hadith book logo

ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস

লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭০

বান্দার উপর আল্লাহর হক

প্রশ্নঃ আল্লাহ তাআলা কেন আমাদের সৃষ্টি করেছেন?

উত্তরঃ আল্লাহ তাআলা আমাদের সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের (দাসত্বের) জন্য এবং আমরা যেন তার সাথে কোন কিছুকে শরিক বা অংশীদার না করি। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

(আরবি)

এবং নিশ্চয়ই জ্বীন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদতের জন্য। (সূরা যারিয়াত ৫৬)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ বান্দার উপর আল্লাহর হক হচ্ছে এই যে, তারা তার ইবাদত করবে এবং তার সাথে কাউকে শরিক করবে না। (বর্ণনায বুখারী ও মুসলিম)

প্রশ্নঃ ইবাদত বলতে কি বুঝায়?

উত্তরঃ ইবাদত হল ঐ সব কথা ও কাজের সমষ্টির নাম যা আল্লাহ তাআলা ভালবাসেন। যেমনঃ দুআ, সালাত, খুশু বা আল্লাহর ভয় এবং এই জাতীয় অন্যান্য আমল। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

(আরবি)

হে রাসূল আপনি বলুনঃ নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার হজ, আমার হায়াত এবং আমার মৃত্যু একমাত্র ঐ আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক। (সূরা আন’আম ১৬

রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন:

وما تقرب إلي عبدي بشيء أحب إلي مما افترضت عليه ،

আমার বান্দা সর্বাধিক নৈকট্য হাসিল করে আমার পছন্দনীয় ঐ সমস্ত আমলের দ্বারা যা আমি তার উপর ফরয করেছি। (হাদীসে কুদসী বর্ণায় বুখারি)

প্রশ্নঃ ইবাদতের শ্রেণী কি কি?

উত্তরঃ ইবাদতের অনেক বিভাগ রয়েছেঃ তার মধ্যে আছে দুআ, ভয়, আশা, তাওয়াক্কুল বা ভরসা করা। কোন কিছু পাবার আশা, যবেহ, নজর বা মানত, রুকু, সিজদা, তাওয়াফ, দান-সদকা ইত্যদি। এছাড়া আরো নানা ধরনের শরিয়ত সম্মত ইবাদত রয়েছে।

প্রশ্নঃ আমরা কি ভাবে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করবো?

উত্তরঃ আমরা ঐ ভাবেই ইবাদত করব যেভাবে আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের ইবাদত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সাথে সাথে তারা আমাদের অন্যান্য যা নির্দেশ দিয়েছেন তাও অনূসরণ করব। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

(আরবি)

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর আর তোমাদের আমলসমূহ নষ্ট করনা। (সূরা মুহাম্মদ ৩৩)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد ( رواه مسلم )

যে কেহ এমন কোন আমল করবে যা প্রতি আমার হুকুম নেই, উহা গ্রহণযোগ্য নয়। (বর্ণনায় মুসলিম)

প্রশ্নঃ আমরা কি আল্লাহর ইবাদত করব ভয় ও আশা নিয়ে?

উত্তরঃ হাঁ, আমরা ঐভাবেই তার ইবাদত করব। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

(আরবি)

তোমরা আল্লাহকে ডাক ভয় ও আশার সাথে। (সূরা আ’রাফ ৫৬)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

أسأل الله الجنة وأعوذ به من النار ( رواه أبوداود )

আমি আল্লাহর নিকট জান্নাত প্রার্থনা করি এবং জাহান্নাম হতে মুক্তি চাই। (আবু দাউদ)

প্রশ্নঃ দ্বীনের ক্ষেত্রে ইহসান কি?

উত্তরঃ উহা হচ্ছে, সর্বদা মনে এই খেয়াল রাখা যে, আল্লাহ তাআলা একাই আমাদের সমস্ত কিছু সর্বদা পর্যবেক্ষণ করছেন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

(আরবি)

তুমি যখন (সালাতে) দাড়াও তখন তিনি তোমাকে দেখেন এবং রুকু সিজদার মধ্যেও তিনি তোমার উঠা-বসা খেয়াল করেন। (সূরা শূয়ারা ২১৮-২১৯)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

الإحسان أن تعبد الله كانك تره فان لم تكن تراه فانه يراك ( رواه مسلم )

ইহসান হচ্ছে তোমার প্রভুর ইবাদত কর এমন ভাবে যেন তাকে দেখতে পাচ্ছ, আর যদি দেখতে নাও পাও তবে তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন। (বর্ণনায় মুসলিম)

প্রশ্নঃ আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হকের পর কার হক সবচেয়ে বড়?

উত্তরঃ মাতাপিতার হক। আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে বলেনঃ

(আরবি)

আর তোমার রব নির্দেশ দিচ্ছেন, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। যখন তাদের একজন অথবা উভয়েই বার্ধক্যে পৌছেন তখন তাদের সামনে উহ্ শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করবে না। আর তাদের ধমকও দিবে না, আর তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলবে। (সূরা ইসরা ২৩)

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছেঃ একজন লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বল্লেনঃ হে আল্লাহর রাসূল ! মানুষের মধ্যে সদ্ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে বড় হকদার কে? তিনি বললেনঃ তোমার মা। তারপর তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তারপর কে! উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার মা। লোকটি আবার প্রশ্ন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, তোমার মা। অতঃপর লোকটি শেষ বার প্রশ্নের উত্তরে বললেনঃ তোমার পিতা। (বর্ণনায় বুখারি ও মুসলিম)