hadith book logo

ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস

লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৪

মুসলিম হওয়ার শর্তসমূহঃ

প্রশ্নঃ মুসলিম হওয়ার শর্ত কি?

উত্তরঃ কোন ব্যক্তি সত্যিকার ভাবে মুসলিম হতে পারে না যদি না তার মধ্যে নিম্মোক্ত শর্তসমূহ পাওয়া যায়ঃ-

১। ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং একত্ববাদের যে ওয়াজিবসমূহ আছে তার উপর আমল করতে হবে।

২। রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দাদের জন্য যে দাওয়াত নিয়ে এসেছেন তাকে সত্য বলে মানতে হবে এবং তিনি যা হুকুম করেছেন তার ও আনুগত্য করতে হবে। আর যা নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাকতে হবে।

৩। মুশরিক ও কাফিরদের সাথে শত্রুতা পোষণ করতে হবে। এমন কিছু মুসলিম আছে যারা নিজেরা শিরক করে না বটে, কিন্তু মুশরিকদের সাথে ধর্মীয় ব্যাপারে শত্রুতাও পোষণ করে না। ফলে, উক্ত কারণে সে মুসলিমও হতে পারে না। কারণ প্র্রত্যেক রাসূলদের (আঃ) যে মূল কথা ছিল, তা সে বাদ দিয়েছে। ইব্রাহীম (আঃ) তার কাওমের লোকদের বলেনঃ

(আরবি)

আমরা তোমাদের সাথে কুফরী করছি আর আমাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা ও বিদ্বেষ শুরু হয়েছে এবং তা চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা এক আল্লাহর উপর ঈমান আনবে। (সূরা মুমতাহিনাহ ৪)

উপরের আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের সাথে শত্রুতা শুরু হয়েছে বা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে প্রথমে শত্রুতা করাটাই আমল। দেখা যায়, অনেক মুসলিম কাফিরদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে, কিন্তু শত্রুতা পোষণ করে না। মুসলিম হিসাবে তার উপর যা ওয়াজিব ছিল তা সে পালন করে না। এজন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ উভয়কেই প্রকাশ করতে হবে। শুধু মনে মনে বিদ্বেষ পোষণ করলেই চলবে না বরং কাজ-কর্মের মাধ্যমেও প্রকাশ্য ভাবে শত্রুতা ও সম্পর্ক ছেদ করতে হবে। আর যদি তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক বজায় রাখা হয় তবে বুঝতে হবে তাদের অন্তরে মুশরিকদের প্রতি কোন বিদ্বেষ নেই।

৪। উপদেশ দানঃ যে ব্যক্তি বলে যে, মুসলিমেদের মধ্যে কেউ যদি শিরক্, কুফর কিংবা যত পাপই করুক না কেন তার সাথে শত্রুতা পোষণ করব না। তাহলে সে প্রকৃত মুসলিম নয়। বরং তাদের জন্য ওয়াজিব হল মুসলিমদের উপদেশ দেয়া আর শিরক, কুফর আবং পাপ কার্যের বিষয়ে তাদের সাবধান করা, ভদ্র ও নম্র ভাবে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

(আরবি)

তুমি তোমার রবের রাস্তায় লোকদের দাওয়াত দিতে থাকো হিকমতের সাথে এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে। আর তাদের সাথে তর্ক করো উত্তম ভাবে ।

(সূরা নাহল, আয়াত ১২৫)