১
ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস
লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
আল্লাহ তাআলা কোথায় ?
মা’য়াবিয়া ইবনুল হাকাম আসসুলামী রা. বলেনঃ আমার একজন ক্রীতদাসী ছিল। সে আমার বকরীসমূহ অহুদ ও জোয়ানিয়া পাহাড়র নিকটবর্তী এলাকায় চড়াত। একদিন সে এসে বলল যে, একটা নেকড়ে এসে একটা ছাগল নিয়ে গেছে। যেহেতু আমি একজন মানুষ এবং যে যে কারণে মানুষ রাগান্বিত হয় আমিও তা থেকে মুক্ত নই, তাই রাগে তাকে একটা চড় দিয়ে বসি। তারপর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে উপস্থিত হলাম। কিন্তু ঐ ঘটনা আমাকে খুবই কষ্ট দিচ্ছিল। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে মুক্ত করে দেব? তিনি বললেনঃ তাকে আমার নিকট উপস্থিত কর? তিনি দাসীকে জিজ্ঞেস করলেন, বলত আল্লহ কোথায়? সে উত্তরে বললঃ আসমানে। তারপর তিনি বললেনঃ বলত আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহ্ তাআলার রাসূল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তাকে মুক্ত করে দাও। কারণ সে মুমিন। (বর্ণনায় মুসলিম আবু দাউদ)
হাদিসটির শিক্ষা
১। সাহাবায়ে কেরাম তাদের যে কোন অসুবিধাতেই, তা যতই ছোট হোক না কেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে উপস্থিত হতেন, ঐ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার কি নির্দেশ তা জানতে চাইতেন।
২। দ্বীনের যে কোন ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম মত বিচার করার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
না, কখনো নয়, আপনার রবের কসম! তারা কখনো ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের মধ্যে যে মতভেদ ঘটেছে তার বিচারের ভার আপনার উপর না দেয়, তারপর আপনি যে বিচার করে দেন তাতে কোন মনঃকষ্ট না পায়। বরং তাকে উত্তমভাবে গ্রহণ করে নেয়। (সূরা নিসা, ৬৫)
৩। সাহাবী যিনি তার দাসীকে মেরেছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার আচরণকে অন্যায় হিসাবে গ্রহণ করে তার দাসীকেই মর্যাদা দিলেন।
৪। কখনও ক্রীতদাস মুক্ত করতে হলে শুধুমাত্র মুমিনদের মুক্ত করতে হবে, কাফেরদের নয়। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পরীক্ষা করেছিলেন। যখন বুঝলেন যে, তিনি ঈমানদার তখন তাকে মুক্ত করতে বললেন। যদি সে কাফের হত তবে তাকে মুক্ত করতে হুকুম দিতেন না।
৫। আল্লাহপাকের একত্ববাদ সমন্ধে প্রশ্ন করা ওয়াজেব। তার মধ্যে, আল্লাহ তাআলা যে আরশের উপর এটা গুরুত্বপূর্ণ। আর এ সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া ওয়াজিব।
৬। আল্লহ কোথায়? এই প্রশ্ন করা শরীয়ত সম্মত ও সুন্নত। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা করেছিলেন।
৭। আল্লাহ তাআলা আসমানের উপর আছেন এ রকম দেয়াও শরিয়ত সম্মত। কারণ এই উত্তরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সঠিক বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। মহাগ্রন্থ আল-কোরআন এর সমর্থনে বলেঃ
(আরবি)
তোমরা কি তাঁর ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে গেছ যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদেরকে জমিনে ধ্বসিয়ে দিবেন না। (সূরা আল-মুলক, ১৬)
ইবনে আব্বাস (রাঃ) এই আয়াতের তফসীরে বলেন, তিনি হচ্ছেন আল্লাহ। আর আসমানে আছেন- এর অর্থ্আসমানের উপরে আছেন।
৮। ঈমান তখনই পূর্ণতা লাভ করবে যখন কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাথে সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আল্লাহর রাসূল তার সাক্ষ্য দেয়া হবে।
৯। আল্লাহ তাআলা যে আসমানের উপর, এই সাক্ষ্য দেয়াটা ঈমানের সত্যতার প্রমাণ দেয়। আর এই সাক্ষ্য দেয়া প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য ওয়াজিব।
১০। যারা বলে যে আল্লাহ কাআলা সশরীরে সর্বত্র বিরাজমান তাদে এই মত খন্ডণ করছে এই হাদিস। সত্য হল, আল্লাহ তাআলা তাঁর ইলমের দ্বারা সর্বত্র ও সর্ব সময়ে আমাদের সাথে আছেন।
১১। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ক্রীতদাসীকে যে পরীক্ষা করেছিলেন তাতে প্রমাণিত হয় যে, ক্রীতদাসী ঈমানদার ছিল কিনা এটা তিনি জানতেন না এবং উহা দ্বারা ঐ সমস্ত সুফীদের কথাকে খন্ডন করা হয়েছে যারা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গায়েব জানতেন।
হাদিসটির শিক্ষা
১। সাহাবায়ে কেরাম তাদের যে কোন অসুবিধাতেই, তা যতই ছোট হোক না কেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে উপস্থিত হতেন, ঐ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার কি নির্দেশ তা জানতে চাইতেন।
২। দ্বীনের যে কোন ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম মত বিচার করার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
(আরবি)
না, কখনো নয়, আপনার রবের কসম! তারা কখনো ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের মধ্যে যে মতভেদ ঘটেছে তার বিচারের ভার আপনার উপর না দেয়, তারপর আপনি যে বিচার করে দেন তাতে কোন মনঃকষ্ট না পায়। বরং তাকে উত্তমভাবে গ্রহণ করে নেয়। (সূরা নিসা, ৬৫)
৩। সাহাবী যিনি তার দাসীকে মেরেছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার আচরণকে অন্যায় হিসাবে গ্রহণ করে তার দাসীকেই মর্যাদা দিলেন।
৪। কখনও ক্রীতদাস মুক্ত করতে হলে শুধুমাত্র মুমিনদের মুক্ত করতে হবে, কাফেরদের নয়। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পরীক্ষা করেছিলেন। যখন বুঝলেন যে, তিনি ঈমানদার তখন তাকে মুক্ত করতে বললেন। যদি সে কাফের হত তবে তাকে মুক্ত করতে হুকুম দিতেন না।
৫। আল্লাহপাকের একত্ববাদ সমন্ধে প্রশ্ন করা ওয়াজেব। তার মধ্যে, আল্লাহ তাআলা যে আরশের উপর এটা গুরুত্বপূর্ণ। আর এ সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া ওয়াজিব।
৬। আল্লহ কোথায়? এই প্রশ্ন করা শরীয়ত সম্মত ও সুন্নত। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা করেছিলেন।
৭। আল্লাহ তাআলা আসমানের উপর আছেন এ রকম দেয়াও শরিয়ত সম্মত। কারণ এই উত্তরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সঠিক বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। মহাগ্রন্থ আল-কোরআন এর সমর্থনে বলেঃ
(আরবি)
তোমরা কি তাঁর ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে গেছ যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদেরকে জমিনে ধ্বসিয়ে দিবেন না। (সূরা আল-মুলক, ১৬)
ইবনে আব্বাস (রাঃ) এই আয়াতের তফসীরে বলেন, তিনি হচ্ছেন আল্লাহ। আর আসমানে আছেন- এর অর্থ্আসমানের উপরে আছেন।
৮। ঈমান তখনই পূর্ণতা লাভ করবে যখন কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাথে সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আল্লাহর রাসূল তার সাক্ষ্য দেয়া হবে।
৯। আল্লাহ তাআলা যে আসমানের উপর, এই সাক্ষ্য দেয়াটা ঈমানের সত্যতার প্রমাণ দেয়। আর এই সাক্ষ্য দেয়া প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য ওয়াজিব।
১০। যারা বলে যে আল্লাহ কাআলা সশরীরে সর্বত্র বিরাজমান তাদে এই মত খন্ডণ করছে এই হাদিস। সত্য হল, আল্লাহ তাআলা তাঁর ইলমের দ্বারা সর্বত্র ও সর্ব সময়ে আমাদের সাথে আছেন।
১১। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ক্রীতদাসীকে যে পরীক্ষা করেছিলেন তাতে প্রমাণিত হয় যে, ক্রীতদাসী ঈমানদার ছিল কিনা এটা তিনি জানতেন না এবং উহা দ্বারা ঐ সমস্ত সুফীদের কথাকে খন্ডন করা হয়েছে যারা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গায়েব জানতেন।