hadith book logo

মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

তাহাজ্জুদের বিশেষ সানা

মুমিন বান্দা ঘুম থেকে জেগে পবিত্রতা অর্জন করার পর তাহাজ্জুদের নামাযে দাঁড়াবে। রাসূল ﷺ তাহাজ্জুদের নামাযে বিশেষ সানা পড়তেন। তিনি তাহাজ্জুদের নামাযে দাঁড়িয়ে শুরুতেই এমন একটি সানা পড়তেন যার মধ্যে আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর গুণগান, ইসলামী সবধরনের আকীদা, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ এবং তাঁর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করার সর্বোত্তম ভাষা ব্যবহার করেছেন। একজন মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করার ক্ষেত্রে এ সানাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ। তাই তাহাজ্জুদের নামাযের শুরুতে আমরাও এ সানাটি পড়ব।

ইবনে ‘আববাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর নবী ﷺ রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশ্যে যখন দাঁড়াতেন, তখন এ দো‘আ পড়তেন :

اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ ، وَمَنْ فِيْهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ لَكَ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ ، وَمَنْ فِيْهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُوْرُ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَقَوْلُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالنَّبِيُّوْنَ حَقٌّ وَمُحَمَّدٌ ﷺ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اَللّٰهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِيْ مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ

আল্লা-হুম্মা লাকাল হামদু আনতা-ক্বায়্যিমুস-সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি, ওয়ামান ফী-হিন্না, ওয়া-লাকাল হামদু লাকা-মুল্কুস-সামাওয়াতি ওয়াল আরযি ওয়া-মান ফী-হিন্না, ওয়া-লাকাল হামদু, আনতা নূ-রুস-সামাওয়াতি ওয়াল আরযি ওয়ালাকাল হামদু আনতাল হাক্কু ওয়া ওয়া’দুকাল হাক্কু, ওয়ালিক্বা-উকা হাক্কুন, ওয়া ক্বাউলুকা হাক্কুন, ওয়াল-জান্নাতু হাক্কুন, ওয়ান্না-রু হাক্কুন, ওয়ানণাবিয়্যূনা হাক্কুন, ওয়া-মুহাম্মাদুন হাক্কুন, ওয়াস্সা-‘আতু হাক্কুন, আল্লা-হুম্মা লাকা আস্লামতু ওয়াবিকা আমান্তু, ওয়া‘আলাইকা তাওক্কালতু, ওয়া ইলাইকা আনাব্তু ওয়াবিকা খা-সাম্তু ওয়া-ইলাইকা হা-কাম্তু, ফাগ্ফির্লী মা-ক্বাদ্দাম্তু ওয়ামা আখ্খারতু, ওয়ামা আছরারতু ওয়ামা-আ’লানতু, আনতাল মুক্বাদ্দিমু ওয়া আনতা‘ল মুআখ্খিরু, লা-ইলা-হা ইল্লা আনতা।

অর্থ : ‘‘হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনারই জন্য। আপনি আকাশ, পৃথিবী ও এ দু’য়ের মধ্যে বিদ্যমান সবকিছুর নিয়ন্ত্রক এবং আপনারই জন্যই সকল প্রশংসা। আসমান-যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে বিদ্যমান সবকিছুর কর্তৃত্ব আপনারই। আর আপনারই জন্য সকল প্রশংসা। আপনি আসমান ও যমীনের নূর। আপনার জন্যই সকল প্রশংসা। আপনি আসমান ও যমীনের মালিক, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা, আপনি চিরসত্য। আপনার অঙ্গীকার চিরসত্য; আপনার সাক্ষাত সত্য, আপনার বাণী সত্য, জান্নাত সত্য; জাহান্নাম সত্য; নবীগণ সত্য; মুহাম্মাদ ﷺ সত্য, কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আপনার কাছেই আমি আত্মসমর্পণ করলাম; আপনার প্রতি ঈমান আনলাম; আর আপনার উপরই ভরসা করলাম, আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করলাম, আপনার সন্তুষ্টির জন্যই শত্রুতা করি, আপনাকেই বিচারক মানি। সুতরাং আপনি আমার পূর্বের ও পরের, গোপন ও প্রকাশ্য অপরাধসমূহ ক্ষমা করুন। আপনিই অগ্রগামী এবং পশ্চাদগামী। আপনি ছাড়া (প্রকৃত সত্য) কোন ইলাহ বা উপাস্য নেই। (বুখারী, হা: ১১২০)

আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল ﷺ যখন তাহাজ্জুদের নামাযে দাঁড়াতেন তখন কী পড়ে নামায আরম্ভ করতেন? আয়েশা (রাঃ) উত্তরে বললেন, তিনি নিচের দো‘আ পড়তেন :

اَللّٰهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيْلَ وَمِيْكَائِيْلَ وَإِسْرَافِيْلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْاَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوْا فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ اِهْدِنِىْ لِمَا اخْتُلِفَ فِيْهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِىْ مَنْ تَشَاءُ إِلٰى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيْمٍ

আল্লা-হুম্মা রববা জিবরা-ঈল ও মীকা-ঈল ওয়া ইসরা-ফীল, ফা-ত্বিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ‘আ-লিমাল গাইবি ওয়াশ্শাহা-দাতি, আনতা তাহকুমু বাইনা ‘ইবা-দিকা ফীমা-কা-নূ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন। ইহদিনী লিমাখতুলিফা ফীহি মিনালহাক্কি বিইজনিকা ইন্নাকা তাহদী মানতাশা-উ ইলা সিরা-ত্বিম মুসতাক্বীম।

অর্থ : ‘‘হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য-অদৃশ্য সকল জ্ঞানের অধিকারী, আপনি আপনার বান্দাদের মাঝে মীমাংসা করে দেবেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে। অতএব মতভেদপূর্ণ বিষয়ে আমাকে সঠিক পথের সন্ধান দিন। আপনি যাকে চান তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।’’ (মুসলিম হা: ১৮৪৭)