hadith book logo

মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭০

রাসূলের চরিত্রের আরো কিছু দিক

রাসূল ﷺ কোন মুমিনকে কখনো গালি দেননি। কোন স্ত্রীকে বা খাদেমকে তিরস্কার বা লানত করেননি। যুদ্ধের ময়দানে তাকে বলা হত আপনি কাফেরদের প্রতি লানত করুন, তিনি বলতেন আমি লানতকারী হিসেবে প্রেরিত হয়নি বরং রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। আল্লাহর পথে জিহাদ ছাড়া তিনি কোনদিন কাউকে প্রহার করেননি। আল্লাহর হক ছাড়া তিনি কারও কাছ থেকে প্রতিশোধ নেননি। দু’টি কাজের মধ্যে এখতিয়ার দেয়া হলে তিনি সহজটি গ্রহণ করতেন। গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হয় এমন কাজ থেকে তিনি দূরে থাকতেন। আযাদ বা দাস তাঁর কাছে যেই আসত তার প্রয়োজন মিটানোর জন্য রাসূল ﷺ নিজে শরীক হতেন।

আনাস বিন মালিক (রাঃ) রাসূল ﷺ এর খাদেম ছিলেন। তিনি বলেন, ঐ সত্ত্বার কসম! যিনি রাসূলকে সত্য বিধানসহ পাঠিয়েছেন, আমার কোন কাজ রাসূল ﷺএর নিকট অপছন্দনীয় হলে তিনি কোনদিন আমাকে বলেননি এটা কেন করেছ? বরং তিনি বলতেন, আল্লাহ যা হুকুম করেছেন, তা-ই হয়েছে। রাসূল ﷺ কোন বিছানাকে মন্দ বলতেন না, বিছানা থাকলে বিছানায় শুইতেন আর বিছানা না থাকলে মাটিতে শুইতেন।

রাসূল ﷺ কে পাঠানোর আগে আল্লাহ তা‘আলা তাওরাত কিতাবে তাঁর গুণাগুণ বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ আমার মনোনীত বান্দা। তিনি কর্কষভাষী নন এবং কঠোর হৃদয়ের অধিকারীও নন, তিনি বাজারে গোলমালকারী নন। তিনি মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে দেন না বরং ক্ষমা করে দেন। তাঁর জন্ম হবে মক্কায়, হিজরত হবে মদিনায়। যারা তাঁর সঙ্গী হবে তারাই হবে কুরআন ও ইল্মের ধারক-বাহক।

রাসূল ﷺ এর চরিত্রের মধ্যে রয়েছে যে, তিনি কারো সাথে সাক্ষাত করলে প্রথমে তাকে সালাম দিতেন। কারো প্রয়োজনে দাঁড়ালে সে সরে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি ধৈর্য ধরতেন। কেউ তাঁর হাত ধরলে ধারক হাত না সরানো পর্যন্ত তিনি হাত সরাতেন না। তিনি তাঁর সাহাবীদের সাথে সাক্ষাত করলে মুসাফাহার জন্য নিজে হাত বাড়িয়ে দিতেন। তিনি যখনই কোথাও বসতেন বা উঠতেন তখনই আল্লাহর যিকির করতেন। নামাযে থাকাকালীন কেউ আসলে তিনি নামায সংক্ষিপ্ত করে তার সাথে সাক্ষাত করতেন। লোক চলে যাওয়ার পর, আবার নামাযে মশুগুল হয়ে যেতেন।