hadith book logo

মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

জামাআতের উদ্দেশ্যে মসজিদে গমন

জামাআতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে যখন মসজিদের দিকে রওনা দেবে তখন আশপাশের লোকজনকে নামাযের জন্য ডাকবে। মুসলিম ইবনে আবু বকরা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল ﷺ এর সাথে ফজরের নামাযের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। তিনি যখনই কারো পাশ দিয়ে গমন করতেন তখনই তাকে নামাযের জন্য ডাক দিতেন অথবা তাকে নাড়া দিয়ে জাগিয়ে দিতেন। (আবু দাউদ, হা/১২৬৬)

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, যখন কোন বান্দা উত্তমরূপে ওযূ করে। অতঃপর নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে বের হয়। এমতাবস্থায় সে যত কদম হাঁটবে প্রত্যেকটি কদমের বিনিময়ে তার জন্য একটি করে মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং একটি করে তার গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বুখারী, মুসলিম)

প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা :

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যদি লোকেরা জানত যে, আযান দেয়া এবং প্রথম কাতারে নামায পড়ার মধ্যে কী পরিমাণ সওয়াব রয়েছে। আর সেজন্য যদি লটারী করা ব্যতীত কোন উপায় না পেত, তাহলে তারা লটারী করত। আর যদি তারা জানত যে, আগে নামাযে যাওয়ার মধ্যে কী পরিমাণ সওয়াব রয়েছে, তাহলে তারা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আগে যাওয়ার চেষ্টা করত। আর যদি লোকেরা জানত যে, এশা ও ফজরের জামাআতের মধ্যে কী পরিমাণ সওয়াব রয়েছে। তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে অর্থাৎ হাত ও হাঁটুর উপর ভর দিয়ে হলেও মসজিদে আসত। (বুখারী, মুসলিম)

মসজিদে যাওয়ার সময় নূর প্রার্থনা করা :

আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর লাভ করা মুমিনের জন্য এক বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। হাশরের ময়দানে মুমিনদের সামনে এবং তাদের ডানে ও বামে নূর চমকাতে থাকবে। আর তখন মুনাফিকরা অন্ধকারে থাকবে এবং আফসোস করতে থাকবে। এজন্য নবী ﷺ মসজিদে যাওয়ার সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর চেয়ে দো‘আ করতেন। আমরাও এ দো‘আটি পড়ব :

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ فِىْ قَلْبِىْ نُوْرًا وَّ فِىْ بَصَرِىْ نُوْرًا وَّ فِىْ سَمْعِىْ نُوْرًا وَّ عَنْ يَّمِيْنِىْ نُورًا وَّ عَنْ يَّسَارِىْ نُوْرًا وَّ فَوْقِىْ نُوْرًا وَّ تَحْتِىْ نُوْرًا وَّ أَمَامِىْ نُوْرًا وَّ خَلْفِىْ نُوْرًا وَّ عَظِّمْ لِىْ نُوْرًا

আল্লা-হুম্মাজ‘আল ফী-ক্বালবী নূরাও ওয়াফী বাসরী নূরাও ওয়াফী সাম‘য়ী নূরাও ওয়া‘আন ইয়ামীনী নূরাও ওয়া‘আন ইয়াসা-রী নূরাও ওয়াফাউক্বী নূরাও ওয়াতাহ্তী নূরাও ওয়াআমা-মী নূরাও ওয়াখালফী নূরাও ওয়া ‘আজ্জিম লী নূরা।

অর্থ : ‘‘হে আল্লাহ! আমার অন্তরে, চোখে, কানে এবং আমার ডানে-বামে, উপরে-নিচে, সামনে-পিছনে নূর দান কর। এবং আমাকে অধিক নূর দান কর।’’ (মুসলিম, মেশকাত হাঃ ১১৯৫ পৃঃ ১০৬)