hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬

বর্তমান বিশ্বের একজন রাষ্ট্রপ্রধানের তাকওয়ার দৃষ্টান্ত

সংঘাত-সংশয়-বিশৃঙ্খলার সময় প্রথম শিকার হয় সত্য। কেননা কোন জালিম অত্যাচারীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে সত্যকে বিকৃত করে তার নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা। সত্য ব্যতীত আমরা বুঝতে পারি না কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল । সত্য ব্যতীত সবই মিথ্যা, সবই অবিচার । মিশরেও আজ এই অবস্থাই চলছে যেখানে রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করে বন্দী করে রাখা হয়েছে। কিন্তু তাকে আমরা ভালোবাসি আর ঘৃণা করি তার চারিত্রিক এইগুনগুঅে হয়তো সত্যিকারের মানুষটির প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয় ঘটাবে ।

১. কুরআনে হাফিজ প্রেসিডেন্ট মুরসী: একথাটি অনেকেই আমরা জানি না যে প্রেসিডেন্ট মুরসী সম্পূর্ণ কুরআনে ছিলেন হাফিজ। তার শুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত ছিল অসাধারণ এবং হৃদয়গ্রাহী ।

২. অত্যধিক জ্ঞানী প্রেসিডেন্ট মুরসী : অনেকেরই ধারনা মুরসী অত বুদ্ধিমান ছিলেন না। কিন্তু মুরসীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেকেরই অজানা। তিনি পিএইচডি ডিগ্রীধারী ডক্টরেট, তিনি জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রধান ছিলেন। তিনি আমেরিকাতে বিভিন্ন প্রজেক্টে কনসালটেন্সি করেছেন এবং সেখানে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

৩. সাধারণ জীবনযাপনে প্রেসিডেন্ট মুরসী: মিশরের প্রেসিডেন্টদের জন্য বিভিন্ন বিলাসবহুল প্রাসাদ বরাদ্দ থাকলেও প্রেসিডেন্ট মুরসী তার জন্য। বরাদ্দকৃত প্রাসাদে প্রথম ঢুকেই সিদ্ধান্ত নেন তিনি সেখানে থাকবেন না। তিনি তার অফিসিয়াল কাজকর্ম প্রাসাদ থেকে পরিচালনা করলেও, তার ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টেই বসবাস করতেন। বর্তমান মুসলিম অনেক নেতাদের টয়লেটও হয়তো এই প্রেসিডেন্টের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বড় ও অত্যাধুনিক ।

৪. রাষ্ট্রের বাড়তি সুবিধা নিতে অস্বীকৃতি প্রেসিডেন্ট মুরসীর : প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময় মুরসীর বোন অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডাক্তাররা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাশ্চাত্যে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন, এবং মেডিকেলের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ব্যবহার করার অনুমতি চান। কিন্তু মুরসী বলেন তিনি তার পরিবারের জন্য কোন বাড়তি সুবিধা নেবেন না। তার বোন সরকারী হাসপাতালেই মৃত্যুবরণ করেন।

৫. আযান ও সলাত প্রাধান্য পেত তার বক্তৃতার আগে : একদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতার মাঝে আযান শুরু হয়। তিনি বক্তৃতা বন্ধ করে আযানের জবাব দিতে থাকেন এবং অতঃপর সবাইকে নিয়ে সলাত আদায় করেন।

৬. একজন গৃহহারার প্রতি দয়া প্রেসিডেন্ট মুরসীর: একজন গৃহহারা বিধবা মহিলা রাস্তায় জীবনযাপন করতেন। একদিন একটি গাড়ি তার পাশে এসে থামে যার ভেতর থেকে মুরসী নেমে তাকে জিজ্ঞেস করেন কেন তিনি রাস্তায় শুয়ে আছেন। মহিলা তার দুঃখের কথা খুলে বললে, তিনি আদেশ দেন মহিলাকে যেন সরকারী খরচে একটি বাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়া হয় ।

৭. স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রেসিডেন্ট মুরসী: মুরসী বিভিন্ন দান-অনুদান প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতেন। দক্ষিণ এশিয়ার ভয়াবহ সুনামীর পর তিনি সাহায্য মিশনে সেখানে আর্তদের সহায়তায় ছুটে গিয়েছিলেন।

৮. দুনিয়ার সবচেয়ে কম বেতনপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মুরসী: বর্তমান বিশ্বে খেলোয়াড় কিংবা নায়ক নায়িকাদের আয় শুনলেই আমাদের অবাক লাগে, আমরা ধরেই নেই রাজনৈতিক নেতাদের বেতন হবে আকাশচুম্বী। কিন্তু মুরসী ছিলেন ব্যতিক্রমী। তিনি নির্ধারণ করেন তার বাৎসরিক বেতন হবে ১০,০০০ ডলার। তাকে অপহরণ করার সময় জানা যায়, তিনি আসলে কোন বেতনই গ্রহণ করেননি। তিনি পুরো সময় বিনামূল্যে দেশের জন্য কাজ করেছেন।

৯. সলাতের ব্যাপারে সতর্ক প্রেসিডেন্ট মুরসীঃ মুরসী পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন এবং নিয়মিত তাহাজ্জুদ সলাতও আদায় করতেন। তিনি সাধারণত জামাতে ইমামতি করতেন, তারাবীহও পড়াতেন। জুমার খুতবায় তাকে প্রায় কাঁদতে দেখা যেত।

১০. প্রেসিডেন্ট মুরসীর ছবি বিহীন অফিসের দেয়াল : সারাবিশ্বে আমরা দেখি সরকারী, আধা-সরকারী ও বেসরকারী অফিস-আদালতের দেয়ালে নেতা নেতৃদের ছবি। কোন কোন দেশে এটি সরকারী আদেশ। মুরসী নির্বাচিত হওয়ার পরপর তিনি আদেশ জারি করেন তার কোন ছবি সরকারী ভবনে ঝোলানো যাবে না।