১
ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস
লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৬
হাদীস সম্বন্ধে ইমামগণের মতামত
নিন্মে ইমামগণের কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের উল্লেখিত বক্তব্যের মাধ্যমে, তাদের উপর যেসব দোষারোপ করা হয়, তা দূরীভুত হবে এবং তাদের অনুসারীদের নিকট সত্য উদঘাটিত হবে।
ইমাম আবু হানিফা (রঃ) -প্রত্যেক ব্যক্তিই তাঁর ফেকহার নিকট ঋনী-বলেনঃ
১। কোন ব্যক্তির জন্য হালাল হবে না আমাদের কোন কথাকে গ্রহণ করা, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে জ্ঞাত হবে ইহা আমরা কোথা হতে গ্রহণ করেছি।
২। ঐ ব্যক্তির জন্য হারাম, যে আমার দলীল না জেনে, শুধু কথার উপর ফতোয়া দেয়। কারণ আমরা মানুষ। আজ এক কথা বলি আগামীকাল আবার উহা হতে প্রত্যাবর্তন করি।
৩। যদি আমি এমন কোন কথা বলি, যা আল্লাহর কিতাব কিংবা রাসূলের কথার সাথে বিরোধপূর্ণ হয়, তখন আমার কথাকে ত্যাগ করবে।
৪। ইমাম ইবনে আবেদীন তার কিতাবে বলেনঃ যদি কোন হাদীস সহীহ হয় আর উহা মাযহাবের বিরোধী হয় তথাপি ঐ হাদীসের উপর আমল করতে হবে। উহাই হবে তার জন্য মাযহাব। কোন মোকাল্লেদ উহার উপর আমলের দ্বারা হানাফী মাযহাব হতে বের হয়ে যাবেন না। কারণ সহীহ রেওয়াতে ইমাম ইমাম আবু হানিফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছেঃ যদি হাদীস সহিহ হয় তবে উহাই আমার মযহাব।
ইমাম মালেক (রঃ) যিনি মদীনা মনোয়ারার ইমাম বলে খ্যাত ছিলেন, তিনি বলেনঃ
১। আমিতো একজন মানুষ মাত্র। ভুলও করি, শুদ্ধও করি। তাই আমার রায়কে উত্তমভাবে পর্যবেক্ষণ কর। তার মধ্যে যেগুলো কোরআন-হাদীসের সাথে মিলে তাদের গ্রহণ কর। আর যেগুলো কোরআন ও হাদীসের সাথে মিলে না তাকে ত্যাগ কর।
২। রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরে এমন কোন ব্যক্তি নেই যার কিছু কথা গ্রহণ করাও চলে, আর কিছু ত্যাগ করাও চলে। শুধুমাত্র নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের সব কথা গ্রহণযোগ্য।
ইমাম শাফেয়ী (রঃ) যিনি আহলে বাইতের (নবীর বংশধর) একজন, তিনি বলেনঃ
১- এমন কেহ নেই যার নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু সুন্নাত আছে আর কিছু গায়েব আছে। তাই আমি যত কথাই বলি না কেন, আর যত উসূলী কথাই বলি না কেন, যদি রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে তার বিপরীত কোন কথা আমার দ্বারা বলা হয়ে থাকে তবে রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথাই গ্রহণযোগ্য, আর উহাই আমার মত বলে ধরা হবে।
২-মুসলমানদের ইজমা হয়েছে যে যদি কারও নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন সুন্নাত প্রকাশিত হয় তাঁর কথাকে বাদ দিয়ে অন্য কারো কথা গ্রহণ করা তার জন্য জায়েয হবে না।
৩-যদি আমার কোন কিতাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের পরিপন্থী কোন কথা দেখতে পাও তবে তোমরা রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথাকেই গ্রহণ করবে। উহাই আমার কথা
৪- যদি কোন হাদীস সহীহ হয় তবে উহাই আমার মাযহাব।
৫- একদা ইমাম আহমেদ বিন হাম্বলকে সম্বোধন করে বলেনঃ তোমরা আমার থেকে হাদীস ও তার বর্ণনাকারীদের বিষয়ে অধিক জ্ঞাত আছ। যদি কোন সহীহ হাদীস পাও তবে সাথে সাথে আমাকে জ্ঞাত করবে যাতে আমি তার উপর মাযহাব বানাতে পারি।
৬। ঐ সমস্ত মাসআলা যাতে প্রমাণিত হয়েছে যে, আমি যা বলেছি তা সহীহ হাদীসের বিপরীত তবে আমি আমার জীবিত অবস্থায় ও মৃত্যুর পরও উহা হতে বিরত হচ্ছি।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রঃ) যাকে ইমামু আহলে সুন্নাত বলা হয়, তিনি বলেনঃ
১। আমাকে তাকলীদ (অন্ধঅনুসরণ) কর না, আর না মালেক বা শাফেয়ী (রঃ) বা আওযায়ী (রঃ) অথবা সাওরী (রঃ) কে অনুসরণ কর। বরং তারা যেখান হতে গ্রহণ করেছে সেখান হতে গ্রহণ কর। (যারা বুঝেছে ও শিখেছে তাদের হতে)
২। যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন হাদীসকে অস্বীকার করবে সেতো ধংসের মুখামুখি এসে দাড়িয়েছে।
ইমাম আবু হানিফা (রঃ) -প্রত্যেক ব্যক্তিই তাঁর ফেকহার নিকট ঋনী-বলেনঃ
১। কোন ব্যক্তির জন্য হালাল হবে না আমাদের কোন কথাকে গ্রহণ করা, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে জ্ঞাত হবে ইহা আমরা কোথা হতে গ্রহণ করেছি।
২। ঐ ব্যক্তির জন্য হারাম, যে আমার দলীল না জেনে, শুধু কথার উপর ফতোয়া দেয়। কারণ আমরা মানুষ। আজ এক কথা বলি আগামীকাল আবার উহা হতে প্রত্যাবর্তন করি।
৩। যদি আমি এমন কোন কথা বলি, যা আল্লাহর কিতাব কিংবা রাসূলের কথার সাথে বিরোধপূর্ণ হয়, তখন আমার কথাকে ত্যাগ করবে।
৪। ইমাম ইবনে আবেদীন তার কিতাবে বলেনঃ যদি কোন হাদীস সহীহ হয় আর উহা মাযহাবের বিরোধী হয় তথাপি ঐ হাদীসের উপর আমল করতে হবে। উহাই হবে তার জন্য মাযহাব। কোন মোকাল্লেদ উহার উপর আমলের দ্বারা হানাফী মাযহাব হতে বের হয়ে যাবেন না। কারণ সহীহ রেওয়াতে ইমাম ইমাম আবু হানিফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছেঃ যদি হাদীস সহিহ হয় তবে উহাই আমার মযহাব।
ইমাম মালেক (রঃ) যিনি মদীনা মনোয়ারার ইমাম বলে খ্যাত ছিলেন, তিনি বলেনঃ
১। আমিতো একজন মানুষ মাত্র। ভুলও করি, শুদ্ধও করি। তাই আমার রায়কে উত্তমভাবে পর্যবেক্ষণ কর। তার মধ্যে যেগুলো কোরআন-হাদীসের সাথে মিলে তাদের গ্রহণ কর। আর যেগুলো কোরআন ও হাদীসের সাথে মিলে না তাকে ত্যাগ কর।
২। রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরে এমন কোন ব্যক্তি নেই যার কিছু কথা গ্রহণ করাও চলে, আর কিছু ত্যাগ করাও চলে। শুধুমাত্র নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের সব কথা গ্রহণযোগ্য।
ইমাম শাফেয়ী (রঃ) যিনি আহলে বাইতের (নবীর বংশধর) একজন, তিনি বলেনঃ
১- এমন কেহ নেই যার নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু সুন্নাত আছে আর কিছু গায়েব আছে। তাই আমি যত কথাই বলি না কেন, আর যত উসূলী কথাই বলি না কেন, যদি রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে তার বিপরীত কোন কথা আমার দ্বারা বলা হয়ে থাকে তবে রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথাই গ্রহণযোগ্য, আর উহাই আমার মত বলে ধরা হবে।
২-মুসলমানদের ইজমা হয়েছে যে যদি কারও নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন সুন্নাত প্রকাশিত হয় তাঁর কথাকে বাদ দিয়ে অন্য কারো কথা গ্রহণ করা তার জন্য জায়েয হবে না।
৩-যদি আমার কোন কিতাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের পরিপন্থী কোন কথা দেখতে পাও তবে তোমরা রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথাকেই গ্রহণ করবে। উহাই আমার কথা
৪- যদি কোন হাদীস সহীহ হয় তবে উহাই আমার মাযহাব।
৫- একদা ইমাম আহমেদ বিন হাম্বলকে সম্বোধন করে বলেনঃ তোমরা আমার থেকে হাদীস ও তার বর্ণনাকারীদের বিষয়ে অধিক জ্ঞাত আছ। যদি কোন সহীহ হাদীস পাও তবে সাথে সাথে আমাকে জ্ঞাত করবে যাতে আমি তার উপর মাযহাব বানাতে পারি।
৬। ঐ সমস্ত মাসআলা যাতে প্রমাণিত হয়েছে যে, আমি যা বলেছি তা সহীহ হাদীসের বিপরীত তবে আমি আমার জীবিত অবস্থায় ও মৃত্যুর পরও উহা হতে বিরত হচ্ছি।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রঃ) যাকে ইমামু আহলে সুন্নাত বলা হয়, তিনি বলেনঃ
১। আমাকে তাকলীদ (অন্ধঅনুসরণ) কর না, আর না মালেক বা শাফেয়ী (রঃ) বা আওযায়ী (রঃ) অথবা সাওরী (রঃ) কে অনুসরণ কর। বরং তারা যেখান হতে গ্রহণ করেছে সেখান হতে গ্রহণ কর। (যারা বুঝেছে ও শিখেছে তাদের হতে)
২। যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন হাদীসকে অস্বীকার করবে সেতো ধংসের মুখামুখি এসে দাড়িয়েছে।