hadith book logo

মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৪

দাওয়াতের আমল

নিজের জীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নিজের আশপাশে অবস্থানরত মানুষদের জীবনেও আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা মুমিনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এজন্য ‘আল-আমরু বিল মারূফ, ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার’ অর্থাৎ ‘সৎ কাজের নির্দেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা’ প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। ইকামতে দ্বীন বা দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা বা ‘আদ-দাওয়াতু ইলাললাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর দিকে আহবান করা; এ দায়িত্ব কখনো ফরজ আবার কখনো নফল। তবে এর ফযীলত ও সওয়াব অপরিসীম। কুরআন-হাদীসে বার বার এ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং এর গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে।

মুমিন বান্দা প্রতিদিন কিছু মানুষকে ভাল কাজের দিকে আহবান করার জন্য নিয়মিত রুটিন করে নেবে। এছাড়া সুযোগ পেলেই মানুষকে নম্রতা ও বিনয়ের সাথে ভাল কাজের প্রতি উৎসাহ দেবে এবং খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করবে।

রাসূল ﷺ বলেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোন অন্যায় কাজ হতে দেখে তখন সে যেন স্বহস্তে তা প্রতিহত করে। যদি সে এতে সক্ষম না হয় তবে সে যেন মুখ দ্বারা যেন তার প্রতিবাদ করে। আর যদি সে এটাও না করতে পারে, তবে সে যেন অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করে। আর এটাই হল ইমানের দুর্বলতম স্তর।’’ (মুসলিম, মেশকাত হা: ৫১৩৭)

নবী ﷺ আরো বলেছেন-

بَلِّغُوْا عَنِّىْ وَلَوْ اٰيَةً

‘‘আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও তা অন্যের নিকট পৌঁছে দাও।’’ (বুখারী, মেশকাত, পৃ: ৩২)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন-

وَلْتَكُنْ مِّنْكُمْ أُمَّةٌ يَّدْعُوْنَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُوْلٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ

‘‘তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা আবশ্যক যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে ডাকবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করবে। যারা এ কাজ করবে তারা-ই সাফলকাম হবে।’’ (সূরা আলে ইমরান- ১০৪)

আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّنْ دَعَا إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِيْ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ

‘‘ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে? যে আল্লাহর দিকে মানুষকে দাওয়াত দেয় এবং নিজেও নেক আমল করে। আর সে বলে, আমি মুসলমানদের মধ্যে একজন।’’ (সূরা হামীম সিজদা- ৩৩)

পরকালে মুক্তির জন্য কেবল নিজের কর্ম সংশোধিত হওয়াই যথেষ্ট নয়। অপরের কল্যাণের চিন্তা করাও জরুরি। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের কুকর্ম থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখা নিজের মুক্তির পথ বন্ধ করার নামান্তর। যদিও নিজে পুরোপুরি সৎকর্মপরায়ণ হয়। এ কারণেই কুরআন ও হাদীসে প্রত্যেক মুসলমানের প্রতি সাধ্যমত সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করাটা ফরজ করে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সাধারণ মুসলমান এমনকি অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি পর্যন্তও উদাসীন। তারা নিজেদের আমলকেই যথেষ্ট মনে করে বসে আছে; সন্তান-সন্ততি কী করছে, সেদিকে তাদের ভ্রুক্ষেপও নেই। (তাফসীরে মা‘রেফুল কুরআন- ১৪৭৫ পৃঃ)

অতএব ঈমানদার ব্যক্তিবর্গ ও নায়েবে রাসূলদের উপর অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ কাজে আত্মনিয়োগ করা এবং পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আল্লাহর বার্তা তাঁর বান্দাদের নিকট পৌঁছে দেয়া।