hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৯

আমাদের মৌলিক দুর্বলতা

কিছু কিছু মৌলিক দুর্বলতা প্রতিটি মানুষের ভিতরে তার জন্মলগ্ন থেকেই থাকে, কিন্তু সেই দুর্বলতাগুলো থাকে সুপ্ত অবস্থায়। মানুষ যখন দিন দিন বড় হতে থাকে, তার ঈমানী দুর্বলতার কারণে সেগুলো ক্রমশঃ প্রকাশ পেতে থাকে। যেমন : মানুষের মন চায় রিয়া করতে, গীবত করতে, হিংসা করতে, দাম্ভিকতা করতে, মিথ্যা কথা বলতে, চোগলখুরী করতে, লোভ করতে, ঝগড়া করতে, কাউকে ঠকাতে, যিনা করতে, অবৈধ আয়-রোজগার করতে, ইবাদতে অনিহা, শিরক-বিদ’আত ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু তার ভিতরের তাকওয়ামিশ্রিত মজবুত ঈমান তা করতে বাধা দেয়; যার কারণে সে এগুলো থেকে বিরত থাকে। আর যার ভিতরে তাকওয়ার গভীরতা কম বা দুর্বল এবং যার ঈমান নড়বড়ে, সেই সুপ্ত মৌলিক দুর্বলতাগুলো তখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে এবং বাইরে প্রকাশ পায় । নীচের diagram টির প্রতি লক্ষ্য করা যাক:

দূর্বল নফস

গীবত

সন্দেহ

হিংসা

কটুক্তি

রিয়া

গোয়েন্দা গিরী

চোগলখোরী

মিথ্যা

লোভ

আমাদের চরিত্র থেকে উপরের মৌলিক দুর্বলতাগুলো দূর করতে তাকওয়ার গভীরতা বাড়াতে হবে। আর সেই তাকওয়া বাড়ানোর প্রথম ধাপ হচ্ছে ঐ তিনটি পদক্ষেপ যা পরবর্তী পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে (তাহাজ্জুদ সলাত, ইতিকাফ ও মৃত্যুচিন্তা)। তাকওয়া অর্জনের উপায় উপায়টা আল্লাহ তাঁর কুরআনে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, আর সেটা হলো আল্লাহর ইবাদত। ইবাদতের ফসলই হলো তাকওয়া। আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে -

ক) হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রভুর রিবের ইবাদত কর যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, এবং তোমাদের পূর্বপুরুষগণকেও সৃষ্টি করেছিলেন যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী মুত্তাকী হতে পার। (সূরা বাকারা, ২ : ২১)

খ) হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্যে সিয়ামের (রোযার বিধান দেয়া হলো যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেয়া হয়েছিল যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (সূরা বাকারা, ২: ১৮৩)।