hadith book logo

মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর আমল

মুমিন বান্দা ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর দু’হাত দ্বারা চোখ ও মুখ মুছে নেবে, যেন ঘুমের প্রভাব দূর হয়ে যায়। আল্লাহর রাসূল ﷺ তা-ই করতেন।

(শামায়েলে তিরমিযী)

মুমিন বান্দা ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে :

ঘুম একধরনের মৃত্যু। আল্লাহ তা‘আলা যখন বান্দাকে সেই মৃত্যু থেকে জীবিত করলেন এবং নতুন আরো একটি দিন তাকে উপহার দিলেন, সেজন্য বান্দা প্রথমেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে এভাবে-

اَلْحَمْدُ للهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وإِلَيْهِ النُّشُوْرُ

আল্ হাম্দুলিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না বা‘দা মা আমা-তানা ওয়াইলাইহিন নুশূর।

অর্থ : ‘‘সকল প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন, আর তাঁর দিকেই আবার প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’’ (বুখারী)

ঘুম থেকে উঠে মুমিন বান্দা নামায পড়ে আল্লাহর কাছে দো‘আ করে। আল্লাহ যাতে তার নামায ও দো‘আ কবুল করেন সেজন্য বান্দা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করবে, সেই সাথে তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতি দেবে। যে ভাষায় মহিমা প্রকাশ করতে হবে নবী ﷺ তা আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যদি শেষ রাত্রে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে নিচের দো‘আটি পড়ে, তবে সে যে কোন দো‘আ করলে তার দো‘আ কবুল করা হবে। আর যদি সে ওযূ করে নামায আদায় করে তবে তার নামায কবুল করা হবে :

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ-- وَسُبْحَانَ اللهِ وَ الْحَمْدُ للهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ- اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুলমুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীর, ওয়া সুবহা-নাল্লা-হি ওয়ালহামদু লিল্লা-হি ওয়ালা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ, আল্লা-হুম্মাগ ফিরলী।

অর্থ : ‘‘আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাশীল। আমরা আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। তাঁর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি বা উপায় নেই। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।’’ (বুখারী, মেশকাত হা: ১২১৩)

ঘুম থেকে জেগে উঠে বান্দা যখন বিশ্বজগতের দিকে তাকায় তখন দেখতে পায় বিশাল এক আকাশ, তাতে নেই কোন স্তম্ভ; তারপরও তা শূণ্যের উপর ঝুলে আছে। সে আকাশে আবার কত অগণিত তারা মিটি মিটি করে জ্বলছে। বান্দা আরো দেখতে পায় এক বিশাল পৃথিবী, আর এই পৃথিবীতে রয়েছে কত সাগর-নদী, খাল-বিল, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা। আরো আছে বিভিন্ন জাতের প্রাণী। এসব দেখে একটু চিন্তা করলেই মাথা নত হয়ে আসে এসবের স্রষ্টার সামনে। কত যে শক্তিশালী ও মহান তিনি তা কল্পনাও করা যায় না। এসব দেখে মুমিন বান্দা বলতে বাধ্য হয় ‘হে আল্লাহ! এসবের কোনটাই তুমি অনর্থক সৃষ্টি করোনি’। এ ধরণের একটি বাস্তব চিত্র বর্ণনা করেছেন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পবিত্র কালামের সূরা আলে ইমরানের শেষ রুকুতে। এজন্য নবী ﷺ ঘুম থেকে জেগে সূরা আলে ইমরানের শেষ রুকু, অপর বর্ণনানুসারে শেষ রুকুর প্রথম পাঁচটি আয়াত পাঠ করতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, যখন রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হল তখন নবী ﷺ উঠলেন এবং আকাশের দিকে তাকালেন অতঃপর সূরা আলে ইমরানের শেষ রুকুটি তেলাওয়াত করলেন। তারপর ওযূ করে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করলেন। (বুখারী হা: ৬৩১৬, মুসলিম হা: ৭৬৩)

সূরা আলে ইমরানের শেষ রুকুর প্রথম পাঁচটি আয়াত :

إِنَّ فِيْ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْاَ لْبَابِ - اَلَّذِيْنَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ قِيَامًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُوْنَ فِيْ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ - رَبَّنَا إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهٗ وَمَا لِلظَّالِمِيْنَ مِنْ أَنْصَارٍ - رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُّنَادِيْ لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا - رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِ - رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ -

ইন্না ফী খালক্বিসসামা-ওয়া-তি ওয়ালআরযি, ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়াননাহা-রি, লাআ-য়া-তিল লিউলিল আলবা-ব। আল্লাযীনা ইয়াযকুরূনাল্লা-হা ক্বিয়া-মাওঁ ওয়া কু‘ঊদাওঁ ওয়া‘আলা জুনূবিহিম, ওয়া ইয়াতাফাক্কারূনা ফী খালকিসসামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি, রববানা মা-খালাক্বতা হা-যা বা-ত্বিলা, সুবহা-নাকা ফাক্বিনা ‘আযা-বাননা-র। রববানা ইন্নাকা মান তুদ্খিলিন না-রা ফাক্বাদ আখঝাইতাহ্, ওয়ামা লিযযো-লিমীনা মিন আনসা-র। রববানা ইন্নানা সামি’না মুনা-দিয়াই ইউনা-দী লিলঈমা-নি আনআ-মিনূ বিরাব্বিকুম ফাআ-মান্না। রববানা ফাগফিরলানা যুনূবানা ওয়াকাফ্ফির ‘আন্না সায়্যিআ-তিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মা‘আল আবরা-র। রববানা ওয়াআ-তিনা মা ওয়া‘আত্তানা ‘আলা রুসুলিকা ওয়ালা তুখযিনা ইয়াউমাল ক্বিয়ামাহ, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আ-দ।

অর্থ : ‘‘নিশ্চয় আসমান ও যমীনের সৃষ্টির মধ্যে এবং দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য স্পষ্ট নিদর্শনাবলী রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও যমীনের সৃষ্টি বিষয়ে চিন্তা করে (বলে), হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব বৃথা সৃষ্টি করেননি, আপনিই পবিত্রতম। অতএব আমাদেরকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করুন। হে আমাদের প্রতিপালক! অবশ্যই আপনি যাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, নিশ্চয় তাকে লাঞ্চিত করবেন এবং অত্যাচারীদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আমরা এক আহবানকারীকে আহবান করতে শুনেছি যে, তোমরা স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তাতেই আমরা ঈমান এনেছি; হে আমাদের রব! আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করুন আর আমাদের গুনাহগুলো মুছে দিন এবং পুণ্যবানদের সাথে আমাদেরকে মৃত্যুদান করুন। হে আমাদের রব! আপনি স্বীয় রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদের সাথে যে অঙ্গীকার করেছিলেন তা দান করুন এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে লাঞ্চিত করবেন না; নিশ্চয় আপনি ওয়াদা খিলাফ করেন না।’’