hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬২

তাকওয়ার বাস্তব রূপ

প্রথম বিভাগ (শাখা):

১) পথনির্দেশ (guidance), কারণ আল্লাহ বলেছেন কুরআন মুত্তাকীদের জন্যে পথনির্দেশ। (২ : ২)

২) সাহায্য, কারণ আল্লাহ বলেছেন তিনি মুত্তাকীদের সংগে আছেন। (২: ১৯৪)

৩) গভীর বন্ধুত্ব আল্লাহর সংগে], কারণ আল্লাহ বলেছেন যে তিনি মুত্তাকীদের অন্তরঙ্গ বন্ধু । (২: ২৫৭; ৯ : ৪)। ৪) ভালোবাসা, কারণ আল্লাহ বলেছেন যে তিনি মুত্তাকীদের ভালোবাসেন। (৩: ৭৬)

৫) পাপ ঢেকে রাখা, কারণ আল্লাহ বলেছেন তিনি মুত্তাকীদের পাপ কাজ ঢেকে রাখবেন। (৮ ও ২৯; ৩৩ : ৭১)। ৬) দুঃখ থেকে মুক্তি ও রিযিক লাভ, কারণ আল্লাহ বলেছেন যে মুত্তাকীদের তিনি দুঃখ-দুর্ভাবনা থেকে মুক্তির উপায় বের করে দেবেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে তাদের রিযিক দান করবেন।

৭) পাপমুক্তি ও অগাধ পুরস্কার, কারণ আল্লাহ বলেছেন যে মুত্তাকীদের তিনি পাপমুক্ত করবেন এবং অগাধ পুরস্কার দেবেন। (৬৫৪৫; ৫৭:২৮; ৮:২৯)

৮) সংকট থেকে উদ্ধার, কারণ আল্লাহ বলেছেন যে মুত্তাকীদের জন্যে সবকিছু সহজ করে দেবেন।

৯) আমল গ্রহণ, কারণ আল্লাহ বলেছেন যে তিনি শুধু মুত্তাকীদের আমলই কবুল করবেন। (৫: ২৭)

১০) সফলতা লাভ, কারণ আল্লাহ বলেছেন যে তাকওয়া অবলম্বন করলে তিনি সফলতা দেবেন। (২ : ৫)।

১১) সুসংবাদ (শুভ সংবাদ), কারণ আল্লাহ বলেছেন যে মুত্তাকীদের জন্যে দুনিয়া ও আখিরাতের সুসংবাদ রয়েছে। ১২) জান্নাতে প্রবেশ, কারণ আল্লাহ বলেছেন যে বাস্তবিকই মুত্তাকীদের স্থান হবে আল্লাহর শান্তিময় জান্নাতে। (১৫: ৪৫)।

১৩) উদ্ধার, মুক্তি, নাজাত লাভ (salvation), কারণ আল্লাহ বলছেন যে: আমি মুত্তাকীদের রক্ষা করবো, জাহান্নামের আগুন থেকে ।

দ্বিতীয় বিভাগ (শাখা):

১) আখিরাতে শাস্তির (আযাবের) ভয় ।

২) দুনিয়াতে শাস্তির ভয়।

৩) দুনিয়াতে পুরস্কার লাভের আশা।

৪) আখিরাতে পুরস্কার লাভের আশা।

৫) আখিরাতে বিচারের ভয় ।

৬) আল্লাহর সম্মুখে লজ্জা।

৭) আল্লাহর রহমতের জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ।

৮) জ্ঞান লাভ করা, কারণ আল্লাহ বলেছেন যে তাঁর সেই সব বান্দাই তাঁকে ভয় করে যারা জ্ঞানী।

৯) আল্লাহর অকুণ্ঠ প্রশংসায় মুখর থাকা।

১০) আল্লাহর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।

তৃতীয় বিভাগ (শাখা):

১) বান্দা নিজেকে কুফর থেকে বাঁচিয়ে রাখবে, সত্যকে ঢেকে রাখবে না। এটা ইসলামের স্তর (মোকাম)।

২) সে আল্লাহর আদেশের অবাধ্যতা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে, নিষিদ্ধ বস্তু থেকে দূরে থাকবে । এটা তাওবার স্তর (মোকাম)।

৩) সে সন্দেহজনক বস্তু ও বিষয় থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে। এটা সতর্ক থাকার (ওয়ারার) স্তর (মোকাম)। বান্দার হৃদয়ে তখন শুধু সে আল্লাহরই উপস্থিতি অনুভব করবে যেন সে সেই মহান সত্তাকেই দেখছে।