hadith book logo

ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস

লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৩

জীবনের সত্যিকার রাস্তা কি ?

প্রশ্নঃ জীবনের সত্যিকার রাস্তা কি ?

উত্তরঃ উহা হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর চলা। যাকে আল্লাহ তাআলা ওয়াজিব করেছেন। যার উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ জীবন যাপন করেছেন। ইসলামকে আমরা সহীহ ভাবে গ্রহণ করব, রুহানী দিক দিয়ে এবং শিক্ষার দিক দিয়ে আমরা উহাকে আঁকড়ে ধরে উদাহরণ সৃষ্টি করব। যারা ইসলাম হতে দূরে সরে যাবে তাদের রাস্তা আমরা গ্রহণ করব না। দেশ বা বস্তুর উন্নতির নামে যা উপনিবেশবাদীরা আমাদের সামনে রেখেছে তাকে প্রাধান্য দেব না। আমরা ইসলামের শিক্ষা হতে বিন্দুমাত্র বিচ্যুৎ হব না। অন্য কোন উদ্দেশ্যে কারো সাথে শত্রুতা বা বন্ধুত্ব করব না। বরং অন্যান্য মুসলিম ভাই, সে দুনিয়ার যেখানেই থাকুক না কেন, তাকে সাহায্য করব। যেন আমরা একই গাঁথার গাথুনি। আর যারা মুসলিমদের অপমানিত অপদস্থ করবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব। আর এভাবেই তাদের দুঃখে আমরা দুঃখিত হব এবং তাদের বিপদ দূর করতে সচেষ্ট হব। আমরা সর্বদাই ইখলাসের সাথে চেষ্টা করব দ্বীনের ভিতর হতে সব ধরণের বিদআতকে বের করতে। আরও সচেষ্ট হবো, যাতে নানা রকম মতভেদকে দূর করে এক করতে পারি। যা রাজনীতির কারণে উদ্ভব হয়েছে। দ্বীন ছাড়া অন্য কোন দৃষ্টিকোণে এক হব না। আর যারা ইংরেজদের পোষ্য পুত্র, তারা আমাদের দ্বীন ও ইসলামী আইন সম্বন্ধে যতই বক্রোক্তিও আজে বাজে কথা বলুক না কেন, তাতে ভ্রুক্ষেপও করব না। কারণ, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলিমদের ধ্বংস করা। আর যদি তাদের কথা মত চলি ও তাদের খুশি করতে ইসলামের হুকুমে অবহেলা করি, তবে তা সত্যিই আমাদের জন্য অবনতির কারণ হবে। কেননা, উহা আমাদের বস্তুর পূঁজারী বানিয়ে ছাড়বে। আর তাদের এই সমস্ত প্রচার প্রচারনাকে আমরা কখনো দূর করতে পারব না যতক্ষণ পর্যন্ত না পূর্ণভাবে দ্বীন প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।

তাই আল্লাহর কসম ! মুসলিম জাতি, বিশেষ করে আরবদের জন্য এই জাতীয় পাশ্চাত্য চিন্তাভাবনা গ্রহণ করা কখনই উত্তম হবে না। কারণ, ইউরোপে যে বস্তুর উন্নতি চলছে তাতে মুসলিমদের সম্মান নেই। তাদের যে মিশন, তার সাথেও ইসলামী আদর্শের মিল নেই। বরং, উহাদের মত চললে, মুসলিমগণ যে আল্লাহর রাস্তার শিক্ষক, যারা আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়েতকে চতুর্দিকে ছাড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছে তা হতে বাদ পড়ে যাবে। বরং তখন তারা ঐ সমস্ত লোকদের পোষ্য বনে যাবে। আর তাদের নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্যাবলীকে দুনিয়ায় ছড়াবে। এভাবে আস্তে আস্তে অন্য জাতিদের মধ্যে তাদের মর্যাদার স্থান নষ্ট হয়ে যাবে আর তাদের বিশেষত্ব বিলীন হয়ে যাবে। এইভাবেই ঐ সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ জাতির সাথে মিলে মিশে আল্লাহ্ যে তাদের সর্বোত্তম বলেছেন, সেই সর্বোৎকৃষ্টতা নষ্ট করে ফেলবে।

এই সমস্ত কারণেই আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অন্য সম্প্রদায়ের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। তাদের পোষাক পরিচ্ছেদ, চিন্তাভাবনা, আদর্শ ও নিদর্শন সমূহকে অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন যাতে করে আমরা অধঃপতনের মধ্যে পতিত না হই।