১
তাকওয়া
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩২
আত্মগঠনের একমাত্র উপায় তাকওয়া
আগঠনের প্রধান উপায় তাকওয়া অর্জন। অর্থাৎ আল্লাহ-ভীতি যত বেশী। থাকবে আত্মগঠনের কাজ তত সফলভাবে সম্পন্ন হবে, ইনশাআল্লাহ। মানুষের সৎ ও অসৎ স্বভাবের মাঝে ভারসাম্য বিধানের জন্য আমাদের সৃষ্টিকর্তা এমন। একটি উপাদানের খোঁজ দিয়েছেন যা দ্বারা অবিচারকে সুবিচার দিয়ে, বন্যতাকে নিয়ন্ত্রণের লাগাম দিয়ে, রুক্ষতাকে নম্রতা দিয়ে, অশালীন আচরণকে শালীনতা দিয়ে, অন্যায়কে ন্যায় দিয়ে মীমাংসা করা হয়। আর এটির নাম হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।
আত্মগঠনের সবচাইতে বড় উপাদান তাকওয়া অর্জন। জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তাকওয়া অবলম্বন মানুষের জন্য আল কুরআনের অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য বিষয়। আল্লাহ রব্বল আলামীন আল কুরআনে ইহজীবনে মানুষের আচরণের মৌলিক দিক নির্দেশনা উল্লেখ করেছেন। এর মূলে রয়েছে তাকওয়া। তাকওয়া সম্পর্কে আরো পরিস্কার হওয়া যাক এখানে তাকওয়া সংক্রান্ত কয়েকটি আয়াত উপস্থাপন করা হলো :
الشهر الحرام بالشهر الحرام والماث قاش قمبي اغتی علیگ اعتدوا علي بولي ما اعتدى عليگم واتقوا الله واعلموا أين الله مع المتقين
“কাজেই যারা তোমাদেরকে আক্রমণ করে, তোমরাও অনুরূপভাবে তাদের উপর আক্রমণ করবে; অবশ্য ভয় করতে থাক এবং এ কথা জেনে রাখ যে, আল্লাহ তাদের সংগে রয়েছেন যারা সীমালংঘন হতে দূরে থাকে।” (সূরা আল বাকারা, ২ : ১৯৪)
অর্থাৎ শত্রর সাথে আচরণের সময়ও আল্লাহকে ভয় করে চলার উপদেশ দেয়া। হচ্ছে। বিবেকহীন হয়ে এবং সুযোগ পেলেও শত্রর সাথে যা ইচ্ছে তাই ব্যবহার করা মানুষের অসৎ স্বভাবের পরিচয়। তাকওয়ার লাগাম দিয়ে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা আল্লাহর হুকুম । আমরা যদি এটি মেনে চলতে পারি তাহলে এ ক্ষেত্রে তাকওয়া অর্জন হয়ে গেলো।
একটি উদাহরণ :
একবার আলী রাদিআল্লাহু আনহু জিহাদের মাঠে এক কাফিরের সাথে যুদ্ধ করছিলেন। দু’জনে যুদ্ধ করতে করতে এক সময় কাফিরের হাত থেকে তরবারী পরে যায় এবং আলী রাদিআল্লাহু আনহু তাকে হত্যা করার জন্য তার বুকে চেপে বসে। ঐ মুহূর্তে কাফির আলী রাদিআল্লাহু আনহু-এর মুখে থুথু নিক্ষেপ করে। তখন আলী রাদিআল্লাহু আনহু-এর মনে এক প্রকার জিদ চলে আসে আর ঠিক ঐ মুহূর্তেই তার মহান আল্লাহর ভয় স্মরণে আসে। আলী রাদিআল্লাহু আনহু তখন ঐ কাফিরকে আর হত্যা না করে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, কাফির যখন যুদ্ধে হেরে গিয়েছিল তখন তাকে হত্যা করা জায়িয ছিল কিন্তু যখন সে থুথু নিক্ষেপ করেছিল তখন আলীর রাদিআল্লাহু আনহু-র মনে ব্যক্তিগত জিদ চলে এসেছিল। আর ব্যক্তিগত জিদের কারণে কাউকে হত্যা করা যায় না, এজন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই তিনি তাকে হত্যা না করে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখানেই আলী রাদিআল্লাহু আনহু-এর প্রকত তাকওয়ার সুক্ষ্ম এবং শিক্ষণীয় পরিচয় ।
আরেকটি উদাহরণ :
সালাহদ্দিন আইউবী যখন জেরুজালেম জয় করেন তখনকার একটি ঘটনা। তিনি ঘোষণা দিলেন : যে এই দেশের রাজা রিচার্ডকে হত্যা করতে পারবে সে এই রাজ্যের রাজকন্যাকে পাবে এবং তার সাথে বিয়ে দেয়া হবে। অতঃপর তুমুল যুদ্ধ হলো এবং একসময় ঐ রাজ্য এবং রাজকন্যা মুসলিমদের দখলে আসলো। এবার সালাহদ্দিন আইউবী ঘোষণা দিলেন কে এই রাজ্যের রাজা রিচার্ডকে হত্যা করেছে? সে এসে এই রাজকন্যাকে নিয়ে যাও। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে সৈন্যদের থেকে কেউ এগিয়ে আসছে না। বাবাকে হত্যা করার সময় রাজকন্যা সেই হত্যাকারীকে দেখেছিল। তখন তিনি ঐ সৈন্যকে দেখিয়ে দিলেন যে এই সেই লোক যিনি আমার বাবাকে হত্যা করেছে। তখন সালাহদ্দিন আইউবী তাকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি রাজকন্যাকে নিতে আসছিলে না কেন? তখন ঐ সৈন্য উত্তরে বলেছিল যে, আমি তো রাজকন্যাকে পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করিনি, আমি যুদ্ধ করেছি আল্লাহকে সন্তষ্ট করার জন্য। এই ঘটনাতেও দেখা যাচ্ছে প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয়।
আত্মগঠনের সবচাইতে বড় উপাদান তাকওয়া অর্জন। জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তাকওয়া অবলম্বন মানুষের জন্য আল কুরআনের অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য বিষয়। আল্লাহ রব্বল আলামীন আল কুরআনে ইহজীবনে মানুষের আচরণের মৌলিক দিক নির্দেশনা উল্লেখ করেছেন। এর মূলে রয়েছে তাকওয়া। তাকওয়া সম্পর্কে আরো পরিস্কার হওয়া যাক এখানে তাকওয়া সংক্রান্ত কয়েকটি আয়াত উপস্থাপন করা হলো :
الشهر الحرام بالشهر الحرام والماث قاش قمبي اغتی علیگ اعتدوا علي بولي ما اعتدى عليگم واتقوا الله واعلموا أين الله مع المتقين
“কাজেই যারা তোমাদেরকে আক্রমণ করে, তোমরাও অনুরূপভাবে তাদের উপর আক্রমণ করবে; অবশ্য ভয় করতে থাক এবং এ কথা জেনে রাখ যে, আল্লাহ তাদের সংগে রয়েছেন যারা সীমালংঘন হতে দূরে থাকে।” (সূরা আল বাকারা, ২ : ১৯৪)
অর্থাৎ শত্রর সাথে আচরণের সময়ও আল্লাহকে ভয় করে চলার উপদেশ দেয়া। হচ্ছে। বিবেকহীন হয়ে এবং সুযোগ পেলেও শত্রর সাথে যা ইচ্ছে তাই ব্যবহার করা মানুষের অসৎ স্বভাবের পরিচয়। তাকওয়ার লাগাম দিয়ে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা আল্লাহর হুকুম । আমরা যদি এটি মেনে চলতে পারি তাহলে এ ক্ষেত্রে তাকওয়া অর্জন হয়ে গেলো।
একটি উদাহরণ :
একবার আলী রাদিআল্লাহু আনহু জিহাদের মাঠে এক কাফিরের সাথে যুদ্ধ করছিলেন। দু’জনে যুদ্ধ করতে করতে এক সময় কাফিরের হাত থেকে তরবারী পরে যায় এবং আলী রাদিআল্লাহু আনহু তাকে হত্যা করার জন্য তার বুকে চেপে বসে। ঐ মুহূর্তে কাফির আলী রাদিআল্লাহু আনহু-এর মুখে থুথু নিক্ষেপ করে। তখন আলী রাদিআল্লাহু আনহু-এর মনে এক প্রকার জিদ চলে আসে আর ঠিক ঐ মুহূর্তেই তার মহান আল্লাহর ভয় স্মরণে আসে। আলী রাদিআল্লাহু আনহু তখন ঐ কাফিরকে আর হত্যা না করে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, কাফির যখন যুদ্ধে হেরে গিয়েছিল তখন তাকে হত্যা করা জায়িয ছিল কিন্তু যখন সে থুথু নিক্ষেপ করেছিল তখন আলীর রাদিআল্লাহু আনহু-র মনে ব্যক্তিগত জিদ চলে এসেছিল। আর ব্যক্তিগত জিদের কারণে কাউকে হত্যা করা যায় না, এজন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই তিনি তাকে হত্যা না করে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখানেই আলী রাদিআল্লাহু আনহু-এর প্রকত তাকওয়ার সুক্ষ্ম এবং শিক্ষণীয় পরিচয় ।
আরেকটি উদাহরণ :
সালাহদ্দিন আইউবী যখন জেরুজালেম জয় করেন তখনকার একটি ঘটনা। তিনি ঘোষণা দিলেন : যে এই দেশের রাজা রিচার্ডকে হত্যা করতে পারবে সে এই রাজ্যের রাজকন্যাকে পাবে এবং তার সাথে বিয়ে দেয়া হবে। অতঃপর তুমুল যুদ্ধ হলো এবং একসময় ঐ রাজ্য এবং রাজকন্যা মুসলিমদের দখলে আসলো। এবার সালাহদ্দিন আইউবী ঘোষণা দিলেন কে এই রাজ্যের রাজা রিচার্ডকে হত্যা করেছে? সে এসে এই রাজকন্যাকে নিয়ে যাও। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে সৈন্যদের থেকে কেউ এগিয়ে আসছে না। বাবাকে হত্যা করার সময় রাজকন্যা সেই হত্যাকারীকে দেখেছিল। তখন তিনি ঐ সৈন্যকে দেখিয়ে দিলেন যে এই সেই লোক যিনি আমার বাবাকে হত্যা করেছে। তখন সালাহদ্দিন আইউবী তাকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি রাজকন্যাকে নিতে আসছিলে না কেন? তখন ঐ সৈন্য উত্তরে বলেছিল যে, আমি তো রাজকন্যাকে পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করিনি, আমি যুদ্ধ করেছি আল্লাহকে সন্তষ্ট করার জন্য। এই ঘটনাতেও দেখা যাচ্ছে প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয়।