১
তাকওয়া
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৬
সন্তান প্রতিপালনে তাকওয়া
সূরা মুনাফিকুন এর ৯ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সতর্ক করে বলেছেন : “মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে না দেয়। আবার সূরা আততাগাবুন এর ১৫ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন : “তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল পরীক্ষাস্বরূপ। আর আল্লাহর কাছে রয়েছে। মহাপুরষ্কার”। সন্তান-সন্ততির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা কত কিছুই না করছি। আর সেই সন্তান যদি সত্যিকার অর্থে “মুসলিম” না হয় তাহলে আমাদেরকে আখিরাতের ময়দানে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে। এবং এই সন্তানই ঐদিন তার পিতা-মাতার বিরুদ্ধে সাক্ষি দেবে । তাই আমরা যেন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে one-way চিন্তা না করি । পিতামাতারা সন্তানদের ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ব্যর্থ হলে এর জন্যে একদিন চরম মাশুল দিতে হবে । যদি মনে করি যে ভাল স্কুলে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিলেই আমি চিন্তামুক্ত, এখন কেবল সন্তানের ভাল, রিজাল্টস্ আর ভাল চাকুরীর অপেক্ষা, আর এভাবেই আমার সন্তান একজন বড় কর্মকর্তা হবেন। এভাবে ওয়ান ওয়ে চিন্তা করলে আমার সন্তান একজন বড় কর্মকর্তা হওয়ার পাশাপাশি একজন অমানুষ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। কারণ স্কুল, কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার এমন কোন ব্যবস্থা নেই যেখানে নীতি নৈতিকতা শেখানো হয় যা ইসলামের সংগে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই আমাদের প্রজেক্ট হবে সন্তানদের তাকওয়ার ভিত্তির উপর একজন ভাল একাডেমিক হওয়ার পাশাপাশি একজন ভাল মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলা।