hadith book logo

ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস

লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৯

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সাহাবীদের অনুভূতি-কে স্বীকৃতি দান

কুলাইবের উপরোক্ত হাদীস হতে এটাই বুঝা গেল যে, মৃতরা শুনতে পায় না। উহা স্পষ্টভাবে বুঝা যায় সাহবীদের মতামত থেকেও। তাদের প্রথম সারিতে আছেন ওমর (রাঃ) এর মত সাহবী। তিনি বলেনঃ যে দেহের মধ্যে আত্মা নেই সে কথা শুনতে পায় না। এই আক্বীদা যে তাদের হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে গাথা ছিল তা উক্ত বক্তব্যেই প্রতীয়মান হয়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে তাদের কথা স্বীকার করেছিলেন তা উহাকেই দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। কিন্তু উক্ত ঘটনা, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, উহা শুধুমাত্র বদর যুদ্ধে নিহত কুলাইব কূপের মুশরিকদের বেলায় প্রযোজ্য।

ইমাম আহম্মদ (রঃ) যে রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন তাতে একথা আরও স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছেঃ “ওমর (রাঃ) তার কথা শুনতে পেলেন। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাদের তিনবারের পরেও ডাকবেন? আর তারা কি শুনতে পাচ্ছে? কারণ, আল্লাহ তালা বলেনঃ (নিশ্চয় আপনি মৃতদের কথা শুনাতে পারেন না)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ঐ আল্লাহর কসম যার হতে আমার জীবন! তারা আমার কথা তোমাদের থেকে কম শুনতে পাচ্ছে না। কিন্তু তারা কোন জবাব দিতে পারছেনা। “(বর্ণনায় আহম্মদ)

এ কথার দলিল স্বরূপ ওমর (রাঃ) ক্বুরআনের আয়াত পেশ করেন। যদি এই কথাকে তিনি বুঝতে না পারতেন তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবশ্যই তাকে অস্বীকার করতেন। আর বলতেন, যে এই আয়াত দ্বারা এটা বুঝাচ্ছে না যে, মৃতরা কখনও শুনতে পায় না। যেহেতু তিনি উহা অস্বীকার করেননি, ফলে তাতে বুঝা যায় যে, ওমর (রাঃ) যা বলেছেন তা সত্য। আল্লাহই ভাল জানেন।