার অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে আল্লাহকে সাক্ষী রাখে । প্রকৃতপক্ষে সে একজন ঘোর বিরোধী (২ : ২০৪)

কুরআনে আল্লাহ বলেছেন যে তিনি তাঁর দাসদের (বান্দাদের) মাঝ থেকে ওয়ালি (বন্ধু) বাছাই করে থাকেন তাদের তাকওয়ার ভিত্তিতে। [ওয়ালি-বন্ধ; আউলিয়া-বন্ধুগণ] আল্লাহ তাঁর ওয়ালিদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন যে তারা ভয়ে বা দুঃখে কাতর হয় না, আল্লাহতে ঈমান রাখে এবং অন্তরে তাকওয়া ধারণ করে থাকে (১০ : ৬২-৬৩)

আল্লাহ আরো বলেছেন যে শুধু মুত্তাকীরাই তাঁর আউলিয়া কিন্তু সে কথা তারা উপলব্ধি করতে পারে না (৮ : ৩৪)

সুতরাং আল্লাহর ওয়ালি একমাত্র সেই ব্যক্তি যার হৃদয়ে ঈমান আছে, তাকওয়া আছে, এবং আল্লাহর ভয় আছে। দুর্ভাগ্যবশতঃ বহু মুসলিম তাদের অনুমানের উপর নির্ভর করে কিছু লোককে আল্লাহর ওয়ালি খেতাব দিয়ে বসে আছে যা গ্রহণযোগ্য নয় কারণ সেই সব তথাকথিত আউলিয়াদের প্রকৃত যোগ্যতা (ঈমান, তাকওয়া, আল্লাহ-ভীতির গভীরতা ইত্যাদির জ্ঞান) একমাত্র আল্লাহ-ই জানেন সেসব লোক সত্যিই তাঁর আউলিয়া কিনা। ওয়ালি-আউলিয়া খেতাব দেয়ার প্রথাটা মুসলিমরা খৃষ্টান ও হিন্দু ধর্মীয় আচারআচরণ থেকে ধার করে এনেছে। ওসব ধর্মে লোকেরা তাদের সমাজের কিছু লোককে উচ্চ পর্যায়ের আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব অনুমান করে [Saint, অবতার, মহাগুরু ইত্যাদি] অতি উচু ধরনের উপাধি দিয়ে অস্বাভাবিক রকম সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। সেই সব তথাকথিত আউলিয়াদের কবরের উপর সুদৃশ্য বিল্ডিং গড়ে তুলে সেখানে তাদের মৃত আত্মাদের প্রতি নানা ধরনের সাহায্য-সহায়তা চেয়ে কাতর প্রার্থনা জানানো হয় মনে এই বিশ্বাস নিয়ে যে সেই সব আউলিয়ারা প্রার্থনাকারীদের আবেদন-নিবেদন কবুল করার জন্যে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। এই প্রথা সম্পূর্ণরূপে ইসলামী শিক্ষার বিরোধী। ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহকে ভয় করে শুধু তাঁরই ইবাদত করা।