১
মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪২
নফল রোযা
সিয়াম বা রোযা মুমিনের জীবনে অন্যতম ইবাদাত। ফরজ রেযার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল রোযা পালন করা রাসূল ﷺ ও সাহাবীগণের অন্যতম রীতি ছিল। তাঁরা নফল সিয়াম পালনের বিষয়ে খুবই গুরুত্ব আরোপ করতেন। তাঁরা নিয়মিত ও অনিয়মিত নফল সিয়াম পালন করতেন। রমাযান মাস ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়ে কিছু কিছু রোযা রাখার অভ্যাস থাকা খুবই ভাল এবং বিরাট সওয়াবের কাজ।
আবু উমামা (রাঃ) নবী ﷺকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কোন (ভাল) আমলের কথা বলে দিন। নবী ﷺ বললেন, ‘‘তুমি অবশ্যই রোযা রাখবে, কেননা এর সমতুল্য অন্য কিছু নেই।’’ (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব)
রমাযান মাস ছাড়াও যে দিনগুলোতে রোযা রাখার বিশেষ ফযীলত রয়েছে হাদীসের প্রমাণসহ নিচে তা উল্লেখ করা হল :
আশুরার রোযা :
দশই মুহাররম রোযা রাখার ফযীলত সম্পর্কে রাসূল ﷺ বলেছেন,
أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللهِ الْمُحَرَّمُ
‘‘রমাযানের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা হল মুহাররম মাসের রোযা।’’ (মুসলিম)
নবী ﷺ আরো বলেন,
صِيَامُ يَوْمِ عَاشُرَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يَّكَفِّرَ السَّنَةَ اللَّتِىْ قَبْلَهٗ
‘‘আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, আশুরার রোযা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।’’ (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব)
আশুরার রোযা আগে বা পরে একদিন মিলিয়ে মোট দু’টি রাখা উত্তম।
শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা :
আবু আইয়ূব (রাঃ) এর বর্ণিত হাদীসে রাসূল ﷺ বলেন,
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهٗ سِتًّا مِّنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
‘‘যে ব্যক্তি রমাযান মাসে রোযা রাখল এবং শাওয়াল মাসে আরো ছয়টি রোযা রাখল সে যেন সারা বছর রোযা রাখল।’’ (মুসলিম)
সকলের উচিত এ হাদীসটির উপর আমল করা। একটি নেক আমলের সওয়বের বিনিময়ে সর্বনিম্ন দশটি সওয়াব দেয়া হয়। তাই রমাযানের ত্রিশ রোযা ৩০০ দিন আর শাওয়ালের ৬টি রোযা ৬০ দিনের সমান হয়। এতে ৩৬০ দিন পূর্ণ হয়ে যায়, যা একবছরের বেশি হয়, কারণ আরবি বছর ৩৫৪ দিনে হয়ে থাকে। এ রোযাগুলো পূর্ণ মাসের যেকোন সময়ে রাখা যায়, একসাথে না রেখে ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখা যায়।
প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা :
এ রোযার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এ রোযাকে আইয়্যামে বীজের রোযা বলা হয়। রাসূল ﷺ আবু যর (রাঃ) কে বললেন-
يَا أَبَا ذَرِّ إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصُمْ ثَلَاثَ عَشَرَةَ وَأَرْبَعَ عَشَرَةَ وَخَمْسَ عَشَرَةَ
‘‘হে আবু যর! তুমি যখন প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখবে তখন ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখ।’’ (তিরমিযী)
আবু যর (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখল সে যেন সারা বছরই রোযা রাখল। এর সত্যতাস্বরূপ তিনি আল্লাহর কিতাবের এ আয়াতটি পাঠ করেন :
مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهٗ عَشْرُ أَمْثَالِهَا
‘‘যে ব্যক্তি একটি নেক আমল করবে এর বিনিময়ে সে দশটি নেকী পাবে।’’ (সূরা আনআম- ১৬০)
‘‘একদিন দশদিনের সমান এবং তিনদিন এক মাসের সমান। এভাবে প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখলে পূর্ণ বছর রোযা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়।’’
(ইবনে মাজাহ)
আরাফার দিনের রোযা :
আরাফার দিন তথা যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখের রোযার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তা‘আলা আরাফার দিন মানুষকে জাহান্নাম থেকে সবচেয়ে বেশি মুক্তি দেন এবং ফেরেশতাগণের সামনে গৌরব করে বলেন, আরাফার মাঠে এসকল মানুষ কী চায়? অর্থাৎ যা চায় তাই দান করা হবে।
এ সম্পর্কে নবী ﷺ বলেন-
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّيْ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِيْ قَبْلَهٗ وَالسَّنَةَ الَّتِيْ بَعْدَهٗ
‘‘আমি ধারণা করি যে, আরাফার দিনের রোযা গত বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।’’ (মুসলিম হা: ২৮০৩)
প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা :
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযাকে খুবই গুরুত্ব দিতেন। তিনি বলতেন-
تُعْرَضُ الْاَعْمَالُ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ وَالْخَمِيْسِ فَأُحِبُّ أَنْ يُّعْرَضَ عَمَلِيْ وَأَنَا صَائِمٌ
‘‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমলসমূহ আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়। তাই আমি এটা পছন্দ করি যে, রোযা অবস্থায় আমার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হোক।’’ (তিরমিযী)
আবু উমামা (রাঃ) নবী ﷺকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কোন (ভাল) আমলের কথা বলে দিন। নবী ﷺ বললেন, ‘‘তুমি অবশ্যই রোযা রাখবে, কেননা এর সমতুল্য অন্য কিছু নেই।’’ (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব)
রমাযান মাস ছাড়াও যে দিনগুলোতে রোযা রাখার বিশেষ ফযীলত রয়েছে হাদীসের প্রমাণসহ নিচে তা উল্লেখ করা হল :
আশুরার রোযা :
দশই মুহাররম রোযা রাখার ফযীলত সম্পর্কে রাসূল ﷺ বলেছেন,
أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللهِ الْمُحَرَّمُ
‘‘রমাযানের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা হল মুহাররম মাসের রোযা।’’ (মুসলিম)
নবী ﷺ আরো বলেন,
صِيَامُ يَوْمِ عَاشُرَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يَّكَفِّرَ السَّنَةَ اللَّتِىْ قَبْلَهٗ
‘‘আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, আশুরার রোযা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।’’ (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব)
আশুরার রোযা আগে বা পরে একদিন মিলিয়ে মোট দু’টি রাখা উত্তম।
শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা :
আবু আইয়ূব (রাঃ) এর বর্ণিত হাদীসে রাসূল ﷺ বলেন,
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهٗ سِتًّا مِّنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
‘‘যে ব্যক্তি রমাযান মাসে রোযা রাখল এবং শাওয়াল মাসে আরো ছয়টি রোযা রাখল সে যেন সারা বছর রোযা রাখল।’’ (মুসলিম)
সকলের উচিত এ হাদীসটির উপর আমল করা। একটি নেক আমলের সওয়বের বিনিময়ে সর্বনিম্ন দশটি সওয়াব দেয়া হয়। তাই রমাযানের ত্রিশ রোযা ৩০০ দিন আর শাওয়ালের ৬টি রোযা ৬০ দিনের সমান হয়। এতে ৩৬০ দিন পূর্ণ হয়ে যায়, যা একবছরের বেশি হয়, কারণ আরবি বছর ৩৫৪ দিনে হয়ে থাকে। এ রোযাগুলো পূর্ণ মাসের যেকোন সময়ে রাখা যায়, একসাথে না রেখে ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখা যায়।
প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা :
এ রোযার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এ রোযাকে আইয়্যামে বীজের রোযা বলা হয়। রাসূল ﷺ আবু যর (রাঃ) কে বললেন-
يَا أَبَا ذَرِّ إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصُمْ ثَلَاثَ عَشَرَةَ وَأَرْبَعَ عَشَرَةَ وَخَمْسَ عَشَرَةَ
‘‘হে আবু যর! তুমি যখন প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখবে তখন ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখ।’’ (তিরমিযী)
আবু যর (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখল সে যেন সারা বছরই রোযা রাখল। এর সত্যতাস্বরূপ তিনি আল্লাহর কিতাবের এ আয়াতটি পাঠ করেন :
مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهٗ عَشْرُ أَمْثَالِهَا
‘‘যে ব্যক্তি একটি নেক আমল করবে এর বিনিময়ে সে দশটি নেকী পাবে।’’ (সূরা আনআম- ১৬০)
‘‘একদিন দশদিনের সমান এবং তিনদিন এক মাসের সমান। এভাবে প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখলে পূর্ণ বছর রোযা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়।’’
(ইবনে মাজাহ)
আরাফার দিনের রোযা :
আরাফার দিন তথা যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখের রোযার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তা‘আলা আরাফার দিন মানুষকে জাহান্নাম থেকে সবচেয়ে বেশি মুক্তি দেন এবং ফেরেশতাগণের সামনে গৌরব করে বলেন, আরাফার মাঠে এসকল মানুষ কী চায়? অর্থাৎ যা চায় তাই দান করা হবে।
এ সম্পর্কে নবী ﷺ বলেন-
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّيْ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِيْ قَبْلَهٗ وَالسَّنَةَ الَّتِيْ بَعْدَهٗ
‘‘আমি ধারণা করি যে, আরাফার দিনের রোযা গত বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।’’ (মুসলিম হা: ২৮০৩)
প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা :
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযাকে খুবই গুরুত্ব দিতেন। তিনি বলতেন-
تُعْرَضُ الْاَعْمَالُ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ وَالْخَمِيْسِ فَأُحِبُّ أَنْ يُّعْرَضَ عَمَلِيْ وَأَنَا صَائِمٌ
‘‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমলসমূহ আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়। তাই আমি এটা পছন্দ করি যে, রোযা অবস্থায় আমার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হোক।’’ (তিরমিযী)