১
তাকওয়া
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪
ঈমানের উপর টিকে থাকা
ঈমান এমন কোন বিষয় বা বস্তু নয় যা একবার অর্জন করলে এটা আর আমাকে ছেড়ে যাবে না। এ ঈমান না চাইলে তা সাধারণত কাউকে দেয়া হয় না এবং ধরে রাখতে না চাইলে তা থাকে না। ঈমানকে সবসময় তাকওয়ার মাধ্যমে Renew করতে হয়। আমার এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে একবার ঈমান যখন এনেছি এটা আমার মৃত্যুর দিন পর্যন্ত আমার সাথে সাথে থাকবে । ঈমানের উঠা-নামা নির্ভর করে আমার প্রতিদিনের কর্মের উপর । উপরের গ্রাফের মাধ্যমে উদাহরণস্বরূপ এটাই বোঝানো হয়েছে। আসুন, উপরের গ্রাফটা আমরা খুব গভীরভাবে বুঝার চেষ্টা করি । নিচের লাইনে যে বিষয়গুলো দেখানো হয়েছে সেগুলো হচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের কিছু কাজকর্মের উদাহরণ । আমি যদি নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবি করি তাহলে আমার প্রতিটি কাজকর্ম হবে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী এবং এটাই আমার প্রতিটি কাজের Measurement Scale অর্থাৎ মাপকাঠি। যেমন আমার প্রতিদিনের কাজের মধ্যে কোন কাজ খুব কোয়ালিটিসম্পন্ন অর্থাৎ ঐ কাজটি আমি প্রচন্ডভাবে তাকওয়া মেনে সম্পন্ন করছি, সে ক্ষেত্রে আমার ঈমানের ‘লাইন গ্রাফ’ খুব উচুতে উঠে গেছে। আবার কোন কাজের ক্ষেত্রে মাঝামাঝি তাকওয়া রক্ষা করা হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে আমার ঈমানের ‘লাইন গ্রাফ হয়তো ৫০ এর বরাবর স্পর্শ করছে। আবার দেখা যাচ্ছে কোন বিষয়ে আমার একদম তাকওয়া নেই অর্থাৎ এ কাজে আমি একেবারেই আল্লাহর হুকুম মানছি না, সে ক্ষেত্রে আমার ঈমানের ‘লাইন গ্রাফ’ একেবারেই শূন্যের কাছাকাছি নেমে গেছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে আমার প্রতিদিনের কাজকর্মে কোন বিষয়ে আল্লাহকে খুব মানছি, আবার কোন বিষয়ে কম মানছি, বা কোন বিষয়ে একেবারেই মানছি না। অর্থাৎ কোন বিষয়ে আমার ঈমান খুব মজবুত, আবার কোন বিষয়ে মাঝামাঝি বা নড়বড়ে। তার মানে প্রতিটি কাজের উপর নির্ভর করে আমার ঈমান সারাক্ষণ উঠা-নামা করছে। তাই মহান আল্লাহর নিকট সব-সময় জিকির">দু’আ করতে হয় “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিও।” কারণ আমি সারা জীবন ঈমানদার ছিলাম কিন্তু দেখা গেল কোন কারণে মৃত্যুর আগে ঈমানহারা হয়ে গেলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের উপর টিকে থাকার তৌফিক দান করুন।