hadith book logo

ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস

লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯২

আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়া ও আরবদের করণীয় ওয়াজিব সমূহ

প্রশ্নঃ আল্লাহর দিকে দাওয়াত ও ইসলামের উপর আমলের হুকুম কি ?

উত্তরঃ উহা হচ্ছে ঐ সমস্ত মুসলিমদের কর্তব্য যারা আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাতকে ওয়ারিস হিসাবে পেয়েছেন। সাধারণভাবে প্রতিটি মুসলিমের উপরই দাওয়াতের কাজ করা জরুরী। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

(আরবি)

তুমি তোমার রবের দিকে ডাক হিকমতের সাথে এ উত্তমভাবে উপদেশের মাধ্যমে। (সূরা নাহল, ১২৫)অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

(আরবি)

আর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে থাক, যথাযথ জিহাদ। (সূরা হাজ, ৭৮)

তাই প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব হচ্ছে, তাদের সাধ্যমত সব ধরনের জিহাদে শরিক হওয়া। বিশেষ করে, বর্তমান যামানায় ইসলামের জন্য আমল করাটা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরী হয়ে পড়েছে। এর সাথে সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়া এবং তাঁর রাস্তায় জিহাদ করাও জরুরী। যদি কেহ তার সামর্থ থাকা সত্বেও এই হককে পুরোপুরি পালন করতে সচষ্ট না হয় তবে সে আল্লাহ্ প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করতে অবহেলা করল।

প্রশ্নঃ মানুষের জন্য এটাই কি যথেষ্ট যে, সে শুধুমাত্র নিজেরই সংশোধন করবে ?

উত্তরঃ প্রথমে অবশ্যই নিজের সংশোধন করতে হবে। তারপর অন্যের সংশোধনের তৎপর হতে হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

(আরবি)

আর তোমাদের মধ্যে একদল এমন হবে যারা (মানুষদের) কল্যাণের দিকে ডাকবে এবং সৎ কাজের নির্দেশ দেবে এবং অসৎ কাজের নিষেধ করবে। আর তারাই হচ্ছে কামিয়াব। (সূরা আল ইমরান, ১০৪)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যে কেহ কোন খারাপ কাজ হতে দেখবে, সে যেন অবশ্যই প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও তা করতে বাধা দেয়। যদি তা না পারে, তবে যেন মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করে। আর যদি তাও না পারে তবে যেন অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে। উহাই হচ্ছে সর্বনিম্ম ঈমান। (বর্ণনায় মুসলিম)

প্রশ্নঃ আরবদের উপর ওয়াজিব কি ?

উত্তরঃ আরবরাই ইসলামের রিসালাতের বাহক। কারণ, কোরআন তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি তারা ইসলাম সম্মত ভাবে চলে, তবে তারাই হচ্ছে সর্বোত্তম জাতি যাদেরকে মানুষদের কল্যাণের জন্য আল্লাহ কর্তৃক বাছাই করা হয়েছে।

তাই, সমস্ত আরবদের উপর ওয়াজিবসমূহ হচ্ছেঃ

১। ইসলামকে আক্বীদা, ইবাদত, শরীয়ত, হুকুমতসহ সমস্ত দিক দিয়েই গ্রহণ করবে। আর সাথে সাথে অন্যা জাতিদেরকেও ইসলামে দিকে দাওয়াত দেবে।

২। তারা কক্ষণো ধর্ম নিরপেক্ষতা বা সামন্তবাদ, কমিউনিজম বা মার্কসবাদ, ইয়াহুদীবাদ অথবা এই জাতীয় অন্য কোন ধ্বংসকারী মতবাদ, যা ইসলামের পরিপন্থী, তাকে গ্রহণ করবে না। অথবা এই জাতীয় গোপনীয় কোন চিন্তাকে অন্তরে স্থান দেবে না। আর দেশ ও বস্তুকে সমস্ত কিছুর উপর প্রাধান্য দেবে। এতে যদি সে দেশের সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিবেচিত হয় তবুও তার পরিণাম বড়ই উত্তম। অন্য দিকে উহাকে পরিত্যাগ করা তার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। সে তার রবের রিসালাতকে ত্যাগকারী বলে গণ্য হবে, আর অন্য উম্মতদের চালনা করার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হল। সাথে সাথে সে অন্য মুসলিমদের ভালবাসা হতেও বঞ্চিত হবে। তাদের সাথে রূহানী বন্ধন, যাহা পূর্ব ও পশ্চিমকে একত্রিত করে তা হতেও বঞ্চিত। তখন অন্যান্য দেশের লোকেরা আরবদের সম্বন্ধে নানারূপ বাজে ও আপত্তিকর কথা রটাবে, আর চেষ্টা করবে অন্য আরবদের ক্ষতি সাধন করতে। এমনিভাবে অন্যান্য জাতির নিকট তাদের যে একটি সম্মানীত স্থান রয়েছে, তা নষ্ট হয়ে যাবে। সাথে সাথে রূহানী বন্ধন কমতে থাকবে। আর এমনিভাবেই লক্ষ কোটি মুসলিমদের নিকট হতে দূরে সরে গিয়ে মাত্র কিছু সংখ্যক নিকৃষ্ট লোকের নিকট ভালবাসার পাত্র হবে।