১
মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭৭
রাসূলের প্রতি ভালবাসা
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন-
فَوَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهٖ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتّٰى أَكُوْنَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهٖ وَوَلَدِهٖ
‘‘আল্লাহর কসম! তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, তার নিজ সত্ত্বা ও সকল মানুষ হতে অধিক ভালবাসর পাত্র না হব।’’ (বুখারী)
আলী (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ আমাদের কাছে আমাদের ধন-সম্পদ সন্তান-সন্ততি, আমাদের মাতা-পিতা ও পিপাসার সময়ে ঠান্ডা পানি সবকিছু হতে অধিক ভালবাসার পাত্র ছিলেন।
আবু সুফিয়ান (রাঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ﷺ কে তাঁর সাহাবীরা যেভাবে ভালবাসতেন এভাবে আমি অন্যকেউ কাউকে ভালবাসতে দেখিনি।
ত্বাবারাণীর এক রেওয়াতে বর্ণিত আছে যে, আয়েশা (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ এর কাছে হাজির হয়ে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি আমার ভালবাসা এত গভীর যে বাড়িতে গেলেও আপনাকেই স্মরণ করি এবং পুনরায় আপনার কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি ধৈর্যধারণ করতে পারি না। কিন্তু আমি যখন আমার মৃত্যুর কথা স্মরণ করি, তখন হতাশ হয়ে পড়ি। কারণ আপনি তো মৃত্যুর পর নবীদের উচ্চ আসনে আসীন থাকবেন, আর আমি জান্নাতে গেলেও নিম্নস্তরেই থাকব। এখন আমার চিন্তা হল, আপনাকে আমি কীভাবে দেখতে পাব। রাসূল ﷺ লোকটির একথা শুনে কোন জবাব দিলেন না। অবশেষে জিবরাঈল নিচের আয়াতটি নিয়ে হাজির হলেন-
وَمَنْ يَّطِعِ اللهَ وَالرَّسُوْلَ فَأُولٰئِكَ مَعَ الَّذِيْنَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيِّيْنَ وَالصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَحَسُنَ أُولٰئِكَ رَفِيْقًا
‘‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেয়া বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করবে, তারা (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্ত নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও নেককারদের মত লোকদের সঙ্গে থাকবে, আর তারা কতইনা উত্তম সঙ্গি।’’ (সূরা নিসা- ৬৯)
সুতরাং যারা আল্লাহ ও রাসূল ﷺকে মেনে চলবে তারা জান্নাতের নিম্নস্তরে থাকলেও আল্লাহ তা‘আলা নবীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করার সুযোগ করে দেবেন।
জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহর রাসূলের প্রতি মুহাববত বা ভালবাসা রাখা ও তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ করা এবং তাঁর দেখানো হেদায়াতের উপর অটল থাকাই হল দ্বীনের মূল বিষয়। প্রতিযোগীরা এ ব্যাপারেই প্রতিযোগিতা করে থাকেন, সকল ইবাদাতকারীদের দৌড় এদিকেই গিয়ে থামে। ঈমান ও আমলের নূর হল রাসূল ﷺ এর সুন্নাতের অনুসরণ করা। এটা যে হারিয়ে ফেলে সে মৃত ব্যক্তির মত। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ভালবাসা পাওয়ার জন্য রাসূল ﷺ এর অনুসরণ করাকে শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন-
وَمَنْ أَحْيَا سُنَّتِيْ فَقَدْ أَحَبَّنِيْ وَمَنْ أَحَبَّنِيْ كَانَ مَعِيْ فِي الْجَنَّةِ
‘‘যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে জীবিত করল সে যেন আমাকেই ভালবাসল আর যে আমাকে ভালবাসল সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।’’ (তিরমিযী)
ইবনে আতা (রহ:) বলেন, যে লোক প্রত্যেক কাজে রাসূল ﷺ এর সুন্নাতের অনুসরণ করার জন্য নিজেকে অভ্যস্ত করে নেবে আল্লাহ তার অন্তরকে মারিফাতের নূর দ্বারা নুরান্বিত্ব করে দেবেন।
আদেশ-নিষেধ কথা-কাজ ও চরিত্রের দিক দিয়ে রাসূল ﷺ এর অনুসারী হওয়ার চেয়ে সম্মান ও মর্যাদার আর কোন স্তর নেই।
فَوَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهٖ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتّٰى أَكُوْنَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهٖ وَوَلَدِهٖ
‘‘আল্লাহর কসম! তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, তার নিজ সত্ত্বা ও সকল মানুষ হতে অধিক ভালবাসর পাত্র না হব।’’ (বুখারী)
আলী (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ আমাদের কাছে আমাদের ধন-সম্পদ সন্তান-সন্ততি, আমাদের মাতা-পিতা ও পিপাসার সময়ে ঠান্ডা পানি সবকিছু হতে অধিক ভালবাসার পাত্র ছিলেন।
আবু সুফিয়ান (রাঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ﷺ কে তাঁর সাহাবীরা যেভাবে ভালবাসতেন এভাবে আমি অন্যকেউ কাউকে ভালবাসতে দেখিনি।
ত্বাবারাণীর এক রেওয়াতে বর্ণিত আছে যে, আয়েশা (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ এর কাছে হাজির হয়ে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি আমার ভালবাসা এত গভীর যে বাড়িতে গেলেও আপনাকেই স্মরণ করি এবং পুনরায় আপনার কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি ধৈর্যধারণ করতে পারি না। কিন্তু আমি যখন আমার মৃত্যুর কথা স্মরণ করি, তখন হতাশ হয়ে পড়ি। কারণ আপনি তো মৃত্যুর পর নবীদের উচ্চ আসনে আসীন থাকবেন, আর আমি জান্নাতে গেলেও নিম্নস্তরেই থাকব। এখন আমার চিন্তা হল, আপনাকে আমি কীভাবে দেখতে পাব। রাসূল ﷺ লোকটির একথা শুনে কোন জবাব দিলেন না। অবশেষে জিবরাঈল নিচের আয়াতটি নিয়ে হাজির হলেন-
وَمَنْ يَّطِعِ اللهَ وَالرَّسُوْلَ فَأُولٰئِكَ مَعَ الَّذِيْنَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيِّيْنَ وَالصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَحَسُنَ أُولٰئِكَ رَفِيْقًا
‘‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেয়া বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করবে, তারা (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্ত নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও নেককারদের মত লোকদের সঙ্গে থাকবে, আর তারা কতইনা উত্তম সঙ্গি।’’ (সূরা নিসা- ৬৯)
সুতরাং যারা আল্লাহ ও রাসূল ﷺকে মেনে চলবে তারা জান্নাতের নিম্নস্তরে থাকলেও আল্লাহ তা‘আলা নবীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করার সুযোগ করে দেবেন।
জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহর রাসূলের প্রতি মুহাববত বা ভালবাসা রাখা ও তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ করা এবং তাঁর দেখানো হেদায়াতের উপর অটল থাকাই হল দ্বীনের মূল বিষয়। প্রতিযোগীরা এ ব্যাপারেই প্রতিযোগিতা করে থাকেন, সকল ইবাদাতকারীদের দৌড় এদিকেই গিয়ে থামে। ঈমান ও আমলের নূর হল রাসূল ﷺ এর সুন্নাতের অনুসরণ করা। এটা যে হারিয়ে ফেলে সে মৃত ব্যক্তির মত। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ভালবাসা পাওয়ার জন্য রাসূল ﷺ এর অনুসরণ করাকে শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন-
وَمَنْ أَحْيَا سُنَّتِيْ فَقَدْ أَحَبَّنِيْ وَمَنْ أَحَبَّنِيْ كَانَ مَعِيْ فِي الْجَنَّةِ
‘‘যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে জীবিত করল সে যেন আমাকেই ভালবাসল আর যে আমাকে ভালবাসল সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।’’ (তিরমিযী)
ইবনে আতা (রহ:) বলেন, যে লোক প্রত্যেক কাজে রাসূল ﷺ এর সুন্নাতের অনুসরণ করার জন্য নিজেকে অভ্যস্ত করে নেবে আল্লাহ তার অন্তরকে মারিফাতের নূর দ্বারা নুরান্বিত্ব করে দেবেন।
আদেশ-নিষেধ কথা-কাজ ও চরিত্রের দিক দিয়ে রাসূল ﷺ এর অনুসারী হওয়ার চেয়ে সম্মান ও মর্যাদার আর কোন স্তর নেই।