hadith book logo

মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩১

নফল আমলের গুরুত্ব

ফরজ ইবাদাত পালনের সাথে সাথে অবিরত নফল ইবাদাত পালন করতে থাকা আল্লাহর নৈকট্য ও বন্ধুত্বেও পথ। আর এভাবে অবিরত নফল ইবাদাত করতে করতে মানুষ আল্লাহর মাহবুব বা প্রিয় বান্দায় পরিণত হয়। বান্দার জীবনে এর চেয়ে বড় নিয়ামত ও তৃপ্তি আর কিছুতে নেই।

হাদীসে কুদসীতে উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘নফল ইবাদাতের মাধ্যমে বান্দা আমার নিকটবর্তী হতে থাকে। এভাবে এক পর্যায়ে আমি তাকে ভালবাসতে শুরু করি। এমনকি আমি তার কান হয়ে যাই যা দ্বারা সে শুনতে পায়। আমি তার হাত হয়ে যাই যা দ্বারা সে স্পর্শ করে। আমি তার চোখ হয়ে যাই যা দ্বারা সে দেখতে পায়। আমি তার পা হয়ে যাই যা দ্বারা সে চলাফেরা করে। আর সে যদি আমার নিকট কিছু প্রার্থনা করে আমি তাকে অবশ্যই তা দান করি। আর সে যদি আমার নিকট কিছু থেকে আশ্রয় চায় তবে আমি তাকে আশ্রয় দিয়ে থাকি। (বুখারী)

মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশ, তার স্রষ্টা মহান আল্লাহর সাথে সুগভীর সম্পর্ক স্থাপন, আল্লাহর দ্বীনের পথে অবিচল থেকে ব্যাপকভাবে তার প্রচার ও প্রসারের মানসিক শক্তি অর্জন এবং এ পথের প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার মুকাবেলা করে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের শক্তি অর্জনের জন্য দৈনন্দিন ফরজ ইবাদাতের সাথে নফল ইবাদাতের গুরুত্বও অপরিসীম। কুরআন মাজীদে বাধ্যতামূলক ইবাদাতের পাশাপাশি ঐচ্ছিক ইবাদাতে মগ্ন হওয়ার জন্যও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।

নফল ইবাদাত বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন- ইল্ম অর্জন করা এবং মানুষকে তা শিক্ষা দেয়া, নামায পড়া, রোযা রাখা, দান-খায়রাত করা, কুরআন তেলাওয়াত করা, আল্লাহর পথে দাওয়াত দেয়া ইত্যাদি। এসব ইবাদাতের প্রত্যেকটিরই ফরজ ও নফল পর্যায় রয়েছে। মুমিন বান্দা নিজের আগ্রহ ও সাধ্যানুসারে সহীহ সুন্নাতের আলোকে কিছু নফল ইবাদাত বেছে নিয়ে নিজের জন্য দৈনন্দিন, সাপ্তাহিক বা মাসিক একটি ওযীফা তৈরি করে নেবে। এখানে সহীহ হাদীসের আলোকে সহজে পালনীয় এবং অধিক সওয়াব অর্জনের কিছু নফল ইবাদাতের আলোচনা করা হল।