hadith book logo

ঈমান-ইসলামের মূলভিত্তি ও ইসলামী আকীদা বিশ্বাস

লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনূ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫২

হজের আমলসমূহ

এহরাম, মিনাতে রাত্রি যাপন, আরাফাতে অকুফ করা, মুযদালাফাতে রাত্রি যাপন করা, রমী, যবেহ, চুল মুন্ডান, তওয়াফ, সায়ী, হালাল হওয়াঃ-

১। জ্বিলহজ্জের অষ্টম দিবসে মক্কাতে এহরামের কাপড় পরিধান করুন। তারপর বলুন “ লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা বিহাজ্জাতি” (হে আল্লাহ, আমি হজের নিয়ত করলাম। তারপর মিনাতে গমন করে সেখনে রাত্রি অতিবাহিত করুন। ঐ স্থানে পাঁচ ওয়াক্তের সালাত কসর করে আদায় করুন। যোহর, আসর এশা এই তিন সালাত নির্দিষ্ট ওয়াক্তে কসর করে আদায় করুন।

২। তারপর জিলহজের নবম দিবসে সুর্য উদয়ের পরে মিনা হতে আরাফাতে গমন করুন। সেখানে যোহর ও আসরকে “জমা তাক্দীম” করে আদায় করুন এক আযান ও দুই একামতে। তখন কোন সুন্নত আদায় করার প্রয়োজন নেই। তবে একটা ব্যাপারে সাবধান হবেন। তা হল আরাফাতের সীমার মধ্যে থাকবেন, খাওয়া দাওয়া করবেন, তালবীয়া পাঠ করবেন আর এক আল্লাহর নিকট জিকির">দু’আ করতে থাকবেন। কারণ, আরাফাতে অকুফ (অবস্থান) করা হজের রোকনসমূহের মূল। আর মসজিদে নামিরার বেশীরভাগ আরাফাতের বাহিরে। (তাই সালাত শেষে মসজিদ হতে বের হয়ে আবার আরাফাত ময়দানে অকুফ করা উচিত)

৩। সূর্যাস্তের পর আরাফাত হতে বের হয়ে মুযদালাফার দিকে রাওয়ানা হউন। সেখানে মাগরিব ও এশাকে এক করে “জমা তাখির” সালাত আদায় করুন। তারপর সেখানে রাত্রি যপন করে ফজরের সালাত আদায় করুন। তারপর মাশআরুল হারামে বেশী করে আল্লাহকে স্বরণ করুন। তবে দুর্বলরা এখানে রাত্রি যাপন না করলেও তা জায়েয হবে।

৪। তারপর সূর্য উঠার পূর্বেই মুদালাফা হতে রাওয়ানা হয়ে মিনার দিকে অগ্রসর হউন। মিনাতে পৌছেঁ বড় জমরাতে সাতটা ছোট কংকর আল্লাহু আকবার বলে নিক্ষেপ করুন। সূর্য উঠার পর এমনকি রাত্র পর্যন্ত উহা নিক্ষেপ করা চলে।

৫। তারপর যবহ করুন এবং মিনা বা মক্কাতে ঐ গোশ্ত আহার করুন। ঈদের তিন দিন নিজেরাও আহার করুন আর ফকির, মিসকিনদের মধ্যে ও গোশ্ত বিলিয়ে দিন। যদি আপনার নিকট কোরবাণী করার টাকা না থাকে তবে হজের মধ্যে তিন দিন সিয়াম পালন করুন আর বাকী সাতদিন দেশে প্রত্যাবর্তন করে আদায় করুন। মেয়েদের জন্যও একই হুকুম। তার উপরও যবেহ করা ওয়াজিব, অসমর্থ হলে সিয়াম পালন করবেন। এই নিয়ম হজে তামাত্তুর বেলায় প্রযোজ্য। তারপর আপনার মস্তককে পূর্ণভাবে মুন্ডিত করুন বা সমগ্র মাথার চুল খাটো করুন। তবে মুন্ডন করা উত্তম। তারপর আপনার পোষাক পরিধান করুন। এখন আপনার জন্য স্ত্রী সহবাস ব্যতীত সমস্ত কিছুই হালাল হল।

৭। তারপর মক্কায় প্রত্যাবর্তন করে তওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সা’য়ী করুন। ইহাকে ঈদের শেষ দিন পর্যন্ত দেরী করে আদায় করা চলে। এরপর আপনার স্ত্রীর সাথে সহবাস আপনার জন্য হালাল হয়ে যাবে।

৮। তারপর ঈদের কয়েক দিনের জন্য মিনাতে প্রত্যাবর্তন করুন। ওয়াজিব হিসাবে ওখানে রাত্রি অতিবাহিত করুন। প্রত্যহ যোহরের পর তিনটা জমারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করুন। শুরু করবেন ছোট টা হতে। ইহা রাত্রি পর্যন্ত করা চলে। প্রতিটিতে ৭ টি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করুন। প্রতিবার পাথর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার বলুন। খেয়াল রাখতে হবে কঙ্করগুলো যেন জমারাতে লাগে। যেগুলো লাগবে না তা পুনর্বার নিক্ষেপ করুন। সুন্নাত হচ্ছে, ছোট ও মাঝারী জামরাতে পাথর নিক্ষেপ করে হাত উঠিয়ে দু’আ করা। পাথর নিক্ষেপে অসমর্থ হলে মেয়েদের, রোগীদের, ছোটদের ও দুর্বলদের পক্ষ হতে অন্যেরা কঙ্কর নিক্ষেপ করতে পারবে। যদি কোন জরুরী পরিস্থিতি দেখা দেয় তবে দ্বিতীয় বা দৃতীয় দিনেও উহা নিক্ষেপ করা যাবে।

৯। বিদায়ী তাওয়াফ ওয়াজিব। এই তাওয়াফ করার সাথে সাথে সফর শুরু করতে হবে।