hadith book logo

মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৯

রাসূলের চারিত্রিক গুণাবলী

উলামায়ে কেরাম হাদীস থেকে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ﷺ এর যে সকল চারিত্রিক বৈশিষ্ট একত্র করেছেন তার একটি অপূর্ব সমাহার নিচে উপস্থাপন করা হল :

রাসূল ﷺ ছিলেন অধিক ধৈর্যশীল। কোন ব্যতিক্রম ঘটলে বা ক্ষতি হয়ে গেলে মাথা গরম করতেন না। তিনি ছিলেন খুবই সাহসী ও বীর। আল্লাহ ছাড়া কাউকে তিনি ভয় করতেন না। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী। কোন ব্যাপারে তিনি পক্ষপাতিত্ব করতেন না। আপন-পর, ধনী-গরীব সবার সাথে তিনি সমান ব্যবহার করতেন। তিনি ছিলেন ক্ষমাশীল, কেউ অন্যায় করলেও ক্ষমা করে দিতেন। মহিলাদের মধ্যে মুহরিমাত, নিজ দাসী ও স্ত্রীদের ছাড়া অন্য কোন মহিলার হাত স্পর্শ করেননি। তিনি নিজের জুতা নিজেই সেলাই করতেন। কাপড়ে তালি লাগাতেন। ঘরে থাকলে স্ত্রীদের সাথে কাজে শরীক হতেন, গোশত কাটতেন। নামাযের সময় উপস্থিত হলে মসজিদে চলে যেতেন। তিনি বড়ই লজ্জাশীল ছিলেন, কারও চোখ বরাবর চেয়ে থাকতেন না। আযাদ বা দাস সকলের দাওয়াত তিনি কবুল করতেন। সামান্য গোশত বা এক ঢোক দুধও কেউ হাদিয়া দিলে তিনি তা স্বাদরে গ্রহণ করতেন।

তিনি যাকাতের মাল খেতেন না। বান্দি বা মিসকিনের দাওয়াতও তিনি গ্রহণ করতেন, অহংকার করে বাদ দিতেন না। নিজের কোন স্বার্থের জন্য কারও উপর রাগ করতেন না। তবে দ্বীনের ব্যাপারে কেউ আঘাত হানলে রাগ করতেন। হক্ককে সর্বদা বাস্তবায়িত করতেন, যদিও এর ক্ষতি নিজের বা সাহাবীদের দিকে ফিরে আসে। তিনি কাউকে দিয়ে কোন সাহায্য চাইতেন না। সামনে যা উপস্থিত পেতেন তাই খেতেন। কোন খাবার ফেরত দিতেন না। হালাল কোন জিনিস পরিত্যাগ করতেন না। তিনি হেলান দিয়ে খেতেন না এবং টেবিলের উপরে রেখেও খেতেন না। তিনি আহার করে পায়ের নিচে হাত মুছতেন। মৃত্যু পযর্ন্ত একাধারে তিন দিন পেটভরে আহার করেননি। এটা দারিদ্র্যতার কারণে নয় বরং নফসকে দমন রেখে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য।

বিবাহ অনুষ্ঠানে দাওয়াত আসলে তিনি যেতেন। কেউ মারা গেলে জানাযায় শরীক হতেন। কোন প্রহরী ছাড়াই দুশমনের মধ্যে একা চলাফেরা করতেন, কারণ স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা তার হেফাযতের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নরম স্বভাবের ছিলেন, তাঁর মধ্যে কোন অহংকার ছিল না। বাহ্যিক দিক থেকে তিনি খুবই সুন্দর ছিলেন। দুনিয়ার কোন ব্যাপারে তাকে কেউ ভয় দেখাতে পারত না।

তিনি সুগন্ধি ভালবাসতেন এবং দুর্গন্ধযুক্ত জিনিসকে অপছন্দ করতেন। মিসকিনদের সঙ্গে খাবার খেতেন, সম্মানিত লোকদেরকে তিনি সম্মান করতেন। মর্যাদাবান লোকদের সাথেও তিনি বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন এবং তাদের সাথে সদাচারণ করতেন। সকল আত্মীয়কে তিনি সমানভাবে দেখতেন ও তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতেন। কারও উপর কঠোরতা করতেন না, কেউ কোন দোষ করে ওজর পেশ করলে তিনি ক্ষমা করে দিতেন। কোন কোন সময় সত্য কথা দ্বারা কৌতুক করতেন। জায়েয কোন খেলা হলে তা অপছন্দ করতেন না। তাঁর দুধবিশিষ্ট উটনী ও বকরী ছিল, এগুলোর দুধ পরিবারের সবাই মিলে খেতেন। তাঁর দাস-দাসী ছিল, কিন্তু খাওয়া পরায় তাদের সাথে সমতা বজায় রাখতেন। তিনি যা খেতেন ও পরতেন দাস-দাসীদেরকেও তাই দিতেন। তাদেরকে কাজের জন্য কোন সময় নির্ধারণ করতেন না। তবে আল্লাহর ইবাদাতের জন্য বা নিজের বিশেষ প্রয়োজনে সময় নির্ধারণ করতেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের বাগানে যাতায়াত করতেন। তিনি কোন মিসকিনকে তার গরীবি বা দুর্দশার কারণে হেয় প্রতিপন্ন করতেন না। আবার কোন বাদশাকে তার বাদশাহীর কারণে ভয়ও করতেন না। সকলকে সমানভাবে আল্লাহর দিকে ডাকতেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মাঝে সকল উত্তম গুণাবলী একত্র করে দিয়েছেন। অথচ তিনি নিজে লেখাপড়া জানতেন না। জন্মগ্রহণ করেছেন এতীম অবস্থায়, বাল্যকাল কাটিয়েছেন ছাগল চরিয়ে।