hadith book logo

তাকওয়া

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৮

দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর পথে ব্যয় করা

আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার খাতে আমাদেরকে মাল সম্পদ খরচ করতে হবে কেন? আল্লাহর তা'আলা তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে তাঁর পথে জিহাদের যে আহবান দিয়েছেন তার মধ্যেই উপরিউক্ত প্রশ্নটির উত্তর রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলার ঘোষণা : “তোমরা সংগ্রাম কর আল্লাহর পথে মাল দিয়ে এবং জান দিয়ে।” অর্থাৎ দ্বীন প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রামে অর্থের কুরবানী এবং শ্রম ও সময়ের কুরবানীর প্রয়োজন আছে। এই দুটো জিনিসের কুরবানী দেয়ার মত একদল মু'মিন, মুজাহিদ তৈরি হলেই আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বিজয় হবে। যেমন বিজয়ী হয়েছিল রসূলে পাক -এর নেতৃত্বে সাহাবায়ে কিরামের (রাদিআল্লাহু আনহু) মালের কুরবানী ও জানের কুরবানীর বিনিময়ে। আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার এই মহান সংগ্রাম দাবী করে যে এ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী সৈনিকদের কাছে তাদের নিজের জান ও মালের তুলনায় তথা ইহ জাগতিক যাবতীয় স্বার্থ ও লোভ-লালসার তুলনায় আল্লাহর রহমত ও সন্তোষই হতে হবে অধিকতর প্রিয় । আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেছেন ।

“তাদের আল্লাহর পথে লড়াই করা উচিত যারা আখিরাতের বিনিময়ে এই দুনিয়ার জীবনকে বিক্রি করতে পারে। আর যারাই আল্লাহর পথে সংগ্রামে অংশ নেবে অতঃপর নিহত হবে অথবা বিজয়ী হবে, উভয় অবস্থায় আমি তাদেরকে মহান প্রতিদানে ভূষিত করবো।” (সূরা নিসা : ৭৪)

উল্লিখিত আয়াতে কথা পরিষ্কারভাবে এসেছে। আল্লাহ্ তা'আলা যাকে-তাকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অংশ নিতে বলেননি। যারা এই দুনিয়ার জীবনের তুলনায় আখিরাতের জীবনকে অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম, কেবলমাত্র তারাই এ কাজের যোগ্য। আর যারা এর বিপরীত অর্থাৎ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে অগ্রাধিকার দেয় তারা এ কাজের যোগ্য হতে পারে না। আল্লাহ্ তাআলা এ সম্পর্কেও বলেন : “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমাদের আল্লাহর পথে বেরিয়ে পড়ার ডাক দিলে তোমরা মাটি কামড়ে ধর। তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট হয়ে গেলে। অথচ দুনিয়ার এই ধন-সম্পদ আখিরাতে অতি সামান্যই কাজে আসবে।” (সূরা তাওবা ও ৩৮)

প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর পথে চলার ক্ষেত্রে এই দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও ভোগবিলাসের মোহই প্রধান অন্তরায়। এই মোহ কাটিয়ে উঠতে যাতে আমরা সক্ষম। হই সে জন্যেই আল্লাহ তা'আলা আমাদের জানের কুরবানী পেশ করার ব্যাপারে বেশি বেশি করে তাকিদ করেছেন। এভাবে আল্লাহর পথে বেশি বেশি করে মাল খরচের মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার বৈষয়িক ও পার্থিব জীবনের মোহ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হতে পারি এবং আল্লাহ্র পথে স্বচ্ছন্দে এগিয়ে যেতে পারি । আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয়ের প্রধান উদ্দেশ্য এটাই।

তাকওয়া বৃদ্ধির আরো কিছু উপায়

১) শুরুতেই অন্তরে তাকওয়ার চাষ করা;

২) গুনাহের জন্যে অনবরত আল্লাহর কাছে তওবা করা;

৩) সর্বদা আত্মশুদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া;

৪) সৎকাজ (আমলে সলেহা) করা;

৫) আল্লাহতে অকপটভাবে ঈমানী নির্ভরতা রাখা;

৬) সর্বাবস্থায় সবর করা;

৭) সর্বক্ষেত্রে ন্যায়নীতি (Justice) মেনে চলা।

আল্লাহর রহম্বত ও ভালোবাসা হারানোর কারণগুলো, যেগুলোকে বর্জন (পরহেজ) কৱা অতি জরুরী

১) অন্যায় কাজ, অবিচার, অত্যাচার;

২) দুর্নীতি ও দুষ্কর্ম;

৩) অকৃতজ্ঞতা।

৪) দ্বীনকে অস্বীকার করা;

৫) অপচয়;

৬) বদমেজাজ, উদ্ধত-গর্বিত আচরণ ।

তাকওয়ার সুফলগুলো [সুরা আনফাল (৮) : ২৯]

১) আল্লাহর হিদায়াত লাভ করা;

২) আল্লাহর রহমত লাভ করা;

৩) আল্লাহর ক্ষমা লাভ করা;

৪) আল্লাহর কাছে থেকে স্বচ্ছ দৃষ্টি, বিচক্ষণতা ও সৎ-সঠিক জ্ঞান লাভ;

৫) আল্লাহ তাঁর বান্দার কাজ সহজ করে দেবেন;

৬) দুনিয়া ও আখিরাতে সাফল্য লাভ করা।

সঠিক পথ ও ভ্রান্ত পথ এই দুই পথেরই বর্ণনা কুরআনে রয়েছে। নিজেদের বিবেক-বিবেচনাকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পথে চলার নির্দেশও সেখানে রয়েছে। ভ্রান্ত পথে চললে শেষ পরিণতি অতি মন্দ সেকথাও বলা হয়েছে। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পূর্ণভাবে মেনে আত্মাকে পরিশোধন করে আল্লাহর দেখানো পথে চলার পুরস্কারের নিশ্চয়তাও রয়েছে। তাকওয়া অবলম্বনে হিদায়াত পাওয়া যাবে, অন্তর নির্মল-নিষ্কলুষ থাকবে, আল্লাহ খুশী হবেন। আখিরাত আনন্দময় হবে। একথাগুলো বুঝতে হবে, পালন করতে হবে, তবেই আল্লাহর নৈকট্য ও রহমত লাভ করা যাবে । মুমিনের তাকওয়াই তাকে আলোর সন্ধান দেবে।