hadith book logo

ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস

লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৫

মুজতাহিদগণের হাদীস অনুযায়ী চলার ঘটনা

চার ইমাম-কে আমাদের তরফ হতে আল্লাহ তাআলা উত্তম প্রতিদান দান করুন। তাদের প্রত্যেকেই তাদের নিকট যে হাদীসসমূহ পৌছেছিল তার উপর ইজতেহাদ করে ছিলেন। তাদের একে অপরের সাথে যে মত পার্থক্য ঘটেছিল তার বিশেষ কারণ হচ্ছে, কারো নিকট কোন হাদীস পৌছেঁ ছিল যা কিনা অন্যের নিকট পৌছেঁ নাই। কারণ, সেই যামানায় হাদীসের খুব বেশী প্রসার ঘটেনি। আর হাদীসের হাফেজগণ নানা এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। কেহ ছিলেন হিজাযে, কেহ শামে, কেহ ইরাকে, কেহ মিসরে বা অন্যান্য মুসলিম দেশে। তাদের যামানায় এক স্থান হতে অন্য স্থানে যাতায়াত ছিল খুবই কঠিন ও কষ্টবহুল। সে কারণে দেখতে পাই, ইমাম শাফেয়ী (রঃ) যখন ইরাক ছেড়ে মিসরে গেলেন তখন ইরাকে তার যে পুরাতন মাযহাব ছিল তা ত্যাগ করেন। কারণ, তখন তাঁর সম্মুখে নুতন নুতন বহু সহীহ হাদীস উপস্থাপিত হয়।

তাই দেখতে পাই ইমাম শাফেয়ী (রঃ) এর মাযহাব হচ্ছে কোন মহিলাকে স্পর্শ করলে ওযু ছুটে যায় কিন্তু অন্যদিকে ইমাম আবু হানিফাহ্ (রঃ) এর মতে ছুটে না। এমত অবস্থায় আমাদের উপর ওয়াজিব হল ক্বুরআন ও সহীহ সুন্নাতকে তালাশ করা। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

(আরবি)

অর্থাৎ যদি তোমরা কোন বিষয়ে মতভেদ কর তবে তার বিচারের ভার আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ছেড়ে দাও যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহ ও আখেরাতের উপর ঈমান এনে থাক। উহাই হচ্ছে উত্তম এবং সঠিক ব্যাখ্যা। (সূরা নিসা ৫৯)

আর আমাদেরকে তো হুকুম করাই হয়েছে আল্লাহ তাআলার নিকট হতে যে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্য। আর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সহীহ হাদীসের মাধ্যমে উহার ব্যাখ্যা দান করেছেন। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

(আরবি)

তোমাদের রবের তরফ হতে যা তোমাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে তাকে অনুসরণ কর। তাকে ছেড়ে অন্য কোন আউলিয়াদের অনুসরণ কর না। তোমরা খুব কমই ইহা স্মরণ কর। (সূরা আ’রাফ ৩)

তাই কোন মুসলিমের সামনে কোন সহীহ হাদীস পেশ করলে তাকে এই বলে ত্যাগ করা জায়েয নেই যে, উহা আমাদের মাযহাব বিরোধী। কারণ সমস্ত ইমামগণের এজমা হচ্ছে সর্বদা সহীহ হাদীস গ্রহণ করা, আর উহাদের খেলাফ তাদের যে মতবাদ তা পরিহার করা।