১
মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫১
৪. মৌলিক আমলগুলোর একটিও বাদ না দেয়া
যে কাজগুলোকে আল্লাহ তা‘আলা মৌলিক বলে জানিয়ে দিয়েছেন তার একটিও বাদ দিলে বা বাদ গেলে আমলে ত্রুটি রয়ে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
أَفَتُؤْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُوْنَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَّفْعَلُ ذٰلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّوْنَ إِلٰى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ
‘‘তবে কি তোমরা গ্রন্থের (কুরআনের) কিছু অংশ বিশ্বাস কর আর কিছু অংশ অস্বীকার কর? অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করবে তাদের পার্থিব জীবনে দুর্গতি ব্যতীত কিছুই নেই এবং কিয়ামত দিবসে তারা কঠোর শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। আর তোমরা যা করছ আল্লাহ সে বিষয়ে অমনোযোগী নন।’’ (সূরা বাকারা- ৮৫)
কেউ কোন কিছু মনেপ্রাণে বিশ্বাস করলে তা তার কর্মে অবশ্যই প্রকাশ পাবে। অর্থাৎ কোন কিছু বিশ্বাস করা এবং সে বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করা বিষয় দু’টি একটি অপরটির সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। তাই মহান আল্লাহ এখানে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কুরআনের কিছু অনুসরণ করলে আর কিছু অনুসরণ না করলে মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের জীবন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যাবে।
জীবনের কিছু কিছু ব্যাপারে আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করা আর কিছু কিছু ব্যাপারে অন্যকিছুর অনুসরণ করা, এটা কোন প্রকৃত মুমিনের কাজ হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوْا وُجُوْهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّيْنَ وَآتَى الْمَالَ عَلٰى حُبِّهٖ ذَوِي الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنَ وَابْنَ السَّبِيْلِ وَالسَّائِلِيْنَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَ اٰتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُوْنَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوْا وَالصَّابِرِيْنَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِيْنَ الْبَأْسِ أُولٰئِكَ الَّذِيْنَ صَدَقُوْا وَأُولٰئِكَهُمُ الْمُتَّقُوْنَ
‘‘(নামাযের সময়) তোমাদের মুখ পশ্চিম দিকে ঘুরানো বা পূর্ব দিকে ঘুরানো এটি কোন কল্যাণের বা সওয়াবের কাজ নয়। বরং পুণ্য তার যে ব্যক্তি আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি ঈমান আনে এবং তাঁরই ভালবাসা অর্জনের জন্য আত্মীয়-স্বজন, এতীম, দরিদ্র, পথিক ও ভিক্ষুকদেরকে এবং দাসত্ব মোচনের জন্য ধন-সম্পদ দান করে। আর নামায প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত প্রদান করে এবং অঙ্গীকার করলে যারা সেই অঙ্গীকার পূর্ণকারী, আর যারা অভাবে ও ক্লেশে এবং যুদ্ধকালে ধৈর্যধারণকারী, তারাই সত্যপরায়ণ এবং তারাই মুত্তাকী।’’ (সূরা বাকারা- ১৭৭)
এখানে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট করে বলেছেন, কেউ যদি মনে করে নামাযের সময় পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ ফিরানো বা রুকু, সিজদা, কিয়াম, কিরাত এসব অনুষ্ঠানগুলোকেই নেকীর কাজ মনে করে তবে তার এ ধারণা সঠিক নয় বরং আয়াতে উল্লেখিত সকল আমলই তাকে সম্পাদন করতে হবে।
জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, মহান আল্লাহ তা‘আলা জিবরাঈল কে নির্দেশ দিলেন অমুক অমুক শহরকে তার অধিবাসীসহ উল্টিয়ে দাও। জিবরাঈল বললেন, হে আমার রব! তাদের মধ্যে তো এমন এক ব্যক্তি আছেন যিনি মুহূর্তের জন্যও আপনার নাফরমানি করেননি। তখন আল্লাহ বললেন, তাকেসহই শহরটি উল্টিয়ে দাও। কারণ তার সম্মুখে পাপাচার হতে দেখে মুহূর্তের জন্যও তার চেহারা মলিন হয়নি। (বায়হাকী)
হাদীসটি থেকে সহজে বুঝা যায়, লোকটি সকল ইবাদাত পালন করেছিল কিন্তু তার সামনে পাপাচার হতে দেখেও তার চেহারা মলিন হতো না, অর্থাৎ এসব খারাপ কাজ দেখে সে দুঃখ প্রকাশ করত না এবং এর প্রতিকারেরও কোন চিন্তা করত না। এজন্য তার অন্যান্য সকল আমল ব্যর্থ করে দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা তাকে শাস্তি দিলেন।
হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, ঐ সত্ত্বার কসম! যার হাতে আমার জীবন তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে, নতুবা অচিরেই আল্লাহ তোমাদের উপর শাস্তি পাঠাবেন। অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে দো‘আ করবে কিন্তু দো‘আ কবুল করা হবে না। (তিরমিযী, আহমাদ)
أَفَتُؤْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُوْنَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَّفْعَلُ ذٰلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّوْنَ إِلٰى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ
‘‘তবে কি তোমরা গ্রন্থের (কুরআনের) কিছু অংশ বিশ্বাস কর আর কিছু অংশ অস্বীকার কর? অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করবে তাদের পার্থিব জীবনে দুর্গতি ব্যতীত কিছুই নেই এবং কিয়ামত দিবসে তারা কঠোর শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। আর তোমরা যা করছ আল্লাহ সে বিষয়ে অমনোযোগী নন।’’ (সূরা বাকারা- ৮৫)
কেউ কোন কিছু মনেপ্রাণে বিশ্বাস করলে তা তার কর্মে অবশ্যই প্রকাশ পাবে। অর্থাৎ কোন কিছু বিশ্বাস করা এবং সে বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করা বিষয় দু’টি একটি অপরটির সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। তাই মহান আল্লাহ এখানে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কুরআনের কিছু অনুসরণ করলে আর কিছু অনুসরণ না করলে মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের জীবন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যাবে।
জীবনের কিছু কিছু ব্যাপারে আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করা আর কিছু কিছু ব্যাপারে অন্যকিছুর অনুসরণ করা, এটা কোন প্রকৃত মুমিনের কাজ হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوْا وُجُوْهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّيْنَ وَآتَى الْمَالَ عَلٰى حُبِّهٖ ذَوِي الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنَ وَابْنَ السَّبِيْلِ وَالسَّائِلِيْنَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَ اٰتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُوْنَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوْا وَالصَّابِرِيْنَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِيْنَ الْبَأْسِ أُولٰئِكَ الَّذِيْنَ صَدَقُوْا وَأُولٰئِكَهُمُ الْمُتَّقُوْنَ
‘‘(নামাযের সময়) তোমাদের মুখ পশ্চিম দিকে ঘুরানো বা পূর্ব দিকে ঘুরানো এটি কোন কল্যাণের বা সওয়াবের কাজ নয়। বরং পুণ্য তার যে ব্যক্তি আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি ঈমান আনে এবং তাঁরই ভালবাসা অর্জনের জন্য আত্মীয়-স্বজন, এতীম, দরিদ্র, পথিক ও ভিক্ষুকদেরকে এবং দাসত্ব মোচনের জন্য ধন-সম্পদ দান করে। আর নামায প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত প্রদান করে এবং অঙ্গীকার করলে যারা সেই অঙ্গীকার পূর্ণকারী, আর যারা অভাবে ও ক্লেশে এবং যুদ্ধকালে ধৈর্যধারণকারী, তারাই সত্যপরায়ণ এবং তারাই মুত্তাকী।’’ (সূরা বাকারা- ১৭৭)
এখানে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট করে বলেছেন, কেউ যদি মনে করে নামাযের সময় পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ ফিরানো বা রুকু, সিজদা, কিয়াম, কিরাত এসব অনুষ্ঠানগুলোকেই নেকীর কাজ মনে করে তবে তার এ ধারণা সঠিক নয় বরং আয়াতে উল্লেখিত সকল আমলই তাকে সম্পাদন করতে হবে।
জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, মহান আল্লাহ তা‘আলা জিবরাঈল কে নির্দেশ দিলেন অমুক অমুক শহরকে তার অধিবাসীসহ উল্টিয়ে দাও। জিবরাঈল বললেন, হে আমার রব! তাদের মধ্যে তো এমন এক ব্যক্তি আছেন যিনি মুহূর্তের জন্যও আপনার নাফরমানি করেননি। তখন আল্লাহ বললেন, তাকেসহই শহরটি উল্টিয়ে দাও। কারণ তার সম্মুখে পাপাচার হতে দেখে মুহূর্তের জন্যও তার চেহারা মলিন হয়নি। (বায়হাকী)
হাদীসটি থেকে সহজে বুঝা যায়, লোকটি সকল ইবাদাত পালন করেছিল কিন্তু তার সামনে পাপাচার হতে দেখেও তার চেহারা মলিন হতো না, অর্থাৎ এসব খারাপ কাজ দেখে সে দুঃখ প্রকাশ করত না এবং এর প্রতিকারেরও কোন চিন্তা করত না। এজন্য তার অন্যান্য সকল আমল ব্যর্থ করে দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা তাকে শাস্তি দিলেন।
হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, ঐ সত্ত্বার কসম! যার হাতে আমার জীবন তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে, নতুবা অচিরেই আল্লাহ তোমাদের উপর শাস্তি পাঠাবেন। অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে দো‘আ করবে কিন্তু দো‘আ কবুল করা হবে না। (তিরমিযী, আহমাদ)