hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

সকল সমস্যার মূল হচ্ছে আংশিক বা ভুল ঈমান

ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা

মানব জীবনের যে গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়েই আলোচনা-পর্যালোচনা বা গবেষণা শুরু করা হোক তা প্রভাবিত হবে ঈমানী জ্ঞান, এর সঠিক উপলব্ধি (knowledge & understanding) ও জ্ঞানের গভীরতার উপর। যে কোন সমস্যা সমাধানে কিছু মৌলিক নীতিমালা মেনে চলতে হয়। মানব-সমস্যা বিশ্লেষণে ঈমানকে সামনে রেখেই যাবতীয় সূত্র, বিধি ও সমাধান হওয়ার নীতিমালা মেনে চলা কল্যাণকর। এর বাইরে যে সমাধানেরই চেষ্টা করা হোক তা হবে আংশিক, অপূর্ণাঙ্গ ও ক্ষণস্থায়ী। কারণ এতে সবচাইতে বড় ফ্যাক্টর ঈমানকে অগ্রাহ্য করে নিজের অজান্তে মানুষের ক্ষতি ডেকে আনা হয়। ফলে মানুষ কোন বিষয়ে আজ এক কথা বলে তো কাল আরেক সূত্র আবিষ্কার করে । আর ঈমান মানে আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস, মানুষের কল্যাণের জন্য তিনি যে মৌলিক বিধি বিধান পাঠিয়েছেন তার উপরও সমভাবে বিশ্বাস স্থাপন। এটিই ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ দাবী। আমরা যদি মানব জীবনের মৌলিক বিষয়ে (যেমনঃ এর শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনৈতিক নীতিমালা, শ্রমনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রগঠন, অপরের কল্যাণ কামনা, পরিবার গঠন ইত্যাদি) যদি কোন আধুনিক ও যুগোপযোগী সমাধান বের করতে চাই তাহলে সেইগুলির ব্যাপারে আল্লাহর কোন নির্দেশনা আছে কিনা তা অবশ্যই শুরুতেই দেখে নিতে হবে। কারণ তা না হলে আমাদের ঈমান কেবল প্রশ্নের মুখোমুখি নয় বরং আল্লাহর নির্ভুল নির্দেশ অমান্য করে যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে তা হবে পুরো মানবজাতির উপর যুলুমের শামিল।

আংশিক বা ভুল ঈমান

ঈমানদারগণের সকল ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ব্যর্থতার জন্য দায়ী আংশিক বা ভুল ঈমান। ঈমানের প্রকৃত সংজ্ঞা, ঈমানের দাবী, এর ভিত্তি, ঈমানের শাখা প্রশাখা, ঈমান বৃদ্ধির উপায়, ঈমানকে সতেজ রাখার উপকরণ ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানের অভাব একজন ঈমানদারের ইহকাল ও পরকালকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ বিষয়ে ভুল জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য সমাজকে সংক্রমিত করে, রাষ্ট্রীয় চরিত্রের উপরও এর ক্ষতিকর ছাপ ফেলে। ঈমানের বুঝ ও গভীরতার উপর নির্ভর করে মানুষের আচার-আচরণ ও সারাদিনের কর্মতৎপরতা। ফলে একজন ঈমানদার কবির লেখনী অন্য যে কোন কবির লেখনী হতে সুস্পষ্টভাবে ভিন্ন হবে। সঠিক ঈমানের অধিকারী মন্ত্রী আর অপর মন্ত্রীদের কর্ম খুব সহজেই ভিন্ন হবে। একজন ঈমানদার ট্যাক্সি ড্রাইভার আরেকজন ঈমান বিহীন ট্যাক্সি ড্রাইভারের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা হবে ।

ঈমানদারদের করণীয়

একজন ব্যক্তি মুসলিম হওয়ার পর তার সর্বপ্রথম দায়িত্ব ঈমানের পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হওয়া। ঈমানদারদের উপর আল্লাহর হক (অধিকার) কী কী তা জেনে নেয়া। জীবনের গতির সঠিক লক্ষ্য ঈমানের আলোকে ঠিক করে নেয়া, সফলতা ও ব্যর্থতার মাপকাঠি আল্লাহর দেয়া সংজ্ঞার আলোকে নির্ধারণ করা, ঈমানের সাথে সংগতি রেখে আনন্দ ও বেদনার সীমা জেনে নেয়া, ঈমানের মেজাজে বন্ধু ও শত্রর বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করা, প্রতিবেশীর অধিকার ও তাদের প্রতি আচরণ ইত্যাদি জেনে তদনুযায়ী কাজ করা, অন্যের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হওয়া, ঈমানকে সবসময় সঙ্গে রাখা। বান্দার উপর আল্লাহর হকের ব্যাপারে, মাতাপিতার অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে, ওয়াদা করার সময়, আমানত রক্ষার ক্ষেত্রে, ওজন করার সময়, ঋণ নেয়া ও পরিশোধের সময় - অর্থাৎ সকল সময় ঈমানকে সতেজ ও স্মরণে রেখে কাজ করা জরুরী। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায়কারী ব্যক্তির পক্ষে ঈমান সম্পর্কে সঠিক। ধারণা না থাকার কারণে ওজনে কম দেয়া সম্ভব। ঈমানের মৌলিক জ্ঞান না থাকার কারণে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সিয়াম পালনকারীর পক্ষেও আমানতের খেয়ানত করা সম্ভব। হাজী হয়েও ওয়াদা খেলাফ করা মামুলী ব্যাপার হতে পারে, সব আনুষ্ঠানিক ইবাদত সম্পাদন করেও মিথ্যা বলা সম্ভব । পিতামাতার সন্তুষ্টির প্রতি চরম অবহেলা, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের হক আদায়ে উদাসীনতা, গরীব আত্মীয়-স্বজনকে শুধু নামের জন্য দান সদকা করা, মিসকিনের প্রতি অবজ্ঞা দেখানো এ ধরণের ব্যক্তিদের পক্ষে বিচিত্র কিছু নয়।