১
শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮
সহশিক্ষা
দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যে সহশিক্ষার ব্যবস্থা চালু রয়েছে, এর মতো মারাত্মক জিনিস বোধহয় আর কিছু নেই। মুসলমানরা নৈতিক চেতনাসম্পন্ন একটি জনগোষ্ঠী। তাদের সমাজে সহশিক্ষার প্রচলন যে কেমন করে সম্ভব হচ্ছে, তা কিছুতেই বোধগম্য নয়। সহশিক্ষা মানে, ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই একই বিষয় একই কক্ষে পাশাপাশি বসিয়ে শেখানো হচ্ছে। এ পর্যায়ে প্রথম কথা হলঃ ছেলে মেয়ে জন্মগতভাবেই স্বতন্ত্র দৈহিক ও মানসিক যোগ্যতা এবং ভাবধারার ধারক হয়ে থাকে। জীবনের পরিণত স্তরে স্বাভাবিক দায়িত্ব বোধের তাগিদেই তারা স্বতন্ত্র কর্মক্ষেত্র গ্রহণে বাধ্য হয়। এ ব্যাপারে কোন মিলই থাকে না ছেলে ও মেয়ের জীবনে। কিন্তু তা সত্ত্বেও উভয়কে ঠিক একই বিষয় একই ধারায় শিক্ষা দেয়ার পরিণাম যে কত ভয়াবহ, তা ভাষায় প্রকাশ করা চলেনা। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, গার্হস্থ বিদ্যা- এ ধরনের সব বিষয়েই যে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্যেই শিক্ষনীয় জিনিস রয়েছে, তা অনস্বীকার্য। কিন্তু সে শিক্ষায় ছেলে ও মেয়ের স্বাভাবিক মনস্তত্ত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি একরূপ হয়না কখনো। কাজেই একই কক্ষে বসিয়ে, একই ভঙ্গিতে একই বই পড়ানো ও একই দৃষ্টিকোণ দিয়ে একই বিষয় ছেলে ও মেয়েকে শিক্ষা দেয়ার মানে হল ছেলে ও মেয়েকে মনন ও দৃষ্টিভঙ্গির দিক দিয়ে এক ও অভিন্ন করে তোলা। আর এটা যে স্বভাব ও প্রকৃতির শুধু বিপরীতই নয়, মানবতার পক্ষে মারাত্মকও, তাতে কোনই সন্দেহ থাকতে পারেনা। [তাজ্জবের ব্যাপার যে, ইদানীং কিছু কিছু মাদ্রাসায়ও সহশিক্ষা চালু করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড যে কর্তৃপক্ষীয় ইঙ্গিতেই করা হচ্ছে, তা বুঝতে কারো বেগ পেতে হয় না। কিন্তু পরিণাম কত ভয়াবহ, সময় থাকতেই তা সংশ্লিষ্ট সকলের ভেবে দেখা উচিত।– সম্পাদক] এর ফলে যে ছেলেরা মেয়েলী স্বভাব-প্রকৃতির ধারক হবে- পৌরুষ হারিয়ে ফেলবে আর মেয়েরা পুরুষোচিত মন-মেজাজ লাভ করবে, হারিয়ে ফেলবে নারীসুলভ কমনীয়তা- তা বর্তমানের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেও অনায়াসে বোঝা যায়। বলা বাহুল্য যে, শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বর্তমান উচ্ছৃংখলতার মূলে প্রধানত এ কারণই নিহিত।
দ্বিতীয়ত ছেলে ও মেয়েকে একই কক্ষে বসিয়ে শেখানোর পরিণাম হল, হয় ছেলে ও মেয়েদের স্বাভাবিক যৌনবোধকে চিরতরে নির্মূল করে দেয়া এবং মানব সমাজে ক্লীব লিঙ্গের প্রাদুর্ভাব ঘটানো, না হয় যৌনবোধের উস্কানি সৃষ্টির মাধ্যমে যৌনচর্চা ও যৌন পরিতৃপ্তির এক অশ্লীল প্রবাহ সৃষ্টি-যার ফলে নৈতিকতার সব বাঁধনই ধুয়ে মুছে শেষ হয়ে যাবে। আর মানবাকৃতির এ জীবগুলো এক নতুন পশু শ্রেণীর রূপ ধরে সমাজে পাশবিকতার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত করবে। মনে রাখতে হবে, এ সহশিক্ষা নীতি মুসলিম জাতি কোনদিনই গ্রহণ করেনি, তারা তা চালুও করেনি। আমাদের নীতিহীন ও চরিত্রহীন ইংরেজ প্রভুরাই এ গোলাম জাতির চরিত্র ধ্বংস করার কুমতলবে এবং আমাদের ভবিষ্যত বংশধরকে সম্পূর্ণ চরিত্রহীন রূপে গড়ে তোলার চক্রান্ত হিসেবে এ দেশে এ সহশিক্ষার প্রচলন করেছিল। আর সে বিদেশী প্রভুদের অন্ধ গোলামরা মুসলিম জাতির মাথার ওপর এ অভিশাপ চাপিয়ে রেখেছে নিজেদেরই চরিত্রহীনতার কারণে; নিজেদের বিকৃত যৌন পরিতৃপ্তির অবাধ সুযোগের দ্বার চির-উন্মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে। বস্তুত এ সহশিক্ষা নীতিতে সত্যিকার জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হচ্ছেনা কিছুই, বরং সমাজের যুবক-যুবতীদের পশুত্বের নিম্নতম পংকে ডুবে যাবার উৎসাহই দেয়া হচ্ছে সর্বতোভাবে। মোমবাতির অগ্রভাগের সূতায় দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে অগ্নিসংযোগ করলে মোমবাতি গলে গলে, ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিংশেষ হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। যে পজিটিভ ও নেগেটিভ দুটি তার এক নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দুতে মিলিত হয়ে সুইজের সাহায্যে আলোর বন্যা সৃষ্টি করে, সেই তার দুটিই মাঝ পথে আবরণমুক্ত হয়ে পরস্পর মিলিত হলে সর্বধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করে দেয়। সহশিক্ষা তেমনি আমাদের সমাজে ও পরিবারে গুরুতর ভাঙন ও বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। আমাদের কর্তাব্যক্তিরা হয়ত তা-ই চান। অন্যথায় ইংরেজের চাপিয়ে দেয়া পাশ্চাত্য নোংরামীর এ অভিশাপকে এখনো এ স্বাধীন মুসলিম জাতির মাথার ওপর চাপিয়ে রাখার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণই থাকতে পারে কি?
দ্বিতীয়ত ছেলে ও মেয়েকে একই কক্ষে বসিয়ে শেখানোর পরিণাম হল, হয় ছেলে ও মেয়েদের স্বাভাবিক যৌনবোধকে চিরতরে নির্মূল করে দেয়া এবং মানব সমাজে ক্লীব লিঙ্গের প্রাদুর্ভাব ঘটানো, না হয় যৌনবোধের উস্কানি সৃষ্টির মাধ্যমে যৌনচর্চা ও যৌন পরিতৃপ্তির এক অশ্লীল প্রবাহ সৃষ্টি-যার ফলে নৈতিকতার সব বাঁধনই ধুয়ে মুছে শেষ হয়ে যাবে। আর মানবাকৃতির এ জীবগুলো এক নতুন পশু শ্রেণীর রূপ ধরে সমাজে পাশবিকতার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত করবে। মনে রাখতে হবে, এ সহশিক্ষা নীতি মুসলিম জাতি কোনদিনই গ্রহণ করেনি, তারা তা চালুও করেনি। আমাদের নীতিহীন ও চরিত্রহীন ইংরেজ প্রভুরাই এ গোলাম জাতির চরিত্র ধ্বংস করার কুমতলবে এবং আমাদের ভবিষ্যত বংশধরকে সম্পূর্ণ চরিত্রহীন রূপে গড়ে তোলার চক্রান্ত হিসেবে এ দেশে এ সহশিক্ষার প্রচলন করেছিল। আর সে বিদেশী প্রভুদের অন্ধ গোলামরা মুসলিম জাতির মাথার ওপর এ অভিশাপ চাপিয়ে রেখেছে নিজেদেরই চরিত্রহীনতার কারণে; নিজেদের বিকৃত যৌন পরিতৃপ্তির অবাধ সুযোগের দ্বার চির-উন্মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে। বস্তুত এ সহশিক্ষা নীতিতে সত্যিকার জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হচ্ছেনা কিছুই, বরং সমাজের যুবক-যুবতীদের পশুত্বের নিম্নতম পংকে ডুবে যাবার উৎসাহই দেয়া হচ্ছে সর্বতোভাবে। মোমবাতির অগ্রভাগের সূতায় দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে অগ্নিসংযোগ করলে মোমবাতি গলে গলে, ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিংশেষ হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। যে পজিটিভ ও নেগেটিভ দুটি তার এক নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দুতে মিলিত হয়ে সুইজের সাহায্যে আলোর বন্যা সৃষ্টি করে, সেই তার দুটিই মাঝ পথে আবরণমুক্ত হয়ে পরস্পর মিলিত হলে সর্বধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করে দেয়। সহশিক্ষা তেমনি আমাদের সমাজে ও পরিবারে গুরুতর ভাঙন ও বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। আমাদের কর্তাব্যক্তিরা হয়ত তা-ই চান। অন্যথায় ইংরেজের চাপিয়ে দেয়া পাশ্চাত্য নোংরামীর এ অভিশাপকে এখনো এ স্বাধীন মুসলিম জাতির মাথার ওপর চাপিয়ে রাখার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণই থাকতে পারে কি?