hadith book logo

মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

টয়লেট সংক্রান্ত আমল

মুমিন বান্দা প্রস্রাব-পায়খানায় যাওয়ার সময় পবিত্রতার উপকরণ যেমন- পানি, ঢিলা বা টিসু সঙ্গে নিয়ে যাবে। টয়লেটে পানি আছে কি না আগে চেক করে নেবে। প্রস্রাব-পায়খানায় ঢোকার সময় প্রথমে বাম পা দিয়ে ঢোকবে এবং বের হওয়ার সময় প্রথমে ডান পা দিয়ে বের হবে। প্রস্রাবের ছিটা যাতে কাপড়ে ও শরীরে না লাগে সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবে। পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে প্রস্রাব-পায়খানা করবে না। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া দাঁড়িয়ে প্রস্রাব-পায়খানা করবে না। প্রস্রাবের শেষ ফুটা ভালোভাবে নিষ্কাশন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় নেবে। তবে ঢিলা ব্যবহারের সময় লজ্জা বজায় রাখবে। প্রস্রাব-পায়খানা হতে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করবে। প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন না করলে মৃত্যুর পর কবর থেকেই আযাব শুরু হয়ে যাবে।’’ (বুখারী হা: ২১৮)

প্রতিটি মানুষেরই প্রস্রাব-পায়খানা করতে হয়। কিন্তু প্রস্রাব-পায়খানা নাপাক জিনিস। আর প্রস্রাব-পায়খানার জায়গায় শয়তান ও জ্বিনদের আনাগুনা থাকে। তাই শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাযতের জন্য টয়লেটে প্রবেশ করার পূর্বে দো‘আ পড়ে নিতে হবে। হাদীসের ব্যাখ্যাকারী মোল্লা আলী কারী (রহ:) বলেন, নিচের দো‘আটি পড়ার বরকতে সবধরনের ক্ষতিকারক শয়তান এবং দো‘আ পাঠকারীর মধ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আড়াল সৃষ্টি করে দেয়া হয় :

اَللّٰهُمَّ إِنِّى أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়ালখাবা-ইস।

অর্থ : ‘‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট অপবিত্র পুরুষ ও মহিলা জ্বিন হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’’ (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হা: ৩৩৭, পৃ: ৮২।)

মুমিন বান্দা প্রস্রাব-পায়খানা করার সময় সাময়িকভাবে আল্লাহর যিকির থেকে বিরত থাকে এজন্য টয়লেট থেকে বের হয়ে সে আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী ﷺ যখন প্রস্রাব-পায়খানা হতে বের হতেন, তখন নিচের দো‘আ বলতেন।

غُفْرَانَكَ (গুফরা-নাকা); অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি ক্ষমা চাই।

(তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মেশকাত হা: ৩৫৯, পৃ: ৪৩)