১
ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস
লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৮
জিহাদ, বন্ধুত্ব এবং বিচার
প্রশ্নঃ জিহাদ কাকে বলে ? উহার শ্রেণী বিভাগ কি কি, আর উদ্দেশ্যই বা কি ?
উত্তরঃ জিহাদ হচ্ছে দ্বীনের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানীত একটি আমল। আর যারা সামর্থ রাখে, তাদের উপর ইহা অতি অবশ্যই ওয়াজিব। আর সামর্থ থাকা সত্বেও কেহ যদি উহাতে অংশ গ্রহণ না করে, তবে তার ধর্মের ব্যাপারে আশংকা আছে। এটা ইমামদের সর্বসম্মত বক্তব্য। বিশেষ করে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর অভিমত হল, সামর্থের উপর ইহার হুকুম বিবিধ হতে পারে। এ জন্য দেখা যায়, মক্কী আয়াতসমূহ উৎসাহিত করেছে কাফিদের সাথে সম্পর্ক ছেদ করতে এবং যুদ্ধে ক্ষমা প্রদর্শন করতে। কারণ, তখন মুসলিমগণ সংখ্যায় ও শক্তিতে দুর্বল ছিল। আর মাদানী আয়াতে বলা হয়েছে ইসলামের দুশমনদের সাথে যুদ্ধ করতে, যখন মুসলিমদের শক্তি বেড়েছে। তাই এটা নির্ভর করে মুসলিমদের সার্বিক অবস্থার উপর।
মক্কার জীবনে আল্লাহ তাআলা জিহাদের হুকুম দিয়েছেন কোরআন দ্বারা। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
আর (কুরআন) দ্বারা তাদের সাথে বড় জিহাদ করুন। (সূরা ফুরকান, ৫২)
আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ
(আরবি)
নিশ্চয় যারা অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে, তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। (সূরা শূরা, ৪১)
এগুলোর উপর নির্ভর করে বলা চলে জিহাদের শ্রেণী হল চারটি।
১। শয়তানের সাথে জিহাদ।
২। নফসের সাথে জিহাদ।
৩। কাফিরদের সাথে জিহাদ।
৪। মুনাফিকদের সাথে জিহাদ।
প্রশ্নঃ আল্লাহ তাআলা কেন জিহাদ প্রচলন করেছেন ?
উত্তরঃ বিভিন্ন কারণে আল্লাহ তাআলা জিহাদে অংশ গ্রহণ করতে হুকুম করেছেন, তম্মধ্যে আছেঃ
১। শিরক ও মুশরিকদের প্রতিহত করতে। কারণ আল্লাহ্ তাআলা কখনই শিরক পছন্দ করেন না।
২। আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াতের ক্ষেত্রে যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা আছে তা দূর করার জন্য।
৩। সমস্ত ধরণের বিপদাপদ হতে ইসলামী আকীদা বিশ্বাস-কে রক্ষা করার জন্য।
৪। মুসলিমদের ও তাদের দেশসমূহের হিফাজত করার জন্য।
প্রশ্নঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের হুকুম কি ?
উত্তরঃ সাধ্য অনুযায়ী জান-মাল ও বাকশক্তি দ্বারা জিহাদ করা সকলের উপর ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
তোমরা আল্লাহর রাস্তায় বের হও ভারী ও অথবা হাল্কা অবস্থায়। আর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর তোমাদের জীবন ও সম্পদ দ্বারা। (সূরা তাওবাহ্ ৪১)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুশরিকদের সাথে জিহাদ কর তোমাদের সাধ্যমতে জান-মাল ও বাকশক্তি দ্বারা। (বর্ণনায় আবুদাউদ)
প্রশ্নঃ মু’মিনদের জন্য বন্ধুত্ব কি?
উত্তরঃ বন্ধুত্ব হচ্ছে অন্যান্য মু’মিন ও একত্ববাদীদের ভালবাসা ও সাহায্য-সহযোগিতা করা। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
মু’মিন পুরুষ ও মহিলারা একে অপরের বন্ধু স্বরূপ। (সূরা তাওবাহ্ ৭১)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
المؤمن للمؤمنين كالبنيان يشد بعضه بعضا . رواه مسلم
একজন মু’মিনের সাথে অন্য মু’মিনের সম্পর্ক হচ্ছে, দেয়াল কিম্বা ইমারতের গাথুনির মত যা একে অপরকে শক্ত করে আকড়ে ধরে। (বর্ণনায় মুসলিম)
প্রশ্নঃ কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করা ও তাদের সাহায্য করা কি জায়েয ?
উত্তরঃ না, উহা জায়েয নয়। কারণ, আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই দলে। (সূরা মায়িদাহ, ৫১)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় আমার বংশের অমুক আমার বন্ধু নয়। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
প্রশ্নঃ কিভাবে মুসলিমগণ বিচার করবে?
উত্তরঃ মুসলিমগণ বিচার করবে কোরআন ও সহীহ হাদীস অনুযায়ী। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
আর আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ্ প্রদত্ত আইনে বিচার করুন। (সূরা মায়িদাহ ৪৯)ُ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর ওহে মানুষেরা ! আমিও মানুষ। যে কোন সময় আমার রবের প্রতিনিধি আসবে (আমাকে নিতে) সাথে সাথে আমি তার সাথে চলে যাব আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি মূল্যবান জিনিস রেখে যাচ্ছি। প্রথমটি হল আল্লাহর কিতাব, যাতে আছে হিদায়েত ও নূর (পথ প্রদর্শন)। তাই আল্লহর কিতাবকে আঁকড়ে ধর। তারপর কোরআনের ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত কর। তারপর বলেনঃ আর আমার বংশধর। (বর্ণনায় মুসলিম)
উত্তরঃ জিহাদ হচ্ছে দ্বীনের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানীত একটি আমল। আর যারা সামর্থ রাখে, তাদের উপর ইহা অতি অবশ্যই ওয়াজিব। আর সামর্থ থাকা সত্বেও কেহ যদি উহাতে অংশ গ্রহণ না করে, তবে তার ধর্মের ব্যাপারে আশংকা আছে। এটা ইমামদের সর্বসম্মত বক্তব্য। বিশেষ করে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর অভিমত হল, সামর্থের উপর ইহার হুকুম বিবিধ হতে পারে। এ জন্য দেখা যায়, মক্কী আয়াতসমূহ উৎসাহিত করেছে কাফিদের সাথে সম্পর্ক ছেদ করতে এবং যুদ্ধে ক্ষমা প্রদর্শন করতে। কারণ, তখন মুসলিমগণ সংখ্যায় ও শক্তিতে দুর্বল ছিল। আর মাদানী আয়াতে বলা হয়েছে ইসলামের দুশমনদের সাথে যুদ্ধ করতে, যখন মুসলিমদের শক্তি বেড়েছে। তাই এটা নির্ভর করে মুসলিমদের সার্বিক অবস্থার উপর।
মক্কার জীবনে আল্লাহ তাআলা জিহাদের হুকুম দিয়েছেন কোরআন দ্বারা। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
আর (কুরআন) দ্বারা তাদের সাথে বড় জিহাদ করুন। (সূরা ফুরকান, ৫২)
আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ
(আরবি)
নিশ্চয় যারা অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে, তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। (সূরা শূরা, ৪১)
এগুলোর উপর নির্ভর করে বলা চলে জিহাদের শ্রেণী হল চারটি।
১। শয়তানের সাথে জিহাদ।
২। নফসের সাথে জিহাদ।
৩। কাফিরদের সাথে জিহাদ।
৪। মুনাফিকদের সাথে জিহাদ।
প্রশ্নঃ আল্লাহ তাআলা কেন জিহাদ প্রচলন করেছেন ?
উত্তরঃ বিভিন্ন কারণে আল্লাহ তাআলা জিহাদে অংশ গ্রহণ করতে হুকুম করেছেন, তম্মধ্যে আছেঃ
১। শিরক ও মুশরিকদের প্রতিহত করতে। কারণ আল্লাহ্ তাআলা কখনই শিরক পছন্দ করেন না।
২। আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াতের ক্ষেত্রে যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা আছে তা দূর করার জন্য।
৩। সমস্ত ধরণের বিপদাপদ হতে ইসলামী আকীদা বিশ্বাস-কে রক্ষা করার জন্য।
৪। মুসলিমদের ও তাদের দেশসমূহের হিফাজত করার জন্য।
প্রশ্নঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের হুকুম কি ?
উত্তরঃ সাধ্য অনুযায়ী জান-মাল ও বাকশক্তি দ্বারা জিহাদ করা সকলের উপর ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
তোমরা আল্লাহর রাস্তায় বের হও ভারী ও অথবা হাল্কা অবস্থায়। আর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর তোমাদের জীবন ও সম্পদ দ্বারা। (সূরা তাওবাহ্ ৪১)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুশরিকদের সাথে জিহাদ কর তোমাদের সাধ্যমতে জান-মাল ও বাকশক্তি দ্বারা। (বর্ণনায় আবুদাউদ)
প্রশ্নঃ মু’মিনদের জন্য বন্ধুত্ব কি?
উত্তরঃ বন্ধুত্ব হচ্ছে অন্যান্য মু’মিন ও একত্ববাদীদের ভালবাসা ও সাহায্য-সহযোগিতা করা। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
মু’মিন পুরুষ ও মহিলারা একে অপরের বন্ধু স্বরূপ। (সূরা তাওবাহ্ ৭১)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
المؤمن للمؤمنين كالبنيان يشد بعضه بعضا . رواه مسلم
একজন মু’মিনের সাথে অন্য মু’মিনের সম্পর্ক হচ্ছে, দেয়াল কিম্বা ইমারতের গাথুনির মত যা একে অপরকে শক্ত করে আকড়ে ধরে। (বর্ণনায় মুসলিম)
প্রশ্নঃ কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করা ও তাদের সাহায্য করা কি জায়েয ?
উত্তরঃ না, উহা জায়েয নয়। কারণ, আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই দলে। (সূরা মায়িদাহ, ৫১)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় আমার বংশের অমুক আমার বন্ধু নয়। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
প্রশ্নঃ কিভাবে মুসলিমগণ বিচার করবে?
উত্তরঃ মুসলিমগণ বিচার করবে কোরআন ও সহীহ হাদীস অনুযায়ী। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
আর আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ্ প্রদত্ত আইনে বিচার করুন। (সূরা মায়িদাহ ৪৯)ُ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর ওহে মানুষেরা ! আমিও মানুষ। যে কোন সময় আমার রবের প্রতিনিধি আসবে (আমাকে নিতে) সাথে সাথে আমি তার সাথে চলে যাব আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি মূল্যবান জিনিস রেখে যাচ্ছি। প্রথমটি হল আল্লাহর কিতাব, যাতে আছে হিদায়েত ও নূর (পথ প্রদর্শন)। তাই আল্লহর কিতাবকে আঁকড়ে ধর। তারপর কোরআনের ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত কর। তারপর বলেনঃ আর আমার বংশধর। (বর্ণনায় মুসলিম)