১
ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস
লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫০
হজ ও উমরার ফজিলত
১। আল্লহ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
আল্লাহর ঘরে যাওয়ার মত সামর্থ যাদের আছে তাদের জন্য জরুরী হল আল্লাহর ঘরের হজ্ আদায় করা। আর যে তাকে (আল্লাহ্ তা‘লার হুকুমকে) অস্বীকার করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর বিশ্ব জগত হতে মুখাপেক্ষীহীন। (সূরা আল‘ইমরান, ৯৭)
২। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
العمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة
এক ওমরাহ্ হতে পরবর্তী আর এক ওমরাহ্, এই দুই ওমরাহ পালন করা মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারা (মুছে যাওয়া) স্বরূপ আর কবুল হজ্বের বদলা একমাত্র জান্নাত। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ
من حج فلم يرفث ولم يفسق رجع من ذنوبه كيوم ولدته أمه
যে ব্যক্তি এমন ভাবে হজ্ব আদায় করল যাতে কোন অশ্লীল কথা বা কাজ বা ফাসেক্বী কোন কর্ম করল না, সে যেন তার পাপ হতে এমনভাবে পবিত্র হল যেন এই মাত্রই তার মা তাকে প্রসব করল। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
৪। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ
خذوا عني منا سككم ) رواه المسلم (
তোমরা আমার নিকট হতে হজের নিয়মাবলী শিখে লও। (বর্ণনায় মুসলিম)
৫। হে মুসলিম ভাই! যখনই আপনার নিকট ঐ পরিমাণ অর্থ জমে যা দ্বারা মক্কা শরীফ আসা যাওয়ার ব্যবস্থা হয় তখনই সাথে সাথে ফরজ হজ্ আদায় করুন। আর এটা জরুরী নয় যে, হজের পর অন্যদের জন্য হাদীয়া তোহ্ফা আনার মত খরচ আপনার নাই, তাই কিভাবে হজ করবেন। কারণ, আল্লাহ এই ওযর কবুল করবেন না। তাই অসুস্থ হওয়া, দরিদ্রতা আসা বা পাপী হয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হওয়ার পূর্বে হজ করুন। কারণ, হজ হচ্ছে ইসলামের রোকনসমূহের একটি রোকন।
৬। আর ওমরা ও হজের জন্য যে অর্থ ব্যয় করা হবে তাতে ওয়াজিব হচ্ছে উহা হালাল কামাই হতে হবে যাতে করে আল্লাহ তাআলা উহা কবুল করেন।
৭। কোন মহিলার জন্য মাহারেম পুরুষ ব্যতীত একাকী হজ্জের সফর বা যে কোন সফর করা হারাম। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “কোন মহিলা কক্ষণই কোন মাহারেম পুরুষ ব্যতীত সফর করবে না”। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
৮। কারো সাথে কোন শত্রুতা থাকলে মিটমাট করে নিন। আর ধার দেনা থাকলে তা শোধ করুন। স্ত্রীকে উপদেশ দিন সেজেগুজে বের না হতে। আর গাড়ী হাকানো, ঈদের দিনের মিষ্টি বিতরণ, কোরবাণী ইত্যাদির ব্যাপারেও উপদশ দিন। কারণ আল্লাহপাক বলেন,
(আরবি)
তোমরা খাও, পান কর, কিন্তু অপচয় কর না। (সূরা আ’রাফ ৩১)
৯। হজ হলো মুসলিমের জন্য বিরাট এক সম্মেলন ক্ষেত্র। এতে তারা একে অন্যকে জানতে পারে, ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। আর একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে তাদের সমস্যাবলী সমধানের জন্য। আর সাথে সাথে দুনিয়া ও আখেরাতের লাভের কার্যসমূহ করতে পারে।
১০। এর চেয়েও বড় কথা হল, আপনি আপনার নিজের সমস্যাবলীর সমাধানের জন্য একমাত্র আল্লাহ তাআলার নিকট কায়মনোবাক্যে সাহায্য চাইতে পারেন। সকলকে ছেড়ে একমাত্র তার নিকটেই দু’আ করতে পারেন। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন,
(আরবি)
(হে নবী) বলুন, আমিত একমাত্র আমার রবকে ডাকি আর তার সাথে কাউকে শরীক করি না। (সূরা জিন, ২০)
১১। বছরের যে কোন সময় ওমরাহ করা জায়েয। তবে রমযানে উত্তম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
عمرة فى رمضان تعدل حجة ( متفق عليه )
“রমযানে ওমরা করা হজের সমতুল্য।’’ (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
১২। আর মসজিদুল হারামে সালাত আদায় করলে অন্য যে কোন মসজিদে সালাত আদায় করা হতে একলক্ষ গুণ বেশী সওয়াব পাওয়া যায়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমার এই মসজিদে (মসজিদে নববী) এক রাক’আত সালাত আদায় করা মসজিদুল-হারাম ব্যতীত অন্য যে কোন মসজিদে হাজার রাক’আত আদায় করা হতে উত্তম। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
অন্যত্র তিনি বলেনঃ মসজিদে হারামে সালাত আদায় করা আমার এই মসজিদে সালাত আদায় করা হতে একশত গুণ বেশী উত্তম। (বর্ণনায় আহমদ)
১৩। আপনার জন্য উত্তম হল হজে তামাত্তু করা। উহা হচ্ছে প্রথমে ওমরাহ্ করা, তারপর এহরাম হতে হালাল হয়ে তারপর হজ আদায় করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ হে মুহাম্মদের বংশধর ! তোমাদের মধ্যে যে কেহ হজ আদায় করে সে যেন হজের সাথে ওমরাহ্ আদায় করে। (বর্ণনায় ইবনে হিব্বান)
(আরবি)
আল্লাহর ঘরে যাওয়ার মত সামর্থ যাদের আছে তাদের জন্য জরুরী হল আল্লাহর ঘরের হজ্ আদায় করা। আর যে তাকে (আল্লাহ্ তা‘লার হুকুমকে) অস্বীকার করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর বিশ্ব জগত হতে মুখাপেক্ষীহীন। (সূরা আল‘ইমরান, ৯৭)
২। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
العمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة
এক ওমরাহ্ হতে পরবর্তী আর এক ওমরাহ্, এই দুই ওমরাহ পালন করা মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারা (মুছে যাওয়া) স্বরূপ আর কবুল হজ্বের বদলা একমাত্র জান্নাত। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ
من حج فلم يرفث ولم يفسق رجع من ذنوبه كيوم ولدته أمه
যে ব্যক্তি এমন ভাবে হজ্ব আদায় করল যাতে কোন অশ্লীল কথা বা কাজ বা ফাসেক্বী কোন কর্ম করল না, সে যেন তার পাপ হতে এমনভাবে পবিত্র হল যেন এই মাত্রই তার মা তাকে প্রসব করল। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
৪। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ
خذوا عني منا سككم ) رواه المسلم (
তোমরা আমার নিকট হতে হজের নিয়মাবলী শিখে লও। (বর্ণনায় মুসলিম)
৫। হে মুসলিম ভাই! যখনই আপনার নিকট ঐ পরিমাণ অর্থ জমে যা দ্বারা মক্কা শরীফ আসা যাওয়ার ব্যবস্থা হয় তখনই সাথে সাথে ফরজ হজ্ আদায় করুন। আর এটা জরুরী নয় যে, হজের পর অন্যদের জন্য হাদীয়া তোহ্ফা আনার মত খরচ আপনার নাই, তাই কিভাবে হজ করবেন। কারণ, আল্লাহ এই ওযর কবুল করবেন না। তাই অসুস্থ হওয়া, দরিদ্রতা আসা বা পাপী হয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হওয়ার পূর্বে হজ করুন। কারণ, হজ হচ্ছে ইসলামের রোকনসমূহের একটি রোকন।
৬। আর ওমরা ও হজের জন্য যে অর্থ ব্যয় করা হবে তাতে ওয়াজিব হচ্ছে উহা হালাল কামাই হতে হবে যাতে করে আল্লাহ তাআলা উহা কবুল করেন।
৭। কোন মহিলার জন্য মাহারেম পুরুষ ব্যতীত একাকী হজ্জের সফর বা যে কোন সফর করা হারাম। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “কোন মহিলা কক্ষণই কোন মাহারেম পুরুষ ব্যতীত সফর করবে না”। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
৮। কারো সাথে কোন শত্রুতা থাকলে মিটমাট করে নিন। আর ধার দেনা থাকলে তা শোধ করুন। স্ত্রীকে উপদেশ দিন সেজেগুজে বের না হতে। আর গাড়ী হাকানো, ঈদের দিনের মিষ্টি বিতরণ, কোরবাণী ইত্যাদির ব্যাপারেও উপদশ দিন। কারণ আল্লাহপাক বলেন,
(আরবি)
তোমরা খাও, পান কর, কিন্তু অপচয় কর না। (সূরা আ’রাফ ৩১)
৯। হজ হলো মুসলিমের জন্য বিরাট এক সম্মেলন ক্ষেত্র। এতে তারা একে অন্যকে জানতে পারে, ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। আর একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে তাদের সমস্যাবলী সমধানের জন্য। আর সাথে সাথে দুনিয়া ও আখেরাতের লাভের কার্যসমূহ করতে পারে।
১০। এর চেয়েও বড় কথা হল, আপনি আপনার নিজের সমস্যাবলীর সমাধানের জন্য একমাত্র আল্লাহ তাআলার নিকট কায়মনোবাক্যে সাহায্য চাইতে পারেন। সকলকে ছেড়ে একমাত্র তার নিকটেই দু’আ করতে পারেন। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন,
(আরবি)
(হে নবী) বলুন, আমিত একমাত্র আমার রবকে ডাকি আর তার সাথে কাউকে শরীক করি না। (সূরা জিন, ২০)
১১। বছরের যে কোন সময় ওমরাহ করা জায়েয। তবে রমযানে উত্তম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
عمرة فى رمضان تعدل حجة ( متفق عليه )
“রমযানে ওমরা করা হজের সমতুল্য।’’ (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
১২। আর মসজিদুল হারামে সালাত আদায় করলে অন্য যে কোন মসজিদে সালাত আদায় করা হতে একলক্ষ গুণ বেশী সওয়াব পাওয়া যায়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমার এই মসজিদে (মসজিদে নববী) এক রাক’আত সালাত আদায় করা মসজিদুল-হারাম ব্যতীত অন্য যে কোন মসজিদে হাজার রাক’আত আদায় করা হতে উত্তম। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
অন্যত্র তিনি বলেনঃ মসজিদে হারামে সালাত আদায় করা আমার এই মসজিদে সালাত আদায় করা হতে একশত গুণ বেশী উত্তম। (বর্ণনায় আহমদ)
১৩। আপনার জন্য উত্তম হল হজে তামাত্তু করা। উহা হচ্ছে প্রথমে ওমরাহ্ করা, তারপর এহরাম হতে হালাল হয়ে তারপর হজ আদায় করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ হে মুহাম্মদের বংশধর ! তোমাদের মধ্যে যে কেহ হজ আদায় করে সে যেন হজের সাথে ওমরাহ্ আদায় করে। (বর্ণনায় ইবনে হিব্বান)