১
মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪১
সালাতুল ইস্তেখারা
বিপদে বা সমস্যায় নামায পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া মুমিনের দায়িত্ব। আল্লাহ বলেছেন, ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রর্থনা কর। রাসূল ﷺ এর নিয়ম ছিল- কোন বিপদ, দুশ্চিন্তা বা সমস্যা দেখা দিলে তিনি নামায আদায় করতেন। এজন্য বিপদাপদে অধৈর্য না হয়ে সাধ্যমত নফল নামায আদায় করা উচিত। তাছাড়া কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন হলে ‘সালাতুল ইস্তেখারা’ আদায় করা কর্তব্য।
ইস্তেখারা শব্দের অর্থ হল কল্যাণ কামনা করা। বান্দার জ্ঞান সীমিত, কোন্ বিষয়ে কল্যাণ নিহিত আছে বান্দা তা আগাম জানে না, তাই কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ আরম্ভ করার পূর্বে বা এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিন্ধান্ত নেয়ার আগে আল্লাহর পক্ষ থেকে এর সিন্ধান্ত কামনা করাকে ইস্তেখারা বলে।
ইস্তেখারার নিয়ম :
প্রথমে সুন্দরভাবে নিয়মানুযীয় ওযূ করবে। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে ইস্তেখারার নিয়তে ২ দু’রাকাত নামায পড়বে।
এ নামাযের বিশেষ কোন সূরা বা কিরাত নেই। ফিকহের কিতাবে ১ম রাকাতে সূরা কাফিরুন এবং ২য় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়ার কথা উল্লেখ আছে।
কেবল নিষিদ্ধ সময় (সূর্যদয়, সূর্যাস্ত, ঠিক দুপুর) ছাড়া যে কোন সময়ে এ নামায পড়া যাবে। তবে নিষিদ্ধ সময় পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকলে যদি ইস্তেখারার বিষয়ের সময় চলে যায়, তবে নিষিদ্ধ সময়েও ইস্তেখারার নামায পড়া যাবে। নামাযের সালাম ফিরানোর পর একাগ্রচিত্তে ইস্তেখারার দো‘আটি অর্থ বুঝে পড়বে।
দো‘আ পড়ার পর যে বিষয়ে ইস্তেখারা করছে সে বিষয়ে ভাবতে থাকবে, যে দিকে মন সায় দেয় সেটাই সিন্ধান্ত নেবে, আর যদি মন কোন দিকে সায় না দেয় তবে বার বার এভাবে ইস্তেখারা করতে থাকবে।
ইস্তেখারা করার পর এ বিষয়টি নিয়ে হিতাকাঙ্ক্ষী, জ্ঞানী-গুণী লোকদের সাথে পরার্মশ করবে, তারপর অধিকাংশের মতামত অনুযায়ী চুড়ান্ত সিন্ধান্ত নেবে।
জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন সেভাবে সকল কাজে ইস্তিখারা করার নিয়ম ও দো‘আ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ কোন কাজ করতে ইচ্ছা করবে তখন সে যেন দু’রাকাত নামায আদায় করে এবং নিচের দো‘আ পড়ে।’’
ইস্তেখারা দো‘আ :
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيْمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ - اَللّٰهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الْاَمْرَ خَيْرٌ لِّيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ فَاقْدُرْهُ لِيْ وَيَسِّرْهُ لِىْ ثُمَّ بَارِكْ لِيْ فِيْهِ اَللّٰهُمَّ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الْاَمْرَ شَرُّ لِّيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ فَاصْرِفْنِيْ عَنْهُ وَاصْرِفْهُ عَنِّيْ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ اَرْضِنِيْ بِهٖ
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বি‘ইলমিকা ওয়াআসতাক্বদিরুকা বিকুদ্রাতিকা ওয়া আস্আলুকা মিন ফাযলিকাল আযীম। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা আক্বদিরু ওয়া তা‘লামু ওয়ালা আ‘লামু ওয়াআনতা আল্লা-মুল্গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইনকুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা খাইরুল্লী ফীদ্বীনী ওয়া মা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী ফাক্বদুরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী ছুম্মা বা-রিকলী ফীহ। আল্লা-হুম্মা ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল্লী ফীদ্বীনী ওয়ামা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী ফাস্রিফ্নী ‘আনহু ওয়াস্রিফ্হু ‘আন্নী ওয়াক্বদুরলিয়াল খাইরা হাইছু কা-না, ছুম্মা আরযিনী বিহ।
দো‘আতে আন্না হা-যাল আমরা এর স্থলে ইস্তেখারার বিষয়ের নাম বসবে।
‘‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমারই জ্ঞান ও কুদরতের সাহায্যে এই বিষয়ের ভাল দিক জ্ঞাত হওয়ার প্রার্থনা করছি এবং আমি তোমার নিকট অনুগ্রহ কামনা করছি। তুমি সক্ষম, আমি সক্ষম নই। তুমি জান, আমি জানি না। তুমি অদৃশ্যের খবর জান। হে আল্লাহ! তুমি যদি মনে কর এ বিষয়টি আমার দ্বীন, আমার জীবনধারণ ও পরিণামের ব্যাপারে আমার জন্য ভাল হবে, তাহলে তুমি আমার জন্য তা নির্ধারণ কর। আর যদি মনে কর বিষয়টি আমার জন্য আমার দ্বীন, আমার জীবনধারণ ও আমার পরিণামের ব্যাপারে অকল্যাণকর হবে, তাহলে তুমি আমার হতে তা ফিরিয়ে রাখ এবং আমাকেও তা হতে ফিরিয়ে রাখ। আর আমার জন্য নির্ধারণ কর কল্যাণ তা যেখানেই হোক এবং আমাকে তাতে সন্তুষ্ট রাখ।’’ (বুখারী, মেশকাত)
ইস্তেখারা শব্দের অর্থ হল কল্যাণ কামনা করা। বান্দার জ্ঞান সীমিত, কোন্ বিষয়ে কল্যাণ নিহিত আছে বান্দা তা আগাম জানে না, তাই কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ আরম্ভ করার পূর্বে বা এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিন্ধান্ত নেয়ার আগে আল্লাহর পক্ষ থেকে এর সিন্ধান্ত কামনা করাকে ইস্তেখারা বলে।
ইস্তেখারার নিয়ম :
প্রথমে সুন্দরভাবে নিয়মানুযীয় ওযূ করবে। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে ইস্তেখারার নিয়তে ২ দু’রাকাত নামায পড়বে।
এ নামাযের বিশেষ কোন সূরা বা কিরাত নেই। ফিকহের কিতাবে ১ম রাকাতে সূরা কাফিরুন এবং ২য় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়ার কথা উল্লেখ আছে।
কেবল নিষিদ্ধ সময় (সূর্যদয়, সূর্যাস্ত, ঠিক দুপুর) ছাড়া যে কোন সময়ে এ নামায পড়া যাবে। তবে নিষিদ্ধ সময় পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকলে যদি ইস্তেখারার বিষয়ের সময় চলে যায়, তবে নিষিদ্ধ সময়েও ইস্তেখারার নামায পড়া যাবে। নামাযের সালাম ফিরানোর পর একাগ্রচিত্তে ইস্তেখারার দো‘আটি অর্থ বুঝে পড়বে।
দো‘আ পড়ার পর যে বিষয়ে ইস্তেখারা করছে সে বিষয়ে ভাবতে থাকবে, যে দিকে মন সায় দেয় সেটাই সিন্ধান্ত নেবে, আর যদি মন কোন দিকে সায় না দেয় তবে বার বার এভাবে ইস্তেখারা করতে থাকবে।
ইস্তেখারা করার পর এ বিষয়টি নিয়ে হিতাকাঙ্ক্ষী, জ্ঞানী-গুণী লোকদের সাথে পরার্মশ করবে, তারপর অধিকাংশের মতামত অনুযায়ী চুড়ান্ত সিন্ধান্ত নেবে।
জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন সেভাবে সকল কাজে ইস্তিখারা করার নিয়ম ও দো‘আ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, ‘‘যখন তোমাদের কেউ কোন কাজ করতে ইচ্ছা করবে তখন সে যেন দু’রাকাত নামায আদায় করে এবং নিচের দো‘আ পড়ে।’’
ইস্তেখারা দো‘আ :
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيْمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ - اَللّٰهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الْاَمْرَ خَيْرٌ لِّيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ فَاقْدُرْهُ لِيْ وَيَسِّرْهُ لِىْ ثُمَّ بَارِكْ لِيْ فِيْهِ اَللّٰهُمَّ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الْاَمْرَ شَرُّ لِّيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ فَاصْرِفْنِيْ عَنْهُ وَاصْرِفْهُ عَنِّيْ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ اَرْضِنِيْ بِهٖ
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বি‘ইলমিকা ওয়াআসতাক্বদিরুকা বিকুদ্রাতিকা ওয়া আস্আলুকা মিন ফাযলিকাল আযীম। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা আক্বদিরু ওয়া তা‘লামু ওয়ালা আ‘লামু ওয়াআনতা আল্লা-মুল্গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইনকুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা খাইরুল্লী ফীদ্বীনী ওয়া মা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী ফাক্বদুরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী ছুম্মা বা-রিকলী ফীহ। আল্লা-হুম্মা ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল্লী ফীদ্বীনী ওয়ামা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী ফাস্রিফ্নী ‘আনহু ওয়াস্রিফ্হু ‘আন্নী ওয়াক্বদুরলিয়াল খাইরা হাইছু কা-না, ছুম্মা আরযিনী বিহ।
দো‘আতে আন্না হা-যাল আমরা এর স্থলে ইস্তেখারার বিষয়ের নাম বসবে।
‘‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমারই জ্ঞান ও কুদরতের সাহায্যে এই বিষয়ের ভাল দিক জ্ঞাত হওয়ার প্রার্থনা করছি এবং আমি তোমার নিকট অনুগ্রহ কামনা করছি। তুমি সক্ষম, আমি সক্ষম নই। তুমি জান, আমি জানি না। তুমি অদৃশ্যের খবর জান। হে আল্লাহ! তুমি যদি মনে কর এ বিষয়টি আমার দ্বীন, আমার জীবনধারণ ও পরিণামের ব্যাপারে আমার জন্য ভাল হবে, তাহলে তুমি আমার জন্য তা নির্ধারণ কর। আর যদি মনে কর বিষয়টি আমার জন্য আমার দ্বীন, আমার জীবনধারণ ও আমার পরিণামের ব্যাপারে অকল্যাণকর হবে, তাহলে তুমি আমার হতে তা ফিরিয়ে রাখ এবং আমাকেও তা হতে ফিরিয়ে রাখ। আর আমার জন্য নির্ধারণ কর কল্যাণ তা যেখানেই হোক এবং আমাকে তাতে সন্তুষ্ট রাখ।’’ (বুখারী, মেশকাত)