hadith book logo

মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮

মুমিনের সফর

 সফরে বের হওয়ার সময় কমপক্ষে একজন সঙ্গী নেওয়া উচিত। তবে সঙ্গী না থাকলে একাকী যাওয়াতে দোষ হবে না।

 যানবাহনে পা রাখার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে। (তিরমিযী)

 যানবাহনে ঠিকমত বসার পর তিনবার আল্লাহু আকবার বলবে এবং নিম্নোক্ত দো‘আটি পাঠ করবে,

سُبْحَانَ الَّذِىْ سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَمَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِيْنَ وَإِنَّا إِلٰى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِىْ سَفَرِنَا هٰذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوٰى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضٰى اَللّٰهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هٰذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهٗ اَللّٰهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِى السَّفَرِ وَالْخَلِيْفَةُ فِى الْاَهْلِ اَللّٰهُمَّ إِنِّى أَعُوْذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوْءِ الْمُنْقَلَبِ فِى الْمَالِ وَالْاَهْلِ

সুবহা-নাল্লাযী সাখ্খারা লানা হা-যা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন, ওয়াইন্না ইলা রবিবনা লামুনক্বালিবূন, আল্লা-হুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল বিররা ওয়াত্তাক্বওয়া, ওয়া মিনাল ‘আমালি মা তারযা, আল্লা-হুম্মা হাওভিন ‘আলাইনা সাফারানা হা-যা ওয়াত্বভি আন্না বু‘দাহু, আল্লা-হুম্মা আনতাস সা-হিবু ফিস সাফারি ওয়াল খালীফাতু ফিল আহল, আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন ওয়া‘ছা-ইস সাফারি ওয়া কাআবাতিল মানযারি ওয়া সূইল মুনক্বালাবি ফিল মালি ওয়াল আহল।

অর্থ : ঐ আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, যিনি এ বাহনকে আমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন অথচ তাকে আমরা অনুগত করতে সক্ষম নই। অবশ্যই আমরা আমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করব। হে আল্লাহ! আমরা এই সফরে তোমার নিকট নেকী ও তাক্বওয়া চাই। আর তোমার পছন্দমত আমল চাই। হে আল্লাহ! এ সফরকে আমাদের উপর সহজ করে দাও এবং তার দূরত্বকে কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই আমাদের এই সফরের সাথি আর পরিবারের উপর রক্ষক। হে আল্লাহ! তোমার নিকট সফরের কষ্ট হতে আর সফরের কষ্টদায়ক দৃশ্য হতে এবং সফর হতে প্রত্যাবর্তনকালে সম্পদ ও পরিবারের ক্ষয়-ক্ষতি ও কষ্টদায়ক দর্শন হতে আশ্রয় চাই ।

রাসূল ﷺ যখন সফর হতে ফিরে আসতেন বলতেন,

آيِبُوْنَ تَائِبُوْنَ عَابِدُوْنَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ

আ-য়িবূনা তা-ইবূনা ‘আবিদূনা লিরবিবনা হা-মিদূন।

‘‘তওবা করতে করতে, ইবাদাতরত অবস্থায় এবং আমাদের রবের প্রশংসা করতে করতে আমরা প্রত্যাবর্তন করছি।’’ (মুসলিম হা: ৩৩৩৯, মেশকাত পৃ: ২১৩ হা: ২৪২০)

 পথ চলতে গিয়ে যদি কোথাও যাত্রাবিরতি করতে হয় তাহলে রাস্তা ছেড়ে অবস্থান নেয়া সুন্নাত। যেন যাতায়াতকারীদের কোন অসুবিধার কারণ না হয় এবং তাদের কষ্ট না হয়। (মুসলিম, ২য় খন্ড)

 সফর অবস্থায় যানবাহন যদি উঁচু স্থানে উঠতে থাকে তবে আল্লাহু আকবার বলবে। উপর থেকে নিচে নামার সময় ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। (বুখারী)

 মেশকাতের শরাহ মিরকাতে বলা হয়েছে, কেউ যখন নিজের বাড়িতে বা মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সিঁড়িতে প্রথমে ডান পা রাখবে এবং ‘‘আল্লাহু আকবার’’ বলবে। অনুরূপ নিচে নামার সময় বাম পা আগে রেখে প্রতি পদক্ষেপে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা উচিত।

হাদীসের বিখ্যাত ভাষ্যকার মোল্লা আলী ক্বারী (রহ:) লিখেছেন, উপর দিকে উঠার সময় ‘আল্লাহু আকবার’ বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে- মনে মনে এরূপ একটা অভিব্যক্তি প্রকাশ করা যে, হে আল্লাহ! বাহ্যত যদিও আমি উপর দিকে উঠছি, কিন্তু সবকিছুর উপরে তো আপনার স্থান। আর নিচের দিকে নামার সময় ‘সুবহানাল্লাহ’ বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে এ কথা বলা যে, হে আল্লাহ! আমরা নিচে অবস্থান করি, কিন্তু আপনি এর থেকে পবিত্র।