১
ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস
লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
সালাতের কিছু আহ্কাম
১। পূর্বের সুন্নতঃ ইহা ফরযের পূর্বে আদায় করতে হয় আর ফরযের পরের সুন্নত ফরযের পরে আদায় করতে হয়।
২। সালাতে দাঁড়াতে হবে ধীরস্থির ভাবে। সিজদার জায়গাতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে। এদিকে ও দিকে তাকানো নিষেধ।
৩। যখন ইমাম সাহেবের ক্বিরাত শুনা যায় তখন খুব খেয়ালের সাথে তা শুনতে হবে। আর যদি তা শুনা না যায়, তবে নিজে মনে মনে ক্বিরাত পড়তে হবে।
৪। জুম‘আ এর ফরয ২ রাকা‘আত। আর ইহা মসজিদ ছাড়া অন্যত্র পড়া যাবে না। মসজিদে খুতবার পর তা পড়তে হবে।
৫। মাগরিবের ফরয ৩ রাকাত । প্রথম ২ রাক‘আত ফজরের ২ রাকা‘আতের মতই পড়তে হবে ২ রাকা‘আত শেষে আত্তাহিয়াতু পড়ে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়াতে হবে তৃতীয় তৃতীয় রাকা‘আত পড়ার জন্য। তখন দুই হাত কাধ পর্যন্ত উঠাতে হবে। তারপর সূরা ফাতিহা পড়ে পূর্ব বর্ণিত নিয়মে রুকু, সিজদা করে দ্বতীয় বারের জন্য তাশাহুদের আসনে বসতে হবে। এভাবে সালাত পুরা করে ডানে ও বামে সালাম ফিরাতে হবে।
৬। জোহর, আসর ও এশারের ফরয ৪ রাকা‘আত করে। প্রথম ২ রাকা‘আত ফজরের ২ রাক‘আতের মত আদায় করে আত্তাহিয়াতু পড়তে হবে। সালাম না ফিরিয়ে আল্লাহু আকবার বলে দৃতীয় রাক‘আতের জন্য উঠে দাঁড়াতে হবে এবং শুধু সূরা ফাতেহা পড়তে হবে। সালাম না ফিরিয়ে আল্লাহু আকবার বলে তৃতীয় রাক‘আতের জন্য উঠে দাঁড়াতে হবে এবং শুধু সূরা ফাতেহা পড়তে হবে। এমনি ভাবে চতুর্থ রাকা‘আত পড়ে একইভাবে আত্তাহিয়াতু সম্পুর্ণ পড়ে ও অন্যান্য দু‘আ পড়ে সালাম ফিরাতে হবে ডানে ও বামে।
৭। বিতরের নামাজ ৩ রাকাত। প্রথমে ২ রাক‘আত আদায় করে সালাম ফিরাতে হবে। (প্রথম রাকা‘আতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা আ‘লা এবং দ্বিতীয় রাকা‘আতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা কাফিরুন পড়ার ব্যাপারে সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত আছে। অত:পর ১ রাকা‘আত করে সালাম ফিরাতে হবে। উত্তম হচ্ছে রুকুতে যাবার পূর্বে নিম্মের দুআয়ে কুনুত পড়াঃ
اللهم اهدني فيمن هديت وعافني فيمن عافيت وتولني فيمن توليت وبارك لي فيما أعطيت وقني شرما قضيت فإنك تقضي ولا يقضى عليك إنه لايذل من واليت ولايعز من عاديت تباركت ربنا وتعاليت ) رواه أبوداؤد (
(আল্লাহুম্মা ইহদিনী ফীমান হাদাইতা, ওয়া ‘আফিনী ফীমান ‘আফাইতা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওল্লাইতা, ওয়া বারিকলী ফীমা আ‘ফাইতা, ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বদাইতা, ফা ইন্নাকা তাক্বদী ওয়ালা ইয়াক্বাদা আলাইকা। ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা, ওয়ালা ইয়া‘ইয্যু মান ‘আদাইতা, তাবারাকতা রাব্বানা ওয়াতা আলাইতা)। (বর্ণনায় আবু দাউদ)
(হে আল্লাহ ! আমাকে ও ঐ সমস্ত লোকদের মাঝে সামিল করুন যাদের আপনি হেদায়েত দিয়েছেন। যাদের সুস্থ রেখেছেন আমাকেও ঐ দলে সামিল করুন। আপনি যাদেরকে নিজ দায়িত্বে নিয়েছেন আমাকেও তাদের দলে সামিল করুন। আর আমাকে যা দান করেছেন তাতে বরকত দান করুন। আর আমার সম্পর্কে যদি কোন খারাবী লিখে থাকুন তা থেকে আমাকে অব্যাহতি দান করুন। কারণ, আপনিই এগুলো নির্দিষ্ট করেন, অন্য কেউ আপনার উপর তা আরোপ করতে পারে না। আপনি যাকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেন তাকে কেউ অপমান করতে পারে না। আর যার সাথে শত্রতা পোষণ করেন সে কখনও সম্মানি হতে পারে না। হে আমাদের রব ! তুমি বরকতময় এবং সুমহান ও উচু।
৮। সালাতে ইমামের সাথে যোগ দিতে তাড়াহুড়া করলে চলবে না। বরং সালাতে দাঁড়িয়ে তকবীর দিয়ে তারপর রুকুতে যেতে হবে, যদিও ইমাম রুকুতে থাকুন না কেন। তারপর রুকুতে যান। ইমাম রুকু হতে উঠার পূর্বেই যদি আপনি রুকুতে যেতে পারেন তবেই ঐ রাক‘আত ইমামের সাথে পেলেন। আর রুকু না পেলে আপনি ঐ রাকাআত পেলেন না।
৯। যদি ইমামের সাথে সালাতে যোগ দিয়ে দেখেন যে, ২/১ রাক‘আত ছুটে গেছে তবে ইমামের পিছনে বাকী সালাতে শরীক হন। তিনি সালাম ফিরালে আপনি সালাম না ফিরিয়ে উঠে বাকী রাক‘আতগুলো আদায় করুন।
১০। সালাতে তাড়াহুড়া করবেন না। কারণ তাতে সালাত নষ্ট হয়ে যায়। একদা রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সাহাবীকে সালাতে তাড়াহুড়া করতে দেখলেন। তাকে ডেকে বললেনঃ (ফেরত যেয়ে আবার সালাত আদায় কর। কারণ, তুমি সালাত আদায় করোনি। তিনি এভাবে তিনবার বললেন। তৃতীয় বার ঐ সাহাবী বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সালাত শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ
কুকু‘তে যেয়ে পুর্ণ মাত্রায় স্থির হবে। তারপর রুকুর দু‘আ শেষে রুকু হতে উঠে ঠিকভাবে সোজা হয়ে দাড়াবে। তারপর সিজদা করবে পূর্ণ স্থিরতার সাথে। অতঃপর সম্পূর্ণ সোজা হয়ে বসবে। ( বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
১১। যদি সালাতের কোন ওয়াজিব ছুটে যায়। যেমন প্রথম বৈঠকে না বসে থাকেন অথবা কত রাক‘আত আদায় করেছেন তাতে সন্দেহ থাকে, তখন কম সংখ্যক রাক‘আত ধরে বাকী সালাত পূর্ণ করুন। তারপর সালাতের শেষে ২টা সিজদা দিয়ে সালাম ফিরাবেন। একে বলা হয় সাহু সিজদা।
২। সালাতে দাঁড়াতে হবে ধীরস্থির ভাবে। সিজদার জায়গাতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে। এদিকে ও দিকে তাকানো নিষেধ।
৩। যখন ইমাম সাহেবের ক্বিরাত শুনা যায় তখন খুব খেয়ালের সাথে তা শুনতে হবে। আর যদি তা শুনা না যায়, তবে নিজে মনে মনে ক্বিরাত পড়তে হবে।
৪। জুম‘আ এর ফরয ২ রাকা‘আত। আর ইহা মসজিদ ছাড়া অন্যত্র পড়া যাবে না। মসজিদে খুতবার পর তা পড়তে হবে।
৫। মাগরিবের ফরয ৩ রাকাত । প্রথম ২ রাক‘আত ফজরের ২ রাকা‘আতের মতই পড়তে হবে ২ রাকা‘আত শেষে আত্তাহিয়াতু পড়ে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়াতে হবে তৃতীয় তৃতীয় রাকা‘আত পড়ার জন্য। তখন দুই হাত কাধ পর্যন্ত উঠাতে হবে। তারপর সূরা ফাতিহা পড়ে পূর্ব বর্ণিত নিয়মে রুকু, সিজদা করে দ্বতীয় বারের জন্য তাশাহুদের আসনে বসতে হবে। এভাবে সালাত পুরা করে ডানে ও বামে সালাম ফিরাতে হবে।
৬। জোহর, আসর ও এশারের ফরয ৪ রাকা‘আত করে। প্রথম ২ রাকা‘আত ফজরের ২ রাক‘আতের মত আদায় করে আত্তাহিয়াতু পড়তে হবে। সালাম না ফিরিয়ে আল্লাহু আকবার বলে দৃতীয় রাক‘আতের জন্য উঠে দাঁড়াতে হবে এবং শুধু সূরা ফাতেহা পড়তে হবে। সালাম না ফিরিয়ে আল্লাহু আকবার বলে তৃতীয় রাক‘আতের জন্য উঠে দাঁড়াতে হবে এবং শুধু সূরা ফাতেহা পড়তে হবে। এমনি ভাবে চতুর্থ রাকা‘আত পড়ে একইভাবে আত্তাহিয়াতু সম্পুর্ণ পড়ে ও অন্যান্য দু‘আ পড়ে সালাম ফিরাতে হবে ডানে ও বামে।
৭। বিতরের নামাজ ৩ রাকাত। প্রথমে ২ রাক‘আত আদায় করে সালাম ফিরাতে হবে। (প্রথম রাকা‘আতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা আ‘লা এবং দ্বিতীয় রাকা‘আতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা কাফিরুন পড়ার ব্যাপারে সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত আছে। অত:পর ১ রাকা‘আত করে সালাম ফিরাতে হবে। উত্তম হচ্ছে রুকুতে যাবার পূর্বে নিম্মের দুআয়ে কুনুত পড়াঃ
اللهم اهدني فيمن هديت وعافني فيمن عافيت وتولني فيمن توليت وبارك لي فيما أعطيت وقني شرما قضيت فإنك تقضي ولا يقضى عليك إنه لايذل من واليت ولايعز من عاديت تباركت ربنا وتعاليت ) رواه أبوداؤد (
(আল্লাহুম্মা ইহদিনী ফীমান হাদাইতা, ওয়া ‘আফিনী ফীমান ‘আফাইতা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওল্লাইতা, ওয়া বারিকলী ফীমা আ‘ফাইতা, ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বদাইতা, ফা ইন্নাকা তাক্বদী ওয়ালা ইয়াক্বাদা আলাইকা। ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা, ওয়ালা ইয়া‘ইয্যু মান ‘আদাইতা, তাবারাকতা রাব্বানা ওয়াতা আলাইতা)। (বর্ণনায় আবু দাউদ)
(হে আল্লাহ ! আমাকে ও ঐ সমস্ত লোকদের মাঝে সামিল করুন যাদের আপনি হেদায়েত দিয়েছেন। যাদের সুস্থ রেখেছেন আমাকেও ঐ দলে সামিল করুন। আপনি যাদেরকে নিজ দায়িত্বে নিয়েছেন আমাকেও তাদের দলে সামিল করুন। আর আমাকে যা দান করেছেন তাতে বরকত দান করুন। আর আমার সম্পর্কে যদি কোন খারাবী লিখে থাকুন তা থেকে আমাকে অব্যাহতি দান করুন। কারণ, আপনিই এগুলো নির্দিষ্ট করেন, অন্য কেউ আপনার উপর তা আরোপ করতে পারে না। আপনি যাকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেন তাকে কেউ অপমান করতে পারে না। আর যার সাথে শত্রতা পোষণ করেন সে কখনও সম্মানি হতে পারে না। হে আমাদের রব ! তুমি বরকতময় এবং সুমহান ও উচু।
৮। সালাতে ইমামের সাথে যোগ দিতে তাড়াহুড়া করলে চলবে না। বরং সালাতে দাঁড়িয়ে তকবীর দিয়ে তারপর রুকুতে যেতে হবে, যদিও ইমাম রুকুতে থাকুন না কেন। তারপর রুকুতে যান। ইমাম রুকু হতে উঠার পূর্বেই যদি আপনি রুকুতে যেতে পারেন তবেই ঐ রাক‘আত ইমামের সাথে পেলেন। আর রুকু না পেলে আপনি ঐ রাকাআত পেলেন না।
৯। যদি ইমামের সাথে সালাতে যোগ দিয়ে দেখেন যে, ২/১ রাক‘আত ছুটে গেছে তবে ইমামের পিছনে বাকী সালাতে শরীক হন। তিনি সালাম ফিরালে আপনি সালাম না ফিরিয়ে উঠে বাকী রাক‘আতগুলো আদায় করুন।
১০। সালাতে তাড়াহুড়া করবেন না। কারণ তাতে সালাত নষ্ট হয়ে যায়। একদা রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সাহাবীকে সালাতে তাড়াহুড়া করতে দেখলেন। তাকে ডেকে বললেনঃ (ফেরত যেয়ে আবার সালাত আদায় কর। কারণ, তুমি সালাত আদায় করোনি। তিনি এভাবে তিনবার বললেন। তৃতীয় বার ঐ সাহাবী বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সালাত শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ
কুকু‘তে যেয়ে পুর্ণ মাত্রায় স্থির হবে। তারপর রুকুর দু‘আ শেষে রুকু হতে উঠে ঠিকভাবে সোজা হয়ে দাড়াবে। তারপর সিজদা করবে পূর্ণ স্থিরতার সাথে। অতঃপর সম্পূর্ণ সোজা হয়ে বসবে। ( বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
১১। যদি সালাতের কোন ওয়াজিব ছুটে যায়। যেমন প্রথম বৈঠকে না বসে থাকেন অথবা কত রাক‘আত আদায় করেছেন তাতে সন্দেহ থাকে, তখন কম সংখ্যক রাক‘আত ধরে বাকী সালাত পূর্ণ করুন। তারপর সালাতের শেষে ২টা সিজদা দিয়ে সালাম ফিরাবেন। একে বলা হয় সাহু সিজদা।