১
শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি
লেখকঃ মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৮
জীবন–উদ্দেশ্য ও মানবীয় মহত্ত্ব
এতৎসত্ত্বেও মানুষ যদি ইতর জীব-জন্তুর ন্যায় নিছক প্রকৃতিগত দাবি-দাওয়া ও সহজাত লালসা-বাসনার দাসত্ব করতে শুরু করে এবং বিশ্বলোকের যেসব শক্তি ও সম্পদকে মানুষের সেবা করার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছিল, সে সবের দাসত্বে নিজের উন্নত যোগ্যতা ও গুণাবলী ব্যয় করতে শুরু করে তাহলে মানুষ অনিবার্যভাবে তার সুমহান মর্যাদা থেকে বিচ্যুত ও বঞ্চিত হবে। সেটা হবে তার পক্ষে চরম অধঃগতি। সেক্ষেত্রে মানুষ ‘সেরাসৃষ্টি’ হওয়ার মর্যাদা হারিয়ে ফেলবে এবং খিলাফতের দায়িত্ব পালনের কোন যোগ্যতাই তার থাকবে না। অতঃপর সে দুনিয়ার বস্তুগত উপায়-উপকরণের- জীব-জন্তু, পশু-পক্ষী, প্রস্তর ও উদ্ভিদকুলের যতই উৎকর্ষ সাধন করুক না কেন, সে যতক্ষণ তার হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার না করবে এবং স্বীয় আত্মিক, মানসিক ও মানবিক যোগ্যতা-প্রতিভাবে বিকশিত করে না তুলবে, সে তার সুমহান মানবীয় মর্যাদা কখনো ফিরে পাবে না। কেননা, সৃষ্টিকর্তা সমস্ত সৃষ্টিলোককে মানুষের খেদমতের জন্যে এবং মানুষকে আল্লাহর দাসত্ব-আনুগত্য তথা খিলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। এ কারণে দুনিয়ায় নিছক বস্তুগত উন্নতি বিধান কখনও মানুষের জীবন-লক্ষ্য হতে পারে না; বরং সমস্ত বস্তুগত উন্নতি-উৎকর্ষকে আল্লাহর সন্তোষলাভ ও পরকালীন মুক্তি ও সাফল্য অর্জনে নিয়োজিত করার মধ্যেই মানব জীবনের চরম সার্থকতা নিহিত, অন্য কিছুতে নয়। হাদীসে বলা হয়েছেঃ ‘তোমাদের একটা চরম পরিণতি রয়েছে। সেই পরিণতির জন্যে তোমরা পূর্ণ শক্তিতে প্রস্তুতি গ্রহণ কর।’
(আল কুরআনের ঘোষণা হল) ‘আল্লাহতেই হবে তোমার চরম পরিণতি লাভ।’ জীবন-দর্শনের এ মৌলিক ভাবধারার ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে ইসলামের শিক্ষা-দর্শন। যে শিক্ষায় এ ভাবধারা উপেক্ষিত, তা মানবোপযোগী শিক্ষা হতে পারে না ইসলামের দৃষ্টিতে।
(আল কুরআনের ঘোষণা হল) ‘আল্লাহতেই হবে তোমার চরম পরিণতি লাভ।’ জীবন-দর্শনের এ মৌলিক ভাবধারার ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে ইসলামের শিক্ষা-দর্শন। যে শিক্ষায় এ ভাবধারা উপেক্ষিত, তা মানবোপযোগী শিক্ষা হতে পারে না ইসলামের দৃষ্টিতে।