১
মুমিনের আমল ও চরিত্র যেমন হওয়া উচিত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৮
২. আমলের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা
প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য হচ্ছে আমলের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। রাসূল ﷺবলেছেন-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ " إِنَّ الدِّيْنَ يُسْرٌ، وَلَنْ يُشَادَّ الدِّيْنَ أحَدٌ إِلَّا غَلَبَهٗ، فَسَدِّدُوْا وَقَارِبُوْا وَأَبْشِرُوْا، وَاسْتَعِيْنُوْا بِالْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ وَشَىْءٍ مِّنَ الدُّلْجَةِ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেন, ‘‘দ্বীন খুব সহজ, কেউ দ্বীনের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করলে সে অবশ্যই পরাজিত হবে। সর্বদা মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর ও তার নিকটে থাক এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। আর সকাল-সন্ধ্যা ও শেষ রাতের আমল দ্বারা স্বীয় কাজে সাহায্য চাও।’’
(বুখারী হা: ৩৯)
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَدَخَلَ عَلَيْهَا وَعِنْدَهَا امْرَأَةٌ فَقَالَ : مَنْ هٰذِهٖ؟ قَالَتْ : فُلَانَةُ . تَذْكُرُ مِنْ صَلَاتِهَا . قَالَ مَهْ، عَلَيْكُمْ بِمَا تُطِيْقُوْنَ، فَوَاللهِ لَا يَمَلُّ اللهُ حَتّٰى تَمَلُّوْا . وَكَانَ أَحَبُّ الدِّيْنِ إِلَيْهِ مَا دَاوَمَ عَلَيْهِ صَاحِبُهٗ .
আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর হুজরায় আসলে এক মহিলাকে দেখতে পেলেন। তিনি বললেন এ মহিলা কে? আয়েশা (রাঃ) বললেন, ইনি অমুক মহিলা (যার নাম ‘খাওলা’)। আয়েশা (রাঃ) তার নামাযের কথাও উল্লেখ করলেন। তখন নবী ﷺ বললেন, থাম! তোমরা ঐ আমলই করতে থাক যা তোমাদের সামর্থ্যের মধ্যে হয়। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ কখনো ক্লান্ত হন না (পারিশ্রমিক দিতে) যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা ক্লান্ত না হয়ে যাও। আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় আমল তাই যা কোন ব্যক্তি সর্বদা করে থাকে। (বুখারী হা: ৪৩)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ : إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ يُصَلِّيْ فَلْيَرْقُدْ حَتّٰى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ لَا يَدْرِيْ لَعَلَّهٗ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبَّ نَفْسَهٗ
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছে
ন, ‘‘তোমাদের কেউ যদি নামাযে ঝিমাতে থাকে, তখন সে যেন শুয়ে পড়ে, যাতে তার নিদ্রার ভাব কেটে যায়। কারণ নামায অবস্থায় কেউ যদি ঝিমাতে থাকে তখন সে হয়ত ক্ষমাপার্থনা করার ইচ্ছা করবে অথচ নিজের জন্য বদদো‘আ করে ফেলবে।’’
(বুখারী হা: ২১২)
নবী ﷺ সালমান ও আবু দারদা (রাঃ) এর মাধে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে দিলেন। এক সময় সালমান (রাঃ) আবু দারদার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গেলেন এবং আবু দারদার মাকে খুব ময়লা কাপড় পরিহিতা দেখতে পেলেন। তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন, আপনার কি হয়েছে? তিনি বললেন, আপনার ভাই আবু দারদার দুনিয়ার সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। ইতোমধ্যে আবু দারদা (রাঃ) এসে হাজির হলেন। সালমানের জন্য তিনি খাবার তৈরি করে তাঁকে বললেন, আমি তো রোযা রেখেছি, আপনি খেয়ে নিন। সালমান (রাঃ) বললেন, আপনি না খেলে আমি খাব না। সুতরাং তিনি তাঁর সঙ্গে খেলেন। রাত হলে আবু দারদা নামাযে দাঁড়ালে সালমান তাকে বললেন, শুয়ে পড়ুন। তিনি তখন শুয়ে পড়লেন। পরে আবার নামাযে দাঁড়ালে এবারও সালমান বললেন, শুয়ে পড়ুন। পরে শেষ রাতের দিকে সালমান তাঁকে বললেন, এখন উঠে পড়ুন। অতপর দু’জনেই নামায পড়লেন। তারপর সালমান তাঁকে বললেন, আপনার উপর আপনার প্রতিপালকের হক আছে, আপনার নিজের আত্মার হক আছে এবং আপনার পরিবার-পরিজনেরও হক আছে। তাই প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য দান করুন। এরপর আবু দারদা নবী ﷺ-এর নিকট এসে এসব কথা বললে নবী ﷺ বললেন সালমান ঠিকই বলেছে। (বুখারী হা: ১৯৬৮)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ الله عَنْهُ يَقُولُ : جَاءَ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ إِلٰى بُيُوْتِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَسْأَلُوْنَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَلَمَّا أُخْبِرُوْا كَأَنَّهُمْ تَقَالُّوْهَا فَقَالُوْا : وَأَيْنَ نَحْنُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ ؟ قَدْ غُفِرَ لَهٗ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهٖ وَمَا تَأَخَّرَ . قَالَ أَحَدُهُمْ : أَمَّا أَنَا فَإِنِّيْ أُصَلِّي اللَّيْلَ أَبَدًا . وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَصُوْمُ الدَّهْرَ وَلَا أُفْطِرُ . وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلَا أَتَزَوَّجُ أَبَدًا . فَجَاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَقَالَ : " أَنْتُمُ الَّذِيْنَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا؟ أَمَا وَاللهِ إِنِّي لَاَخْشَاكُمْ للهِ وَأَتْقَاكُمْ لَهٗ، لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ، وَأُصَلِّيْ وَأَرْقُدُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِيْ فَلَيْسَ مِنِّيْ " .
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন, কোন একসময় তিনটি দল রাসূলুল্লাহ ﷺ এর স্ত্রীগণের কাছে তাঁর ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য আসেন। নবী ﷺ এর ইবাদাত সম্পর্কে খবর দেয়া হলে তারা যেন তার পরিমাণ খুব কম মনে করলেন এবং বললেন, আমরা নবী ﷺ- এর সমকক্ষ হই কী করে? যাঁর আগের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।
অতঃপর তাদের একজন বললেন, আমি আজীবন রাতভর নামায পড়ব।
দ্বিতীয় জন বললেন, আমি সারাবছর রোযা রাখব, কখনো বিরতি দেব না। তৃতীয় জন বললেন, আমি সর্বদা নারী বিবর্জিত থাকব, কখনো বিয়ে করব না।
এসময় রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা কি সেসব ব্যক্তি যারা এমন এমন কথা বলেছ? সাবধান, শুনে রাখো! আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহর প্রতি তোমাদের চেয়ে বেশি অনুগত এবং তাঁকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি। তা সত্ত্বেও আমি রোযা রাখি আবার বিরতিও দেই। রাত্রে নামায পড়ি আবার নিদ্রাও যাই এবং মহিলাদেরকে বিয়েও করি। সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি অনীহা প্রকাশ করবে, তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারী হা: ৫০৬৩)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ " إِنَّ الدِّيْنَ يُسْرٌ، وَلَنْ يُشَادَّ الدِّيْنَ أحَدٌ إِلَّا غَلَبَهٗ، فَسَدِّدُوْا وَقَارِبُوْا وَأَبْشِرُوْا، وَاسْتَعِيْنُوْا بِالْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ وَشَىْءٍ مِّنَ الدُّلْجَةِ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেন, ‘‘দ্বীন খুব সহজ, কেউ দ্বীনের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করলে সে অবশ্যই পরাজিত হবে। সর্বদা মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর ও তার নিকটে থাক এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। আর সকাল-সন্ধ্যা ও শেষ রাতের আমল দ্বারা স্বীয় কাজে সাহায্য চাও।’’
(বুখারী হা: ৩৯)
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَدَخَلَ عَلَيْهَا وَعِنْدَهَا امْرَأَةٌ فَقَالَ : مَنْ هٰذِهٖ؟ قَالَتْ : فُلَانَةُ . تَذْكُرُ مِنْ صَلَاتِهَا . قَالَ مَهْ، عَلَيْكُمْ بِمَا تُطِيْقُوْنَ، فَوَاللهِ لَا يَمَلُّ اللهُ حَتّٰى تَمَلُّوْا . وَكَانَ أَحَبُّ الدِّيْنِ إِلَيْهِ مَا دَاوَمَ عَلَيْهِ صَاحِبُهٗ .
আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর হুজরায় আসলে এক মহিলাকে দেখতে পেলেন। তিনি বললেন এ মহিলা কে? আয়েশা (রাঃ) বললেন, ইনি অমুক মহিলা (যার নাম ‘খাওলা’)। আয়েশা (রাঃ) তার নামাযের কথাও উল্লেখ করলেন। তখন নবী ﷺ বললেন, থাম! তোমরা ঐ আমলই করতে থাক যা তোমাদের সামর্থ্যের মধ্যে হয়। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ কখনো ক্লান্ত হন না (পারিশ্রমিক দিতে) যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা ক্লান্ত না হয়ে যাও। আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় আমল তাই যা কোন ব্যক্তি সর্বদা করে থাকে। (বুখারী হা: ৪৩)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ : إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ يُصَلِّيْ فَلْيَرْقُدْ حَتّٰى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ لَا يَدْرِيْ لَعَلَّهٗ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبَّ نَفْسَهٗ
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছে
ন, ‘‘তোমাদের কেউ যদি নামাযে ঝিমাতে থাকে, তখন সে যেন শুয়ে পড়ে, যাতে তার নিদ্রার ভাব কেটে যায়। কারণ নামায অবস্থায় কেউ যদি ঝিমাতে থাকে তখন সে হয়ত ক্ষমাপার্থনা করার ইচ্ছা করবে অথচ নিজের জন্য বদদো‘আ করে ফেলবে।’’
(বুখারী হা: ২১২)
নবী ﷺ সালমান ও আবু দারদা (রাঃ) এর মাধে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে দিলেন। এক সময় সালমান (রাঃ) আবু দারদার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গেলেন এবং আবু দারদার মাকে খুব ময়লা কাপড় পরিহিতা দেখতে পেলেন। তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন, আপনার কি হয়েছে? তিনি বললেন, আপনার ভাই আবু দারদার দুনিয়ার সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। ইতোমধ্যে আবু দারদা (রাঃ) এসে হাজির হলেন। সালমানের জন্য তিনি খাবার তৈরি করে তাঁকে বললেন, আমি তো রোযা রেখেছি, আপনি খেয়ে নিন। সালমান (রাঃ) বললেন, আপনি না খেলে আমি খাব না। সুতরাং তিনি তাঁর সঙ্গে খেলেন। রাত হলে আবু দারদা নামাযে দাঁড়ালে সালমান তাকে বললেন, শুয়ে পড়ুন। তিনি তখন শুয়ে পড়লেন। পরে আবার নামাযে দাঁড়ালে এবারও সালমান বললেন, শুয়ে পড়ুন। পরে শেষ রাতের দিকে সালমান তাঁকে বললেন, এখন উঠে পড়ুন। অতপর দু’জনেই নামায পড়লেন। তারপর সালমান তাঁকে বললেন, আপনার উপর আপনার প্রতিপালকের হক আছে, আপনার নিজের আত্মার হক আছে এবং আপনার পরিবার-পরিজনেরও হক আছে। তাই প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য দান করুন। এরপর আবু দারদা নবী ﷺ-এর নিকট এসে এসব কথা বললে নবী ﷺ বললেন সালমান ঠিকই বলেছে। (বুখারী হা: ১৯৬৮)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ الله عَنْهُ يَقُولُ : جَاءَ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ إِلٰى بُيُوْتِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَسْأَلُوْنَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَلَمَّا أُخْبِرُوْا كَأَنَّهُمْ تَقَالُّوْهَا فَقَالُوْا : وَأَيْنَ نَحْنُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ ؟ قَدْ غُفِرَ لَهٗ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهٖ وَمَا تَأَخَّرَ . قَالَ أَحَدُهُمْ : أَمَّا أَنَا فَإِنِّيْ أُصَلِّي اللَّيْلَ أَبَدًا . وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَصُوْمُ الدَّهْرَ وَلَا أُفْطِرُ . وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلَا أَتَزَوَّجُ أَبَدًا . فَجَاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَقَالَ : " أَنْتُمُ الَّذِيْنَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا؟ أَمَا وَاللهِ إِنِّي لَاَخْشَاكُمْ للهِ وَأَتْقَاكُمْ لَهٗ، لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ، وَأُصَلِّيْ وَأَرْقُدُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِيْ فَلَيْسَ مِنِّيْ " .
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন, কোন একসময় তিনটি দল রাসূলুল্লাহ ﷺ এর স্ত্রীগণের কাছে তাঁর ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য আসেন। নবী ﷺ এর ইবাদাত সম্পর্কে খবর দেয়া হলে তারা যেন তার পরিমাণ খুব কম মনে করলেন এবং বললেন, আমরা নবী ﷺ- এর সমকক্ষ হই কী করে? যাঁর আগের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।
অতঃপর তাদের একজন বললেন, আমি আজীবন রাতভর নামায পড়ব।
দ্বিতীয় জন বললেন, আমি সারাবছর রোযা রাখব, কখনো বিরতি দেব না। তৃতীয় জন বললেন, আমি সর্বদা নারী বিবর্জিত থাকব, কখনো বিয়ে করব না।
এসময় রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা কি সেসব ব্যক্তি যারা এমন এমন কথা বলেছ? সাবধান, শুনে রাখো! আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহর প্রতি তোমাদের চেয়ে বেশি অনুগত এবং তাঁকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি। তা সত্ত্বেও আমি রোযা রাখি আবার বিরতিও দেই। রাত্রে নামায পড়ি আবার নিদ্রাও যাই এবং মহিলাদেরকে বিয়েও করি। সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি অনীহা প্রকাশ করবে, তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারী হা: ৫০৬৩)